প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে নতুন বিধিমালা জারি, বাতিল নারী কোটা
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট, ২০২৫

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের বিধিমালায় বড় পরিবর্তন এনেছে সরকার। নারীদের জন্য পূর্বনির্ধারিত বিশেষ কোটা বাতিল করে নতুনভাবে ৭ শতাংশ কোটা রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে আলাদা শিক্ষক পদ সৃষ্টি করা হয়েছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫’ নামে এ প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিধিমালাটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরাসরি নিয়োগযোগ্য ৯৩ শতাংশ পদ মেধাভিত্তিক হবে। বাকি ৭ শতাংশ পদ কোটা হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রার্থীদের জন্য ১ শতাংশ এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীদের জন্য ১ শতাংশ। তবে কোটার আওতায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে শূন্য পদগুলো মেধার ভিত্তিতেই পূরণ করা হবে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, নিয়োগ উপজেলা ও ক্ষেত্রবিশেষে থানাভিত্তিকভাবে হবে। সরাসরি নিয়োগ ও পদোন্নতির মাধ্যমেও শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ থাকবে। বিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের জন্য ২০ শতাংশ পদ এবং অন্যান্য বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের জন্য ৮০ শতাংশ পদ সংরক্ষিত থাকবে।
পদোন্নতির ক্ষেত্রে প্রার্থীর যোগ্যতার অংশে বলা হয়, সহকারী শিক্ষক বা সহকারী শিক্ষক (সংগীত) বা সহকারী শিক্ষক (শারীরিক শিক্ষা) পদে মৌলিক প্রশিক্ষণ ও চাকরি স্থায়ীকরণসহ কমপক্ষে ১২ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হবে। অন্যদিকে, সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীর যোগ্যতায় বলা হয়, কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় অন্যূন দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএসহ স্নাতক বা স্নাতক (সম্মান) বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে। শিক্ষাজীবনে কোনো স্তরে তৃতীয় বিভাগ অথবা সমমানের জিপিএ অথবা তৃতীয় শ্রেণি অথবা সমমানের সিজিপিএ গ্রহণযোগ্য হবে না। এ ছাড়া শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালার তফসিল-২ এ বর্ণিত নিয়মে তাকে অবশ্যই লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
এর আগে ২০১৯ সালের বিধিমালা অনুযায়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে নারীদের জন্য ৬০ শতাংশ কোটা, পুরুষদের জন্য ২০ শতাংশ এবং পোষ্য কোটায় ২০ শতাংশ পদ সংরক্ষিত ছিল। নতুন বিধিমালা কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই বিধিমালা রহিত বলে গণ্য হবে।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, নারী কোটার বিলোপ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের লিঙ্গ ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষার জন্য নতুন পদ সৃষ্টি ইতিবাচক উদ্যোগ।