Advertisement
  • হোম
  • চাকরি
  • প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক : পুলিশ ভেরিফিকেশন ইতিবাচক...

প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক : পুলিশ ভেরিফিকেশন ইতিবাচক হলে ২৪ সেপ্টেম্বর মিলবে নিয়োগপত্র

প্রথম আলো

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

৮ ফেব্রুয়ারি সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ হয়। দীর্ঘ সাত মাসের বেশি সময় পরে ১৪ হাজার ৩৮৪ প্রার্থী সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপত্র পেতে যাচ্ছেনপ্রথম আলো ফাইল ছবি
৮ ফেব্রুয়ারি সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ হয়। দীর্ঘ সাত মাসের বেশি সময় পরে ১৪ হাজার ৩৮৪ প্রার্থী সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপত্র পেতে যাচ্ছেনপ্রথম আলো ফাইল ছবি

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে। নির্বাচিত প্রার্থীদের অনুকূলে নিয়োগপত্র জারি করার প্রশাসনিক প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় এই নিয়োগপত্র দেওয়া শুরু হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়গুলো থেকে এই নিয়োগপত্র বিতরণ করা হবে। সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা নিজ নিজ জেলা কার্যালয় থেকে সরাসরি নিয়োগপত্র গ্রহণ করবেন। নিয়োগপত্র পাওয়ার পর আগামী ১ অক্টোবর প্রার্থীদের নিজ জেলা শিক্ষা কার্যালয়ে যোগদান করতে হবে। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ৪ অক্টোবর তাঁদের পদায়ন শুরুর কথা রয়েছে।

লালমনিরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম অধিদপ্তর থেকে চিঠি পাওয়ার তথ্য স্বীকার করেছেন। তবে নিয়োগ প্রদানের নির্দেশনাবলিতে কী আছে, এই বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। মেহেরপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুকুমার মিত্র বলেন, অধিদপ্তর থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে নিয়োগপত্র পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। বিতরণের জন্য জেলা কার্যালয়গুলো প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে।

কক্সবাজার জেলার সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাবলি পেয়েছি। নিয়ম মেনে আমরা নির্ধারিত তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর থেকেই নিয়োগপত্র প্রদান শুরু করব।’

নিয়োগপত্র প্রদানের বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, পুলিশের ভেরিফিকেশনে যাদের প্রতিবেদন ইতিবাচক এসেছে, কেবল তাঁরাই নিয়োগপত্র পাবেন। ভেরিফিকেশনে কোনো নেতিবাচক ও বিরূপ তথ্য থাকলে নিয়োগপত্র দেওয়া হবে না।

এ ছাড়া নিয়োগ–সংক্রান্ত অন্যান্য প্রাথমিক শর্ত পূরণ করাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ডোপ টেস্ট এবং শিক্ষাগত সনদের সত্যতা যাচাইয়ের তথ্য চূড়ান্তভাবে মিলিয়ে দেখে তবেই নিয়োগপত্র দেওয়া হবে।

পদায়নের পর নতুন শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ শুরুর একটি চেষ্টা চলছে বলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, প্রশিক্ষণ চাকরির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পদায়ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যাতে প্রশিক্ষণ শুরু করা যায়, সেই চেষ্টা চলছে। শিক্ষকদের মূলত দুই মাসের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং প্রশিক্ষণ শেষেই তাঁরা স্কুলে সরাসরি ক্লাস নিতে পারবেন। তবে এই প্রশিক্ষণ কবে থেকে শুরু হবে, তা এখনো চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হয়নি। আগামী ৪ অক্টোবর পদায়নের দিন থেকেই প্রশিক্ষণ শুরু করা সম্ভব কি না, তা বিচার-বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করে মন্ত্রণালয়। এই পরীক্ষায় মোট ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থী সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন। কিন্তু ফল প্রকাশের পর দীর্ঘ সাত মাসের বেশি সময় পরে প্রার্থীরা নিয়োগপত্র পেতে যাচ্ছেন।

স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ডোপ টেস্টের কাজ দ্রুত শেষ হলেও মাঠপর্যায়ের তথ্য যাচাইপ্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত সময় লাগে। একাধিকবার পুলিশ ভেরিফিকেশন পরিচালনা এবং দেশে হঠাৎ রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে যাওয়ার কারণে পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়ায় বড় ধরনের বিলম্ব ঘটে।

দীর্ঘদিন ধরে চূড়ান্ত নিয়োগ আটকে থাকায় প্রার্থীরা গভীর অনিশ্চয়তা ও মানসিক সংকটে পড়েন। নিয়োগ দ্রুত শেষ করার দাবিতে একাধিকবার অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেন সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা। পরবর্তী সময়ে দাবির পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়ে গত ২ আগস্ট প্রার্থীরা রাজধানীর শাহবাগে রাজপথে অবস্থান নেন। আন্দোলনের সেই দিনই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় তড়িৎ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন দিনক্ষণ ঘোষণা করে অফিশিয়াল বিজ্ঞপ্তি জারি করে।

বর্তমানে দেশের ৬৫ হাজারেরও বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তীব্র শিক্ষকসংকট চলছে। অনেক স্কুলে প্রয়োজনীয় শিক্ষকের অভাবে স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। নবনির্বাচিত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন শিক্ষক নিজ নিজ জেলা ও বিদ্যালয়ে যোগ দিলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার গতি যেমন ফিরবে, তেমনি মাঠপর্যায়ের বিদ্যমান শিক্ষকসংকটও কিছুটা হলেও নিরসন হবে বলে মনে করছেন শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

Lading . . .