ব্যাটিং বিপর্যয়ের মাঝেও উজ্জ্বল অভিষেক, সামির বোলিংয়ে অক্সিজেন পেল বাংলা
জয়ের হ্যাটট্রিক দিয়ে রঞ্জি ট্রফিতে অভিযান শুরু করেছে বাংলা। সোমবার ঘরের মাঠ ইডেন গার্ডেন্সে পৃথ্বী শয়ের মহারাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নেমেছিল লক্ষ্মীরতন শুক্লার দল। তবে আরও একবার ব্যাটিংয়ে ভরাডুবির মুখে পড়ল বাংলা। মহারাষ্ট্রের দুই পেসারের দাপটে মাত্র ১৪৩ রানে গুটিয়ে গেল বাংলার প্রথম ইনিংস। একা লড়াই করলেন অভিষেক পোড়েল। বাকিরা যখন উইকেট ছুড়ে দিয়ে আসছেন, তখন ৫৪ রানের লড়াকু ইনিংস খেললেন এই ব্যাটার। তবে মহম্মদ সামির আগুনে বোলিংয়ে কিছুটা অক্সিজেন পেল বাংলা। দিন শেষে দুই উইকেট হারিয়েছে পৃথ্বী শয়ের টিম। তবে খারাপ আলোর জন্য নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই শেষ হয়ে যায় প্রথম দিনের খেলা।
বাংলার ব্যাটিং বিপর্যয়
টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় মহারাষ্ট্র। তবে ঘরের মাঠেও উইকেটে টিকতে পারেননি বাংলার ব্যাটাররা। ওপেনে নেমে ব্যর্থ হন অভিমন্যু ঈশ্বরন (১০) ও অঙ্কুর পাল (১)। এক অঙ্কের স্কোরে ফেরেন সুরজ সিন্ধু জয়সওয়াল (০) ও সুদীপ চট্টোপাধ্যায় (৭)। শুরুটা ভালো করেও উইকেট ছুঁড়ে দিয়ে আসেন তিনে নামা সুদীপ কুমার ঘরামি (১৯)। দ্রুত ফেরেন শাহবাজ় আহমেদ (০), সুমন্ত গুপ্তও (৭)। একটা সময়ে ৭২ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল বাংলা।
এমন অবস্থা থেকে দলকে লড়াইয়ে ফেরান অভিষেক পোড়েল ও প্রদীপ্ত প্রামাণিক। ৬৬ রানের জুটি গড়েন তাঁরা। ৪৩ বলে ৩১ রান করে আউট হন প্রদীপ্ত। কঠিন পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকেন অভিষেক। ৬৭ বলে ৫৪ রান করে আউট হন তিনি। আটটি বাউন্ডারি ছিল তাঁর এই ইনিংসে। শেষ পর্যন্ত ৩৬.৫ ওভারে ১৪৩ রানে গুটিয়ে যায় বাংলার ইনিংস। তিনটি করে উইকেট নেন মহারাষ্ট্রের দুই পেসার প্রদীপ দাধে ও তনয় সাঙ্ঘভি।
সামির আগুনে বোলিংয়ে বাংলার কামব্যাক
কঠিন পরিস্থিতিতে আরও একবার বাংলার ত্রাতা হয়ে উঠলেন মহম্মদ সামি। ষষ্ঠ ওভারে পরপর দুই বলে দু’উইকেট নিয়ে বাংলাকে অক্সিজেন দেন তিনি। ওভারের প্রথম বলেি পৃথ্বীর স্টাম্প ছিটকে দেন তিনি। ২১ বলে ১২ রানে আউট হন তিনি। পরের বলেই LBW আউট হন দিগ্বিজয় পাতিল। তবে হ্যাটট্রিক করতে পারেননি। প্রথম দিনের শেষে মহারাষ্ট্রের স্কোর ২১-২। ক্রিজ়ে আছেন সিদ্ধেশ বীর (৭) ও অঙ্কিত বাওনে (২)।
খারাপ আলোর জন্য বন্ধ খেলা
সোমবার খারাপ আলোর জন্য নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই বন্ধ হয়ে যায় ম্যাচ। দুপুর ১টা ৫০ নাগাদ ম্যাচ বন্ধ করেন আম্পায়ার। ব্রেকের পরেও আর শুরু করা যায়নি ম্যাচ। পৌনে চারটে নাগাদ প্রথম দিনের খেলা শেষ করে দেওয়া হয়।