,— এই সময়

‘মেয়ে নয়, যেন ছেলে হয়ে জন্মাই...’, পুনর্জন্ম প্রসঙ্গে কেন এ কথা বলেছিলেন লতা মঙ্গেশকর?

কিংবদন্তি সুরসাম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকর (Lata Mangeshkar)-এর জন্মবার্ষিকীতে ফিরে এল পুরোনো একটি সাক্ষাৎকার। যেখানে বর্ষীয়ান গীতিকার ও লেখক জাভেদ আখতার (Javed Akhtar)-এর সঙ্গে কথোপকথনে পুনর্জন্ম (Rebirth) নিয়ে নিজের এক অবিশ্বাস্য ও আত্মিক মতামত ব্যক্ত করেছিলেন ‘নাইটিঙ্গেল অব ইন্ডিয়া’। ঈশ্বর যদি ফের পৃথিবীতে পাঠান তবে তিনি আর ‘লতা মঙ্গেশকর’ হয়ে জন্মাতে চান না—এই মন্তব্য চমকে দিয়েছিল তাঁর অগণিত অনুরাগীদের।

লতা মঙ্গেশকরের জন্মবার্ষিকীতে ভাইরাল জাভেদ আখতারের নেওয়া পুরোনো সাক্ষাৎকার! কেন পরের জন্মে 'লতা মঙ্গেশকর' বা মেয়ে হতে চাননি?

জাভেদ আখতারের সঙ্গে সেই বিশেষ সাক্ষাৎকারে লতা মঙ্গেশকরকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তিনি কি পরের জন্মেও লতা মঙ্গেশকর হয়েই জন্মাতে চান? উত্তরে অত্যন্ত শান্ত কিন্তু গভীর গলায় গায়িকা বলেছিলেন, ‘পুনর্জন্ম না হওয়াই ভালো। আর যদি সত্যিই আমার আবার জন্ম হয়, তবে আমি আর লতা মঙ্গেশকর হয়ে জন্মাতে চাই না। লতা মঙ্গেশকরের জীবনে কী পরিমাণ কষ্ট ও লড়াই ছিল, তা কেবল লতাই জানে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘যদি আবার জন্ম নিতেই হয়, তবে আমাকে কোনও এক সাধারণ ও মধ্যবিত্ত পরিবারে পাঠিও। এর পরে আর মেয়ে নয়, যেন ছেলে হয়ে জন্মাতে পারি।’

লতা মঙ্গেশকরের জন্মবার্ষিকীতে ভাইরাল জাভেদ আখতারের নেওয়া পুরোনো সাক্ষাৎকার! কেন পরের জন্মে 'লতা মঙ্গেশকর' বা মেয়ে হতে চাননি?

লতা মঙ্গেশকরের এই মন্তব্যের নেপথ্যে লুকিয়ে ছিল চরম জীবনসংগ্রামের ইতিহাস। প্রসঙ্গত, ১৯৪২ সালে বাবা পণ্ডিত দিনানাথ মঙ্গেশকরের মৃত্যুর পরে মাত্র ১৩ বছর বয়সে ছোট ছোট ভাইবোন ও পুরো পরিবারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন লতা। ১৯৪৮ সালের ‘মজবুর’ সিনেমায় ‘দিল মেরা তোড়া’ গানের মাধ্যমে তিনি প্রথম বড় ব্রেক পান। তবে ১৯৪৯ সালের ‘মহল’ ছবির কালজয়ী গান ‘আয়েগা আনেওয়ালা’ তাঁকে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে দেয়। হিন্দি, মারাঠি, বাংলা-সহ ভারতের বহু আঞ্চলিক ভাষায় হাজার হাজার গান গেয়েছেন তিনি। ভারত রত্ন, পদ্মবিভূষণ, পদ্মভূষণ এবং দাদা সাহেব ফালকে পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। ২০০৪ সালের 'বীর-জ়ারা' ছিল তাঁর শেষ হিন্দি প্লেব্যাক।