নতুন এই কারখানা চালুর মাধ্যমে র্যানকন লুব্রিকেন্টস বিদেশ থেকে কেবল কাঁচামাল আমদানি করবে এবং দেশেই লুব্রিকেন্টস মিশ্রণ ও প্রস্তুত করে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ করবে।
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে নতুন কারখানা করবে র্যানকন লুব্রিকেন্টস। এ জন্য প্রতিষ্ঠানটি বিনিয়োগ করবে ২ কোটি ডলার বা প্রায় ২৫০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২৫ টাকা ধরে)। কারখানাটির কাজ শেষ হলে তাতে কর্মসংস্থান হবে ২৫০ জনের। এ জন্য প্রতিষ্ঠানটি আজ সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে ইনভেস্ট বাংলাদেশের সঙ্গে জমি ইজারার চুক্তি করেছে। মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে কারখানা করতে র্যানকন লুব্রিকেন্টস প্রায় সাড়ে ছয় একর জমি ইজারা নিচ্ছে।
ইনভেস্ট বাংলাদেশের পক্ষে সংস্থাটির সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) নাহিয়ান রহমান এবং র্যানকন লুব্রিকেন্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইমরান জামান খান চুক্তিতে সই করেন। এক বিজ্ঞপ্তিতে ইনভেস্ট বাংলাদেশ এসব তথ্য জানিয়েছে।
র্যানকন লুব্রিকেন্টস এত দিন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ‘শেল’–এর প্রিমিয়াম ইঞ্জিন অয়েল আমদানি করে দেশের বাজারে বিক্রি করে আসছিল। নতুন এই কারখানা চালুর মাধ্যমে তারা বিদেশ থেকে কেবল কাঁচামাল আমদানি করবে এবং দেশেই লুব্রিকেন্টস মিশ্রণ ও প্রস্তুত করে স্থানীয় বাজারে তা সরবরাহ করবে।
গত আগস্টে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ও পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ (পিপিপিএ)—এই তিন সংস্থা একীভূত করে গঠন করা হয় নতুন বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’। ইনভেস্ট বাংলাদেশ গঠনের পর র্যানকন লুব্রিকেন্টসের সঙ্গে এটিই প্রথম ভূমি ইজারা চুক্তি।
চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ৫০ বছরের জন্য র্যানকন লুব্রিকেন্টসকে এই জমি ইজারা দেওয়া হয়েছে। চুক্তির মেয়াদ শেষে ইনভেস্ট বাংলাদেশের শর্তসাপেক্ষে চুক্তি নবায়ন করা যাবে। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে র্যানকন লুব্রিকেন্টসকে জমি হস্তান্তর করবে ইনভেস্ট বাংলাদেশ। জমি হস্তান্তরের ১২০ দিনের মধ্যে নির্মাণকাজ শুরুর বাধ্যবাধকতা রয়েছে; আর জমি হস্তান্তরের ৩৬ মাসের মধ্যে কারখানাটি পূর্ণ উৎপাদনে যাবে বলে আশা করছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ।
ইজারা চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ইনভেস্ট বাংলাদেশের সদস্য নাহিয়ান রহমান বলেন, ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ গঠনের পর এটিই প্রথম ভূমি ইজারা চুক্তি। র্যানকন লুব্রিকেন্টসের মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের এই বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি আমাদের প্রতি আস্থারই প্রতিফলন। এই চুক্তি অন্যান্য বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও আস্থা গড়ে তুলতে বড় ভূমিকা রাখবে।’
ইনভেস্ট বাংলাদেশ সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠানটিকে প্রয়োজনীয় ইউটিলিটি সংযোগসহ সরকার-ঘোষিত প্রযোজ্য শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও কর প্রণোদনা পেতে সার্বিক সহায়তা দেওয়া হবে। অন্যদিকে র্যানকন লুব্রিকেন্টস পরিবেশ, শ্রম ও নিরাপত্তা বিধিমালা মেনে নিজস্ব বর্জ্য ও পয়োনিষ্কাশন শোধনাগার স্থাপন করবে। চুক্তিটিতে কার্যসম্পাদন পর্যবেক্ষণ ও আরবিট্রেশন আইন, ২০০১-এর অধীন বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান রাখা হয়েছে।