জাহাজ থেকে সরাসরি তেল খালাসের জন্য ইন্দোনেশিয়ার কোম্পানি কাজ পেল

জাহাজ থেকে সরাসরি তেল খালাসের জন্য ইন্দোনেশিয়ার কোম্পানি কাজ পেল

সমুদ্রে থাকা জাহাজ থেকে সরাসরি তেল খালাসের জন্য ‘সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) উইথ ডাবল পাইপলাইন’ শীর্ষক প্রকল্পের কাজ প্রায় দুই বছর আগে শেষ হয়। কিন্তু তা পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়নি। আজ বুধবার সেই ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ইন্দোনেশিয়ার প্রতিষ্ঠান পিটি পারতামিনা ট্রান্স কন্টিনেন্টাল পাঁচ বছরের জন্য এ কাজ পেয়েছে। ক্রয় কমিটির বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভার্চ্যুয়াল পদ্ধতিতে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৈঠকের পর অর্থ মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়।

সমুদ্রে জাহাজ থেকে সরাসরি তেল খালাসের ব্যবস্থাকে বলা হয় এসপিএম। প্রকল্পটি হয়েছে কক্সবাজারের মহেশখালী থেকে পতেঙ্গার ইস্টার্ন রিফাইনারি পর্যন্ত। বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে জি-টু-জি ভিত্তিতে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের আওতায় একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ট্যাংক ফার্ম, মহেশখালীর পশ্চিমে গভীর সমুদ্রে একটি ভাসমান জেটি এবং ১১০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দুটি সমান্তরাল পাইপলাইন (মোট ২২০ কিলোমিটার) স্থাপন করা হয়েছে।

আমদানি করা জ্বালানি তেল বড় জাহাজ থেকে লাইটার জাহাজ হয়ে রিফাইনারি ট্যাংকে পৌঁছাতে এত দিন সময় লাগত ১১ থেকে ১২ দিন। এসপিএম চালু হলে সমপরিমাণ তেল পরিবহনে সময় লাগবে ৪৮ ঘণ্টা। এতে বছরে সাশ্রয় হবে কমপক্ষে ৮০০ কোটি টাকা এবং কমবে সিস্টেম লস।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইন্দোনেশিয়ার প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া বাবদ ব্যয় হবে ১২ কোটি ৮০ লাখ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় তা ১ হাজার ৯৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকার সমান। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) নিজস্ব তহবিল থেকে এ অর্থ পরিশোধ করবে।

‘সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) উইথ ডাবল পাইপলাইন’ প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালে। এরপর চার দফা মেয়াদ বাড়ে এবং খরচ ৫ হাজার কোটি থেকে বেড়ে ৮ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা হয়। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) পক্ষে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)।

ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শরীফ হাসনাত প্রথম আলোকে বলেন, এসপিএম চালু হলে জ্বালানি তেল পরিবহনে বড় পরিবর্তন আসবে। গভীর সাগরে বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে বারবার তেল স্থানান্তর করে চট্টগ্রাম পর্যন্ত আনার প্রয়োজন হবে না। পাইপলাইনে সরাসরি তেল চলে আসবে। এতে পরিবহন ব্যয়ের পাশাপাশি তেলের অপচয়ও কমবে।

শরীফ হাসনাত আরও জানান, বর্তমানে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে অপরিশোধিত তেল সংরক্ষণের ট্যাংক সক্ষমতা প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার টন। তবে কোনো ট্যাংক মেরামতে থাকাসহ বিভিন্ন কারণে কার্যকরভাবে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টন রাখা যায়। এসপিএম চালু হলে মহেশখালীতে অপরিশোধিত তেলের আরও প্রায় এক লাখ টন মজুতের সুবিধা হবে। এর সঙ্গে পরিশোধিত তেল রাখা যাবে আরও ১ লাখ টন।

সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) উইথ ডাবল পাইপলাইন প্রকল্পের ঠিকাদার চায়না পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডকে (সিপিপিইসি) পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে নিয়োগ দেওয়ার কথা ছিল। এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা হলেও তা এগোয়নি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেমে যায় ওই আলোচনা। এরপরই দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করে বিপিসি।

বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, দেশে জ্বালানি তেলের গড় চাহিদা বছরে ৬৫ লাখ টন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি আমদানি করা হয়। সরকারি ইস্টার্ন রিফাইনারি আমদানি করা অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে। আর পরিশোধিত সেই তেল বাজারজাত করে বিপিসি।