ছেড়েছেন পছন্দের খাবার, কী ভাবে ফিটনেসের শীর্ষে উঠলেন বিরাট কোহলি?
দিল্লি বা উত্তর ভারতের বাসিন্দাদের কাছে ছোলে ভাটুরের জনপ্রিয়তা বাঙালির ডাল-ভাতের মতোই। বিরাট কোহলিও এর ব্যতিক্রম ছি লেন না। কিন্তু ক্রিকেটের মতো খেলায় নিয়মিত ছোলে ভাটুরে খেলে ফিটনেস ধরে রাখা কঠিন। তাই নিজের প্রিয় খাবার থেকে শুরু করে জীবনযাত্রা—সবকিছুতেই পরিবর্তন আনেন বিরাট। একসময় যাঁর ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন উঠত, তিনিই আজ বিশ্বের অন্যতম ফিট ক্রিকেটার।
বিরাটের ফিটনেস পরিবর্তনের শুরু
২০০৮ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ের পর ভারতীয় ক্রিকেটে পরিচিতি পান বিরাট। তবে কেরিয়ারের শুরুর দিকে খাবার ও শরীরচর্চা নিয়ে খুব একটা সচেতন ছিলেন না তিনি। ফাস্ট ফুড এবং অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস ছিল তাঁর জীবনযাপনের অংশ। ২০১২ সালের পর উপলব্ধি করেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘদিন সাফল্য ধরে রাখতে হলে ফিটনেসের বিকল্প নেই।
ডায়েট থেকে জিম, আমূল পরিবর্তন
নিজের খাদ্যাভ্যাসে বড় পরিবর্তন আনেন বিরাট। ফাস্ট ফুড ও অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার কমিয়ে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ফল ও শাকসবজিকে গুরুত্ব দিতে শুরু করেন। ২০১৮ সালে জানিয়েছিলেন, তিনি মূলত নিরামিষ খাবার খান।
শুধু ডায়েট নয়, জিমের অনুশীলনেও পরিবর্তন আনেন। ২০১৫ সাল থেকে ওয়েট লিফটিং, ডেডলিফট, স্ট্রেংথ ট্রেনিং, অ্যাজিলিটি ড্রিল এবং এন্ডুরেন্স এক্সারসাইজ তাঁর রুটিনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। লক্ষ্য ছিল পেশির শক্তি ও স্ট্যামিনা বাড়ানো।
শঙ্কর বসুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
বিরাটের ফিটনেস পরিবর্তনে ভারতীয় দলের প্রাক্তন স্ট্রেংথ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ শঙ্কর বসুর অবদান উল্লেখযোগ্য। কখন কী খেতে হবে, কী ধরনের অনুশীলন প্রয়োজন এবং কখন বিশ্রাম নিতে হবে, সে বিষয়ে বিরাটকে সঠিক দিশা দিয়েছিলেন তিনি। বিরাট একাধিক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, শঙ্কর বসু তাঁর শরীরকে ভালো বুঝতেন।
খাবার ও বিশ্রামেও নজর ছিল বিরাটের
খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণেও বিশেষ নজর দেন বিরাট। ২০২২ সালে তাঁর সতীর্থদের বক্তব্য থেকে জানা যায়, খাবারের পরিমাণ মেপে খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করেছিলেন তিনি। প্রসেসড সুগার, গ্লুটেন এবং অতিরিক্ত দুগ্ধজাত খাবার এড়িয়ে চলার কথাও জানিয়েছেন।
পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, বিশ্রাম ও রিকভারিকেও গুরুত্ব দেন। কারণ কঠোর অনুশীলনের পাশাপাশি শরীরকে সুস্থ রাখাও একজন পেশাদার ক্রিকেটারের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
ভারতীয় ক্রিকেটেও বদলেছে ফিটনেস সংস্কৃতি
বিরাটের ফিটনেস সচেতনতা সতীর্থদেরও অনুপ্রাণিত করেছে। অধিনায়ক হিসেবে ভারতীয় দলে ফিটনেসের মান বজায় রাখার উপর জোর দেন তিনি। ইয়ো-ইয়ো টেস্ট এবং ভালো ফিল্ডিংয়ের দিকে জোর দিতে থাকেন তিনি। তৎকালীন কোচ রবি শাস্ত্রীও দলের ফিটনেস সংস্কৃতিতে বিরাটের ভূমিকার প্রশংসা করেছিলেন।
প্রতিভা নয়, শৃঙ্খলাই সাফল্যের চাবিকাঠি
২০১২ সালের আইপিএলের পর নিজের জীবনযাত্রা নিয়ে অসন্তুষ্ট হয়ে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বিরাট। একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, প্রথম ৮-১০ মাসে প্রায় ৬-৭ কেজি ওজন কমিয়েছিলেন। এরপর ধীরে ধীরে ফিটনেস তাঁর জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে।
আজ ৩৮ তম জন্মদিনে বিরাট কোহলির ফিটনেস যেই উচ্চতায় তাতে তরুণরা চাপে পড়ে যান। টেস্ট, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়ে তিনি এখন ODI ক্রিকেট আর IPL খেলেন। ২০২৭ সালের ODI ক্রিকেট সম্ভবত তাঁর কেরিয়ারের শেষ। এর পর তিনি বুটজোড়া তুলে রাখতে পারেন বলে গুঞ্জন। তবে কেরিয়ারের শেষলগ্নে দাঁড়িয়ে তিনি নিজের ফিটনেসকে যেই উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন তাতে আরও কয়েক বছর তিনি সহজেই খেলা চালিয়ে যেতে পারেন বলে মনে করেন ভক্তরা।