হলিউডে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই প্রযুক্তিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের মতামত জানিয়েছেন টম ক্রুজ। তাঁর মতে, চলচ্চিত্র নির্মাণে এআইয়ের ব্যবহার আরও বাড়বে। তবে প্রযুক্তি যতই এগিয়ে যাক, দর্শক বড়পর্দায় মানুষের তৈরি বাস্তব অভিজ্ঞতা দেখতে চাইবেন।
লন্ডনে ব্রিটিশ অ্যাকাডেমি অব ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন আর্টসের (বাফটা) ‘লাইফ ইন পিকচার্স’ অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে কথা বলেন ক্রুজ। ২১ সেপ্টেম্বরের ওই আয়োজনে তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ার নিয়ে আলোচনার একপর্যায়ে সঞ্চালক এডিথ বোম্যান চলচ্চিত্র নির্মাণে এআইয়ের প্রভাব নিয়ে তাঁর মতামত জানতে চান।
জবাবে ক্রুজ বলেন, ‘মানুষের মতো কিছু নেই।’ এরপর তিনি স্বীকার করেন, চলচ্চিত্রে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে এবং ‘এটি আসছে, এটি ঘটবেই’। তবে তাঁর বক্তব্য, প্রযুক্তির এই পরিবর্তনের মধ্যেও দর্শক ‘বাস্তব জিনিস’ দেখতে চান। অনুষ্ঠানটির ওপর প্রতিবেদন প্রকাশ করতে গিয়ে মার্কিন বিনোদনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম TheWrap জানায়, এ বিষয়ে প্রায় ছয় মিনিট কথা বলেন ক্রুজ এবং তাঁর বক্তব্যে উপস্থিত দর্শকদের কাছ থেকে করতালি আসে।
এআই নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি প্রেক্ষাগৃহে সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতার পক্ষেও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন ক্রুজ। তিনি বলেন, স্ট্রিমিং নিয়ে তাঁর
_সংগৃহীত ছবি
আপত্তি নেই। তবে প্রেক্ষাগৃহে সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা আলাদা। তাঁর ভাষায়, দর্শকেরা সেই অভিজ্ঞতা চান এবং তারা সিনেমা হলে যাচ্ছেন। Variety-ও ক্রুজের বক্তব্যের এই দিকটি তুলে ধরে জানিয়েছে, অভিনেতা মানুষের সৃষ্টিশীলতা ও সম্মিলিত সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
ক্রুজের এমন বক্তব্যের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারেরও যোগ রয়েছে। ‘টপ গান: ম্যাভেরিক’ এবং ‘মিশন: ইমপসিবল’ সিরিজের মতো ছবিতে বাস্তব স্টান্ট ও ব্যবহারিক প্রযুক্তির ওপর তাঁর নির্ভরতা দর্শকদের কাছে পরিচিত। বিশেষ করে ‘মিশন: ইমপসিবল’ সিরিজের সাম্প্রতিক ছবিগুলোতে ঝুঁকিপূর্ণ স্টান্টে তাঁর অংশগ্রহণ ব্যাপক আলোচনায় এসেছে।
এদিকে ক্রুজের নতুন সিনেমা ‘ডিগার’ নিয়েও ইতোমধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অস্কারজয়ী নির্মাতা আলেহান্দ্রো গঞ্জালেস ইন্যারিতুর পরিচালনায় নির্মিত সিনেমাটিতে প্রথমবার একসঙ্গে কাজ করেছেন ক্রুজ ও ইন্যারিতু। ছবিতে ক্রুজ অভিনয় করেছেন ডিগার রকওয়েল নামের এক প্রভাবশালী তেল ব্যবসায়ীর চরিত্রে।
‘ডিগার’-এর গল্পে রকওয়েলের প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ড থেকে একটি বড় পরিবেশগত সংকট তৈরি হয়। সেই সংকট এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে তা পারমাণবিক যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করতে পারে। এরপর নিজের তৈরি বিপর্যয়ের মধ্যেই মানবতার ত্রাণকর্তা হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করার মরিয়া চেষ্টা চালায় রকওয়েল। ছবিটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বর্ণনাতেও বলা হয়েছে, চরিত্রটি এমন এক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়, যা পুরো বিশ্বকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
‘ডিগার’ ছবিটি টম ক্রুজ ও আলেহান্দ্রো গঞ্জালেস ইন্যারিতুর প্রথম যৌথ কাজ। ছবিতে ক্রুজের সঙ্গে অভিনয় করেছেন রিজ আহমেদ, জন গুডম্যান, স্যান্ড্রা হুলার, মাইকেল স্টালবার্গ ও জেসি প্লেমনস। Warner Bros.-এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, উত্তর আমেরিকায় সিনেমাটি ২ অক্টোবর ২০২৬ প্রেক্ষাগৃহ ও আইম্যাক্সে মুক্তি পাবে। আন্তর্জাতিক মুক্তি শুরু হবে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে।
টম ক্রুজের ভাষ্যে, প্রযুক্তির পরিবর্তনকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে এআইয়ের বিস্তারের মধ্যেও মানুষের সৃষ্টিশীলতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতার জায়গা থাকবে। তাঁর এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে হলিউডে এআই বনাম মানবসৃষ্ট শিল্প নিয়ে চলমান বিতর্কটি আরও একবার সামনে এসেছে।