বিরাট কোহলি, ইনসেটে বাবার সঙ্গে তাঁর ছবি,ছবি: AI নির্মিত,বাবার সঙ্গে ছোট্ট বিরাট কোহলি,সংগৃহীত

দলকে বাঁচিয়ে বাবার সৎকারে, এক রাতে কী ভাবে বদলে গিয়েছিলেন বিরাট?

বিশ্বক্রিকেট তাঁকে চেনে ‘চেজ় মাস্টার’ নামে। মাঠে তিনি যেমন আগ্রাসী, তেমনই একজন কমপ্লিট ফ্যামিলি ম্যান। সতীর্থদের সঙ্গে তাঁর খুনসুটি নিয়ে চর্চা কম হয় না। কিন্তু বিরাট কোহলির আজ যেই জায়গায় রয়েছেন তার নেপথ্যে রয়েছে মানসিক লড়াই। বিরাট কোহলির এই মানসিকতা তৈরি হয়েছিল ২০০৬ সালে। যখন মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিনি নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় আশ্রয় ও অনুপ্রেরণা—বাবা প্রেম কোহলিকে হারান।

কেরিয়ারে টার্নিং পয়েন্ট বিরাটের

নিজের কেরিয়ার ও জীবনের টার্নিং পয়েন্টের ঘটনা শেয়ার করেছিলেন আমেরিকান সাংবাদিক গ্রাহাম বেনসিঙ্গারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে। ২০০৬ সালে উঠতি তারকা হিসেবে রঞ্জি ট্রফিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার লড়াই চালাচ্ছেন কোহলি। পরিবার নিয়ে বিরাটরা থাকতেন এক ভাড়া বাড়িতে। মধ্যবিত্ত পরিবার হওয়ায় আর্থিক টানাপোড়েন লেগেই থাকত। ঠিক তখনই তাঁর বাবা অনলাইন শেয়ার ট্রেডিংয়ের বিপুল লোকসানের মুখে পড়েন। আর্থিক মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন তাঁর বাবা। পরবর্তীতে শরীরের একপাশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে এবং টানা কয়েক সপ্তাহ লড়াইয়ের পর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

সেই রাতের কথা তুলে বিরাট বলেছিলেন, ‘বাবার প্রয়াণের পর আমার ভেতরের সমস্ত আবেগ যেন এক নিমেষে উবে গিয়েছিল। আমি পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। কোনও অনুভূতি অবশিষ্ট ছিল না। ঠিক সেই দিন থেকেই আমি পুরোপুরি বদলে যাই।’

বাবার সঙ্গে ছোট্ট বিরাট কোহলি। পুরনোদিনের একটি ছবি।

বাড়িতে বাবার দেহ রেখে দলের হয়ে লড়াই

বাবার মৃত্যুর দিন কর্ণাটকের বিরুদ্ধে রঞ্জি ট্রফির গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ ছিল বিরাটের। সেই সময় তাঁর দল দিল্লি হারের মুখে দাঁড়িয়ে। একদিকে বাড়িয়ে শায়িত বাবার দেহ আর অন্যদিকে দল হারের মুখে। সেই সময়ে ১৮ বছরের বিরাট পরদিন সকালেই হাজির হন স্টেডিয়ামে। কোচ রাজকুমার শর্মার প্রশ্নের জবাবে অবিচল গলায় জানিয়েছিলেন, জীবনে যাই ঘটে যাক, মাঝপথে ক্রিকেট ছেড়ে যাওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। প্যাড পরে ক্রিজে নেমে বুক চিতিয়ে কর্ণাটকের পেস আক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে খেলেন ২৩৮ বলে ৯০ রানের এক ইনিংস। দিল্লির ফলো-অন বাঁচিয়ে ম্যাচ নিশ্চিত ড্র করে ড্রেসিংরুমে ফিরে সরাসরি ছুটে যান শ্মশানে বাবার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করতে।

১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট শাসন করা কোহলির এই জার্নি কখনোই একমুখী হাইওয়ে ছিল না। ২০১৪ সালে ইংল্যান্ড সফরে জেমস অ্যান্ডারসনের আউটসুইংয়ে বারবার ব্যর্থ হয়ে মাত্র ১৩ গড়ে রান করার দুঃস্বপ্ন দেখেছেন। অধিনায়ক হিসেবে ভারতকে টেস্ট ক্রিকেটের শীর্ষ স্থানে নিয়ে গিয়েও পরবর্তী সময়ে টানা তিন বছর কোনও ফরম্যাটে আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি না পাওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই ফিনিক্স পাখির মতো ফিরে এসেছেন তিনি।