নোটিশ জারির জন্য সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে ১০০ টাকা নিয়েও সন্তুষ্ট হতে পারেননি রেজাউল ইসলাম। আরও ১০০ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে ফাইল নালায় ফেলে দেওয়ার হুমকি দেনছবি: ভিডিও থেকে সংগৃহীত

নোটিশ জারির জন্য ১০০ টাকা নিয়েও আরও টাকা দাবি করেন ভূমি অফিসের কর্মচারী। টাকা না দিলে নোটিশ নালায় ফেলে দেওয়ার হুমকি দেন তিনি।

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের অফিস সহকারী রেজাউল ইসলাম নোটিশ জারির জন্য সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে ১০০ টাকা নিয়েও সন্তুষ্ট হতে পারেননি। আরও ১০০ টাকা দাবি করেন। ঘুষের বাকি টাকা না দিলে ফাইল নালায় ফেলে দেওয়ার হুমকি দেন রেজাউল।

ঘুষের টাকা লেনদেনের ২ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যে ওই অফিস সহকারীকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, অফিস সহকারী রেজাউল ইসলামের হাতে ১০০ টাকার একটি নোট। এ সময় তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘একটা নোটিশ জারি করতে ১৪০ টাকা খরচ হয়। আপনারা কি নোটিশের জন্য টাকা জমা দেন?’ এ সময় সেবাগ্রহীতা বলেন, ‘আপনারা অফিস থেকে তো টাকা পান।’ এরপর রেজাউল বলেন, ‘এ জন্যই তো গ্যাঞ্জাম বাধে। আপনার নোটিশ জারি করতে কি টাকা জমা দেন?’ জবাবে সেবাগ্রহীতা বলেন, ‘আমাদের তো টাকা দেবার কথা না। তারপরও কিছু দিই কাজ উদ্ধারের জন্য।’

এরপর রেজাউল বলতে থাকেন, ‘আচ্ছা ঠিক আছে, পরবর্তীতে আপনার নোটিশ আসলি তখন জড়ায়ে ওই ক্যানেলের (নালা) ভিতর ফ্যালি দিই আসব। তারপরে বইলেন আমার নোটিশ পাইনি। একটা নোটিশ জারি করতে ৮০ টাকা লাগে। আবার এখন গদ (জমিসংক্রান্ত বর্ণনা) লিখে ফেরত দিতে হবে ৪০ টাকা। ১২০ টাকা তো খরচই হয়। আর আপনি দিয়ে যাচ্ছেন ১০০ টাকা, আবার উল্টাপাল্টা কথা বলছেন যে এটা বাবদে আপনারা খরচ পান। কিডা আমাদের খরচ দেয়? আমাদের পকেটের ট্যাকা খরচ করি কি আপনাদের নোটিশ দেব?’

জবাবে সেবাগ্রহীতা বলেন, ‘টাকা নেওয়ার নিয়ম নাকি?’ এরপর রেজাউল উচ্চস্বরে বলেন, ‘ওইডা এসি ল্যান্ডকে গিয়ে বলেন, নোটিশ জারির জন্য গাড়ি ভাড়া চায়, এখনই বলবেন গাড়ি ভাড়া চায়। ঠিক আছে? আপনার নোটিশ আসুক, তারপর দ্যাখপোনে। আপনি পারেন নাকি আমি পারি দ্যাখপোনে।’

স্থানীয় সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, জমিসংক্রান্ত নামজারি, খাজনা কিংবা নোটিশ জারির মতো যেকোনো সাধারণ কাজের জন্য ভূমি কার্যালয়ে গেলে অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন রেজাউল। টাকা না দিলে ফাইল আটকে রেখে তিনি চরম ভোগান্তিতে ফেলেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অফিস সহকারী রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘আমার ভুল হয়েছে। শাস্তি হিসেবে বদলি করেছেন স্যারেরা। আমি আর এমন করব না।’

কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জাকির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, বিষয়টি নজরে আসার পর ওই অফিস সহকারীকে বদলি করে দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে আরও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।