নিউ জ়িল্যান্ডে দাপট গুরনূর ব্রারের,ছবি: BCCI

নিউ জ়িল্যান্ডে দাপট গুরনূরের, গম্ভীরের মুখেও হাসি, বুমরার বিকল্প পেয়ে গেল ভারত?

২০২৭ সালে আয়োজিত হবে ODI বিশ্বকাপ। ICC-র এই টুর্নামেন্টের জন্য ভারতীয় ক্রিকেট দলে জায়গা পাওয়ার জন্য পেসারদের মধ্যে বাড়ছে প্রতিযোগিতা। এমন আবহে নিজের জাত চেনাচ্ছেন গুরনূর ব্রার। চোটের জন্য ভারতের ODI দলে খেলছেন না জশপ্রীত বুমরা, হার্দিক পান্ডিয়ারা। এমন পরিস্থিতিতে নিউ জ়িল্যান্ডের মাটিতে বল হাতে আগুন ঝরাচ্ছেন গুরনূর। প্রথম দুই ম্যাচে ৭ উইকেট তুলে নিয়েছেন পাঞ্জাবের ২৬ বছর বয়সি এই পেসার। গড়ছেন রেকর্ড, হয়ে উঠছেন দলের ভরসা। গম্ভীরের পছন্দের তালিকাতেও নাকি রয়েছেন তিনি। তবে কি জশপ্রীত বুমরার বিকল্প পেয়ে গেল ভারত?

নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে ODI-তে উইকেট নেওয়ার পরে সেলিব্রেশন গুরনূর ব্রারের

কোন নজির গড়েছেন গুরনূর ব্রার?

কিউয়িদের বিরুদ্ধে প্রথম ODI-তে তিন উইকেট নিয়েছিলেন গুরনূর। দ্বিতীয় ODI-তে ১০ ওভার বল করে মাত্র ৩০ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন। এর ফলে নিউ জ়িল্যান্ডের মাটিতে ভারতীয় পেসারদের মধ্যে সেরা বোলিংয়ের তালিকায় নাম তুলেছেন তিনি। এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন জাভাগল শ্রীনাথ। ২০০৩ সালে অকল্যান্ডে কিউয়িদের বিরুদ্ধে ২৩ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। শনিবার গুরনূরের বোলিং পরিসংখ্যান ছিল ৩০/৪।

নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে ODI-তে উইকেট নেওয়ার পরে সেলিব্রেশন গুরনূর ব্রারের

গুরনূরের আগ্রাসনই পছন্দ গম্ভীরের?

দ্বিতীয় ODI-তে গুরনূরের পারফরম্যান্স নিয়ে মুখ খুলেছেন ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার মুরলি কার্তিক। সেখানে তিনি বলেন, ‘ম্যাচে গুরনূরের মধ্যে এই আগ্রাসন দেখে ভালো লাগছে। আমাদের এমন একজন বোলারই দরকার। গৌতমের ওকে পছন্দ করার অন্যতম কারণও এটাই।’ শুধু তাই নয়, গুরনূরের বোলিংয়ের ধরন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কার্তিক বলেন, ‘ও হেভি বোলিং করে। ব্যাটারদের শরীর লক্ষ্য করে বল ছোড়ে। বিদেশি ব্যাটারদের বিরুদ্ধেও ওর এই বোলিং কার্যকর। ওর বলে আজ অনেকেই আঘাত পেয়েছে। বিদেশের মাটিতে এমন আগ্রাসন ভারতের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত।’

নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে ODI-তে উইকেট নেওয়ার পরে সেলিব্রেশন গুরনূর ব্রারের

বুমরার বিকল্প পেল ভারত?

এখনও পর্যন্ত ১১টি ODI-তে ২১টি উইকেট নিয়েছেন গুরনুর। বোলিং গড় ৩১.১৯। এখন নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে চলতি সিরিজ়ে বুমরা খেলছেন না। চোটের জন্য নেই প্রসিধ কৃষ্ণ এবং হর্ষিত রানাও। ফলে কিউয়িদের মাটিতে ভারতের পেস আক্রমণের অনেকটা দায়িত্ব সামলাচ্ছেন গুরনূর। ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে ২০২৭ সালের বিশ্বকাপে ভারতীয় দলে জায়গা পাওয়ার দৌড়ে বড় দাবিদার হয়ে উঠতে পারেন এই পেসার। এর পাশাপাশি বুমরার বিকল্প হিসেবে তাঁকে ব্যবহার করতে পারে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট, এমনটাও ভাবছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।