Advertisement

স্বৈরাচারমুক্ত দেশে সবার নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার ‍সুযোগ এসেছে

প্রথম আলো

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট, ২০২৫

জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের প্রথম জাতীয় সমাবেশে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ শনিবার ময়মনসিংহ নগরের টাউন হলের তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামেছবি: প্রথম আলো
জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের প্রথম জাতীয় সমাবেশে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ শনিবার ময়মনসিংহ নগরের টাউন হলের তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামেছবি: প্রথম আলো

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘স্বৈরাচারী বা ফ্যাসিবাদী আমলে হামলা, নির্যাতন উপেক্ষা করেও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে নিজেদের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। পতিত, পরাজিত পলাতক স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতিটি মানুষের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি ‍সুযোগ সামনে এসেছে।’

আজ শনিবার জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের প্রথম জাতীয় সমাবেশে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথাগুলো বলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। ময়মনসিংহ নগরের টাউন হলের তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সকাল থেকে সমাবেশে আসতে শুরু করেন সমতলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সদস্যরা। দেশের ১২টি জেলা থেকে গারো, হাজং, মণিপুরি, বানাই, বর্মণ, খাসিয়া, কোচ, হদি, ত্রিপুরাসহ ১৮টি জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন এ সমাবেশে।

সমাবেশে তারেক রহমান বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচনের টার্গেট নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইতিমধ্যে জাতীয় নির্বাচনের রূপরেখা ঘোষণা করেছে। বিএনপি ঘোষিত সব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য, দেশে কর্মসংস্থান এবং কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করে দলমত ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, গোষ্ঠী–নির্বশেষে সবার জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি আপনাদের সক্রিয় সমর্থন এবং সহযোগিতা চায়। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর এই প্রতিনিধি সমাবেশ পাহাড়ি এবং সমতল ভূমিতে বসবাসকারী প্রতিটি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধির দিকনির্দেশক হয়ে উঠুক।

বেলা ৩টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে ঐতিহ্যগত বরণ নৃত্যের মাধ্যমে তাঁকে বরণ করা হয়। সভায় দেশের সমতলে বসবাসরত বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বিদ্যমান সমস্যা, সম্ভাবনা ও করণীয় সম্পর্কে তুলে ধরেন বক্তারা। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা তাঁদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় ও ভূমি কমিশন গঠন, সংসদের উচ্চকক্ষে প্রতিনিধি রাখা, সংরক্ষিত আসনে প্রতিনিধি দেওয়ার দাবি জানান।

তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘দেশে বর্তমানে বিদ্যমান কোটাপদ্ধতিতে পাহাড়ি অঞ্চলের চেয়ে সমতলে বসবাসরত ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সদস্যদের নিয়োগ প্রক্রিয়া তুলনামূলক জটিল। সমতলে বসবাসকারীদের জন্য প্রত্যয়ণপত্র জোগাড়ের প্রক্রিয়া কিছুটা কষ্টসাধ্য এবং সময়সাপেক্ষ। বাংলাদেশের জনগণের রায়ে বিএনপি আগামী দিনে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য সরকারি চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া কীভাবে আরও সহজ করা যায়, সে বিষয়ে আমাদের চিন্তা–ভাবনা রয়েছে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘সমতলে বসবাসকারী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে শহীদ জিয়াউর রহমানের একটি নিবিড় সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। তারই স্মৃতিবিজড়িত একটি স্থান ময়মনসিংহ। আজকের এই সমাবেশটি একটি ভিন্ন রকম সমাবেশ। আজকের এই সমাবেশের মনস্তাত্ত্বিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে। আমরা জানি প্রেম প্রকৃতির নিবিড় সংস্পর্শে বেড়ে উঠা ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষেরা শেকড়ের সঙ্গে বন্ধন ছিন্ন করতে চায় না। সম্ভবত এটি শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী মানুষের মধ্যে একই প্রবণতা বিদ্যমান।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘বর্তমানে বিশ্বের দেশে দেশে তথ্যপ্রযুক্তির যে অবাধ প্রবাহ, তার কারণে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর লোকালয়েও এর একটি প্রভাব হানা দিয়েছে। সারা দেশে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব বিশ্বাস, সংস্কৃতি এবং সাতন্ত্রবোধ রক্ষার প্রতি সম্মান রেখে আহ্বান জানাই এই সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আপনাদের নিজস্ব যে ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতি আছে, সেটি সংরক্ষণের স্বার্থে হলেও যেকোনো মূল্যে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও কর্মদক্ষতা অর্জনের সুযোগগুলো গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। নিজেদের গণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক অধিকার চর্চা প্রয়োগের ক্ষেত্রেও সমানভাবে সক্রিয় থাকা জরুরি। শিক্ষাদীক্ষাসহ আপনারা যাতে রাষ্ট্রের দেওয়া সব নাগরিক সুবিধা ভোগ করতে পারেন, সেই লক্ষ্য নিয়েই ২০০৭ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ আগ্রহে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীকে সামাজিক এবং রাজনৈতিকভাবে সংগবদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।’

তারেক রহমান বলেন, ‘পাহাড় কিংবা সমতল, যার বসবাস যেখানেই হোক না কেন, যারা এই বাংলাদেশ নামক ভূখণ্ডের বৈধ নাগরিক আমাদের প্রত্যেকের প্রথম এবং প্রধান পরিচয় আমরা বাংলাদেশি। সুতরাং সমতল কিংবা পাহাড়ি, রাজধানী কিংবা শহর, নগর-বন্দর অথবা অজপাড়াগাঁয়ের গহিন গ্রাম, বসতি যার যেখানেই হোক, বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে সবার সমান অধিকার।’

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের সভাপতি মৃগেন হাগিদকের সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক জন জেত্রার সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আরও বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বিজন কান্তি সরকার, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ (প্রিন্স), ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের সাধারণ সম্পাদক শিশির ‍দিও, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জিব দ্রং, বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রমোদ চন্দ্র বর্মণ, গারো প্রতিনিধি ইউজিন নকরেক, হাজং প্রতিনিধি বিপুল হাজং, খাসিয়া প্রতিনিধি হিরামন হেলেনা তালাং প্রমুখ।

Lading . . .