চট্টগ্রাম বন্দরফাইল ছবি: প্রথম আলো

এবার পণ্য আমদানি–রপ্তানির কনটেইনারে খরচ বাড়ছে

ডিজেলের দাম ১৭ দশমিক ৪০ শতাংশ বাড়ার পর বেসরকারি কনটেইনার ডিপোর বিভিন্ন সেবায় ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ ‘জ্বালানি সারচার্জ’ আরোপ করা হয়েছে। আজ সোমবার থেকে নতুন মাশুল কার্যকর হচ্ছে। এর ফলে কনটেইনারে পণ্য রপ্তানি এবং আমদানিতে খরচ বাড়ছে।

বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোস অ্যাসোসিয়েশন (বিকডা) এক নোটিশে নতুন মাশুল আরোপ করার কথা জানিয়েছে। এতে বলা হয়, সরকার ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা থেকে ১৭ দশমিক ৪০ শতাংশ বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করেছে। বেসরকারি কনটেইনার ডিপোগুলোর কার্যক্রমের বড় অংশে জ্বালানি, বিশেষ করে ডিজেল ব্যবহার হয়। ডিজেলের দাম বাড়ায় এসব কার্যক্রমের খরচও বেড়েছে। এ কারণে সর্বশেষ পর্যালোচিত মাশুলের ওপর ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ ‘জ্বালানি সারচার্জ’ আরোপ করা হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, নতুন মাশুল আমদানি, রপ্তানি ও খালি কনটেইনার ব্যবস্থাপনার প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ ধাপেই প্রযোজ্য হবে। এগুলো হলো চট্টগ্রাম বন্দর ও বেসরকারি ডিপোর মধ্যে খালি কনটেইনার পরিবহন, পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) ও ডিপোর মধ্যে খালি কনটেইনার পরিবহন, খালি কনটেইনার ওঠানো–নামানো, রপ্তানি পণ্য কনটেইনারে বোঝাই ও ব্যবস্থাপনা, রপ্তানি পণ্যভর্তি কনটেইনারের ওজন বা ভিজিএম–সংক্রান্ত সেবা এবং আমদানি পণ্য খালাসের প্যাকেজ।

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে রপ্তানি হওয়া পণ্যের প্রায় ৯০ শতাংশই বেসরকারি কনটেইনার ডিপোগুলোতে কনটেইনারে বোঝাই করা হয়। এরপর ডিপোর নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এসব কনটেইনার বন্দরে নিয়ে জাহাজে তুলে দেওয়া হয়। আবার বন্দর দিয়ে আমদানি হওয়া নির্ধারিত ৬৫ ধরনের কনটেইনারবাহী পণ্য বেসরকারি ডিপোতে নিয়ে খালাস করা হয়। ফলে মাশুল বৃদ্ধির প্রভাব আমদানি–রপ্তানি কনটেইনার ব্যবস্থাপনার বড় অংশেই পড়বে।

জানতে চাইলে বিকডার মহাসচিব রুহুল আমিন সিকদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘বেসরকারি ডিপোগুলোর পরিচালন কার্যক্রমে ডিজেলচালিত যন্ত্রপাতি ও যানবাহন ব্যবহার করা হয়। জ্বালানি, বিশেষ করে ডিজেলের দাম বাড়ায় পরিচালন ব্যয় বেড়েছে। সেই বাড়তি খরচ সমন্বয় করতেই এই সার্কুলার।’

এর আগেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর গত এপ্রিলে মাশুল বাড়িয়েছিল বেসরকারি কনটেইনার ডিপোগুলো। বর্তমানে চট্টগ্রামে ২১টি বেসরকারি কনটেইনার ডিপো রয়েছে।