Advertisement
  • হোম
  • বিনোদন
  • স্কুলে অপমান, প্রেমিকের হাতে নির্যাতন, পরিচালকের ক...

স্কুলে অপমান, প্রেমিকের হাতে নির্যাতন, পরিচালকের কুপ্রস্তাব, ভয়ংকর অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুললেন নীতি টেলর

গণকন্ঠ

প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর, ২০২৬

অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে_সংগৃহীত ছবি।,_সংগৃহীত ছবি।
অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে_সংগৃহীত ছবি।,_সংগৃহীত ছবি।

বিনোদনজগতের ঝলমলে পর্দার আড়ালে লুকিয়ে থাকে অনেক তিক্ত অভিজ্ঞতা, যন্ত্রণার স্মৃতি আর আত্মসম্মান রক্ষার কঠিন লড়াই। জনপ্রিয় ভারতীয় টেলিভিশন অভিনেত্রী নীতি টেলরের জীবনেও রয়েছে এমনই কিছু অধ্যায়। স্কুলজীবনে সহপাঠীদের বুলিংয়ের শিকার হওয়া থেকে শুরু করে প্রেমের সম্পর্কে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, এমনকি অভিনয়ের সুযোগ দেওয়ার কথা বলে যৌন সুবিধা চাওয়ার মতো অভিজ্ঞতার কথাও প্রকাশ্যে এনেছেন তিনি। সম্প্রতি নিজের অতীতের এসব ঘটনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অভিনেত্রী জানিয়েছেন, কীভাবে একের পর এক তিক্ত অভিজ্ঞতা তাঁর আত্মবিশ্বাস ও মানসিক অবস্থার ওপর প্রভাব ফেলেছিল।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া ও মানিকন্ট্রোলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যক্তিগত জীবনের এসব অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে নীতি জানিয়েছেন, জীবনের একটা পর্যায়ে তাঁকে এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, যখন নিজের আত্মসম্মান ও মানসিক শান্তি রক্ষা করাই হয়ে উঠেছিল বড় চ্যালেঞ্জ।

স্কুলজীবনেও বুলিংয়ের শিকার

নীতি টেলরের জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতার শুরু কৈশোরেই। স্কুলে পড়ার সময় সহপাঠীদের কাছ থেকে বুলিং ও হয়রানির শিকার হয়েছিলেন তিনি।

অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে_সংগৃহীত ছবি।

অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে_সংগৃহীত ছবি।

তাঁর সম্পর্কে নানা ধরনের গুজব ছড়ানো এবং ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে অপমান করার মতো ঘটনা তাঁকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেছিল।

অভিনেত্রীর অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, সেই সময় তাঁকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল, যা একজন কিশোরীর আত্মবিশ্বাসে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। ব্যক্তিগত ফোন নম্বর প্রকাশ্যে ছড়িয়ে পড়ার পরও তাঁকে হয়রানির শিকার হতে হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

স্কুলজীবনের এসব ঘটনা তাঁর জন্য সহজ ছিল না। অল্প বয়সে এমন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাওয়ায় মানুষের আচরণ ও সম্পর্কের বিষয়ে তাঁর মনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। পরবর্তী জীবনে বিভিন্ন পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষেত্রেও অতীতের অভিজ্ঞতাগুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

চার বছরের সম্পর্কে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ

প্রেমের সম্পর্কেও ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন নীতি। অভিনেত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, ‘ক্যায়সি ইয়ে ইয়ারিয়াঁ’ ধারাবাহিকের প্রথম মৌসুমে কাজ করার সময় তিনি একটি সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন। প্রায় চার বছর স্থায়ী হওয়া সেই সম্পর্ক তাঁর জীবনের অন্যতম বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে ওঠে।

নীতি জানিয়েছেন, সাবেক প্রেমিক তাঁর পোশাক, বন্ধুদের সঙ্গে মেলামেশা এবং কোথায় যাচ্ছেন, সেসব বিষয় নিয়ে নিয়মিত প্রশ্ন তুলতেন। তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হতো। এমনকি অন্যদের সঙ্গে তাঁর স্বাভাবিক যোগাযোগ নিয়েও আপত্তি জানানো হতো।

শুধু নিয়ন্ত্রণ আর সন্দেহ নয়, সম্পর্কটিতে তাঁকে অপমানজনক কথাও শুনতে হতো বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী। তাঁর উচ্চতা, শারীরিক গঠন ও চেহারা নিয়ে কটাক্ষ করা হতো। এসব আচরণ ধীরে ধীরে তাঁর আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দিয়েছিল।

নীতি উপলব্ধি করেন, ভালোবাসার সম্পর্কের মধ্যে থেকেও একজন মানুষ কীভাবে নিজের মূল্যবোধ ও আত্মসম্মান হারাতে শুরু করতে পারেন। তখন বয়স কম থাকায় এবং সম্পর্কটির প্রতি আবেগ কাজ করায় তিনি অনেক কিছু মেনে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।

প্রেমিকের চড়, শরীরে সিগারেটের ছ্যাঁকা

সম্পর্কটির সবচেয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে নীতি জানিয়েছেন, সাবেক প্রেমিকের হাতে তাঁকে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল। তাঁর দাবি, একবার প্রেমিকের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গিয়ে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় তিনি সেখান থেকে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

নীতি ও তাঁর বান্ধবীরা অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। তাঁর বন্ধুরা গাড়িতে অপেক্ষা করছিলেন। তবে চলে যাওয়ার আগে প্রেমিককে বিদায় জানাতে গেলে পরিস্থিতি খারাপ হয়ে যায় বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রেমিক তাঁকে বন্ধুদের সঙ্গে চলে যেতে বাধা দেন। একপর্যায়ে তাঁকে ধাক্কা দেওয়া হয় এবং চড় মারা হয়। পরিস্থিতি সামাল

অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে_সংগৃহীত ছবি।

অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে_সংগৃহীত ছবি।

দিতে তাঁর বন্ধুরাও এগিয়ে আসেন। নীতির দাবি, ওই ঘটনার কিছু অংশ ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছিল।

কিন্তু সেখানেই শেষ হয়নি নির্যাতনের ঘটনা। নীতি জানিয়েছেন, পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রেমিক তাঁর বাসার কাছে গিয়ে চিৎকার করে তাঁকে প্রশ্ন করতে থাকেন। একপর্যায়ে জ্বলন্ত সিগারেট দিয়ে তাঁর শরীরে ছ্যাঁকা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন অভিনেত্রী।

সেই আঘাতের চিহ্ন এখনো তাঁর শরীরে রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে নীতি বুঝিয়েছেন, শারীরিক আঘাতের ক্ষত শুকিয়ে গেলেও এমন ঘটনার মানসিক প্রভাব দীর্ঘদিন থেকে যেতে পারে।

এখানে উল্লেখ্য, এসব ঘটনা নীতি টেলরের নিজের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর সাবেক প্রেমিকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে, এমন কোনো তথ্য সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ নেই।

অভিনয়ের সুযোগের আড়ালে যৌন সুবিধা চাওয়ার অভিযোগ

শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্ক নয়, অভিনয়জগতেও অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার কথা জানিয়েছেন নীতি। চলচ্চিত্রে কাজ করার সময় কাস্টিং কাউচের অভিজ্ঞতার কথাও প্রকাশ্যে এনেছেন তিনি।

মানিকন্ট্রোলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক পরিচালকের সঙ্গে কাজ করার পর নতুন একটি ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব

অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে_সংগৃহীত ছবি।

অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে_সংগৃহীত ছবি।

পেয়েছিলেন নীতি। কিন্তু সেই প্রস্তাবের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন অভিনেত্রী।

নীতি জানিয়েছেন, বিষয়টি তাঁকে হতবাক করে দেয়। অভিনয়ের সুযোগ পাওয়ার জন্য এমন প্রস্তাবে সম্মতি দেওয়ার প্রশ্নই ওঠেনি তাঁর কাছে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি ওই ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং তাঁকে ব্লক করেন।

এই অভিজ্ঞতার পর চলচ্চিত্রজগতে কাজ করার বিষয়ে তাঁর আগ্রহ ও নিরাপত্তাবোধে প্রভাব পড়ে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

কাস্টিং কাউচ নিয়ে নীতির এই বক্তব্য আবারও বিনোদনজগতের কর্মপরিবেশ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং নতুন শিল্পীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনেছে। তবে পরিচালকের পরিচয় প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে এ বিষয়ে কোনো ব্যক্তির নাম অনুমান করে প্রকাশ করার সুযোগ নেই।

অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে আত্মসম্মানের শিক্ষা

নিজের অতীতের দিকে ফিরে তাকিয়ে নীতি বুঝতে পেরেছেন, সম্পর্কের মধ্যে ভালোবাসা থাকলেও অসম্মান, নিয়ন্ত্রণ ও নির্যাতনকে স্বাভাবিক বলে

_সংগৃহীত ছবি।

_সংগৃহীত ছবি।

মেনে নেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে বয়স কম থাকলে কিংবা আবেগের কারণে অনেকেই সম্পর্কের সমস্যাগুলো সহজে বুঝতে পারেন না।

অভিনেত্রীর অভিজ্ঞতায় শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি মানসিক অপমানও ছিল গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বারবার চেহারা ও শারীরিক গঠন নিয়ে কটাক্ষ করা কিংবা প্রতিটি সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে বাধ্য করার মতো আচরণ একজন মানুষের আত্মবিশ্বাসকে দুর্বল করে দিতে পারে।

নীতি টেলরের এই অভিজ্ঞতাগুলো ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন অধ্যায় হলেও সেগুলো প্রকাশ্যে আনার মাধ্যমে তিনি সম্পর্কের মধ্যে নির্যাতন এবং কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির মতো বিষয় নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছেন।

টেলিভিশনের পরিচিত মুখ নীতি টেলর

নীতি টেলর ভারতীয় টেলিভিশন দর্শকদের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত ‘ক্যায়সি ইয়ে ইয়ারিয়াঁ’ ধারাবাহিকে নন্দিনী মূর্তি চরিত্রে অভিনয়ের জন্য। এ ছাড়া ‘গুলাম’, ‘ইশকবাজ’ ও ‘বড়ে অচ্ছে লাগতে হ্যায় ২’-এর মতো ধারাবাহিকেও অভিনয় করেছেন তিনি। রিয়েলিটি শো ‘ঝলক দিখলা জা ১০’-এ অংশ নিয়েও আলোচনায় এসেছিলেন এই অভিনেত্রী।

পর্দায় তাঁর অভিনীত চরিত্রগুলোর সঙ্গে দর্শকের পরিচিতি থাকলেও ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতাগুলো এত দিন অনেকের কাছেই অজানা ছিল। সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে সেসব অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নীতি জানিয়েছেন, জীবনের কঠিন সময়গুলো একজন মানুষকে গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

তাঁর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে উঠে এসেছে স্কুলজীবনের বুলিং, সম্পর্কে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং অভিনয়ের সুযোগের নামে যৌন সুবিধা চাওয়ার মতো একাধিক গুরুতর বিষয়। এসব অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে এনে নিজের জীবনের অস্বস্তিকর অধ্যায়গুলো নিয়ে কথা বলেছেন অভিনেত্রী।

Sources: The Times of India, Moneycontrol, India Today.

আরও পড়ুন

Lading . . .