সালামান খান ও রিচা চাড্ডা। কোলাজ

‘সবাই নারীর গর্ভ থেকেই এসেছে’, সালমানের বডি শেমিংবিরোধী বক্তব্যের প্রশংসায় রিচা

বয়স, ওজন, চেহারা কিংবা সন্তান জন্ম দেওয়ার পর শরীরে পরিবর্তন—তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্যের যেন শেষ নেই। বিশেষ করে নারী তারকাদের ক্ষেত্রে শরীর নিয়ে কটাক্ষ আরও বেশি দেখা যায়। এবার এমন ট্রলিং ও বডি শেমিংয়ের বিরুদ্ধে কথা বলায় সালমান খানের প্রশংসা করেছেন অভিনেত্রী রিচা চাড্ডা।

‘বিগ বস ২০’-এর সাম্প্রতিক ‘উইকেন্ড কা ভার’ পর্বে সালমান খান কাউকে নির্দিষ্ট করে নাম না নিয়েই অনলাইন ট্রলিংয়ের প্রবণতা নিয়ে কথা বলেন। তাঁর মন্তব্যে উঠে আসে মানুষের ওজন, চেহারা, পরিবার, হাসি, ক্যারিয়ারে ব্যর্থতা এমনকি মা হওয়ার মতো বিষয় নিয়েও কটাক্ষ করার প্রবণতা।

সালমান বলেন, ‘কেন ট্রল করতে চান? কারও ওজন নিয়ে, চেহারা নিয়ে, পরিবার নিয়ে, কারও হাসি নিয়ে, কারও ছবি ফ্লপ হওয়া নিয়ে, কারও মা হওয়া নিয়ে—এসব করে আপনারা আসলে নিজেদের পারিবারিক শিক্ষাই প্রকাশ করছেন।’
সালমানের এই মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। এর মধ্যেই অভিনেত্রী রিচা চাড্ডা তাঁর বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন।

সালমানের কথায় রিচা
‘নিউজ১৮’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রিচা জানান, সালমানের এই বক্তব্যের কথা তিনি আগে জানতেন না। পরে বিষয়টি জানতে পেরে তিনি অভিনেতার প্রশংসা করেন।
রিচা বলেন, ‘আমি জানতাম না, তিনি এ বিষয়ে কথা বলেছেন। তবে এটা দারুণ ব্যাপার। এমন কথা বলা সত্যিই বড় মনের পরিচয়।’

এরপরই অনলাইনে নারীদের শরীর নিয়ে পুরুষদের মন্তব্যের প্রবণতা নিয়ে কথা বলেন রিচা। তাঁর মতে, সন্তান জন্ম দেওয়ার অভিজ্ঞতার গভীরতা পুরুষদের পক্ষে পুরোপুরি উপলব্ধি করা সম্ভব নয়।

রিচার কথায়, ‘পুরুষদের চিন্তার পরিসর অনেক ক্ষেত্রেই সীমিত। তারা কখনো সন্তান জন্ম দেওয়ার সেই গভীর অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায়নি।’
নারীদের শরীর নিয়ে কটাক্ষ করা মানুষদের উদ্দেশে আরও সরাসরি মন্তব্য করেন তিনি। রিচার ভাষায়, ‘প্রত্যেকেই কোনো না কোনো নারীর গর্ভ থেকে এসেছে। তাই মায়েদের নিয়ে মজা করলে সেটাই শেষ পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে ফিরে আসে।’

‘নিজের শরীর নিয়েই অসন্তুষ্ট’
নারীর শরীর নিয়ে কটাক্ষ করা পুরুষদের মানসিকতারও সমালোচনা করেন রিচা। তিনি মনে করেন, অন্যের শরীর নিয়ে যাঁরা মন্তব্য করেন, তাঁদের অনেকেই নিজের শরীর নিয়েই অসন্তুষ্ট।

রিচা বলেন, ‘যে মানুষটা নিজের পেটের মেদ কিংবা মাথার চুল কমে যাওয়া নিয়ে বসে থেকে নারীর শরীর নিয়ে মন্তব্য করছে, সে আসলে নিজের শরীর নিয়েই খুশি নয়।’
রিচার এই বক্তব্যের কেন্দ্রে রয়েছে একটি বিষয়—অন্যের শরীরকে বিচার করার প্রবণতা। বিশেষ করে সন্তান জন্মের পর একজন নারীর শরীর স্বাভাবিকভাবেই বদলে যেতে পারে। সেই পরিবর্তনকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্রূপ করা কতটা অমানবিক, সেটিই তুলে ধরেছেন রিচা।

প্রসঙ্গ ক্যাটরিনা
সালমানের মন্তব্যের সময় তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি। তবে তাঁর বক্তব্য এসেছে এমন এক সময়, যখন অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শরীর ও চেহারা নিয়ে নানা মন্তব্য হচ্ছিল।

সম্প্রতি স্বামী ভিকি কৌশলের সঙ্গে আম্বানি পরিবারের গণেশ চতুর্থীর অনুষ্ঠানে দেখা যায় ক্যাটরিনাকে। কিছুদিন আগেই মা হয়েছেন অভিনেত্রী। এরপর তাঁর চেহারা ও শরীরের পরিবর্তন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে মন্তব্য করেন। সন্তান জন্মের পর তাঁর ওজন বা শারীরিক পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় বডি শেমিংয়ের আলোচনা।

সালমান অবশ্য তাঁর বক্তব্যে ক্যাটরিনার নাম নেননি। বরং বৃহত্তর অর্থে মানুষের অন্যকে ট্রল করার প্রবণতার সমালোচনা করেন।

নিজের অভিজ্ঞতাও আছে রিচার
নারীর শরীর নিয়ে সামাজিক চাপের বিষয়ে রিচা চাড্ডার মন্তব্য নতুন নয়। বলিউডে কাজের শুরু থেকেই শরীরের গড়ন ও চেহারা নিয়ে নানা ধরনের প্রত্যাশার মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। প্রচলিত ‘নায়িকার’ শরীরী গড়নের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার চাপের কথাও বিভিন্ন সময়ে বলেছেন অভিনেত্রী।

রিচা আগে জানিয়েছেন, শরীর নিয়ে এ ধরনের চাপ তাঁর জীবনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। খাবারের সঙ্গে সম্পর্ক এবং নিজের শরীর নিয়ে উদ্বেগের কথাও প্রকাশ্যে বলেছেন তিনি।

তাই সালমানের বক্তব্যে সমর্থন জানাতে গিয়ে শুধু সাম্প্রতিক ঘটনা নয়, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা নারীর শরীরকে বিচার করার সংস্কৃতিকেও সামনে এনেছেন রিচা।