Advertisement

রক্তচাপ কম থাকলে ব্যায়াম বা পরিশ্রম কি করা যাবে

প্রথম আলো

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শারীরিক পরিশ্রম করার সময় আমাদের রক্তচাপ কিছুটা বাড়েছবি: প্রথম আলো
শারীরিক পরিশ্রম করার সময় আমাদের রক্তচাপ কিছুটা বাড়েছবি: প্রথম আলো

একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের স্বাভাবিক রক্তচাপ কত থাকে তা আগে জেনে নেওয়া ভালো। সিস্টোলিক রক্তচাপ ১২০ মিলিমিটার পারদের কম আর ডায়স্টোলিক রক্তচাপ ৮০ মিলিমিটার পারদের মধ্যে থাকলে তাকে স্বাভাবিক বলা যায়। সহজভাবে বলা যায়, ১২০/৮০ মিলিমিটার পারদের মধ্যে।

আর প্রাপ্তবয়স্ক কোনো মানুষের রক্তচাপ যদি ৯০/৬০ মিলিমিটার পারদের চেয়েও কম হয়, সেটি আবার স্বাভাবিক নয়।

বাংলাদেশে বহু নারীর রক্তচাপ কম থাকে। অনেকে এ ব্যাপারে ওয়াকিবহালও নন। কোনো কারণে চিকিৎসকের কাছে গেলে তখন বিষয়টা ধরা পড়ে।

শারীরিক পরিশ্রম করার সময় আমাদের রক্তচাপ কিছুটা বাড়ে। আবার আমরা যখন বিশ্রাম নিই, তখন রক্তচাপ কমে। যাঁদের আগে থেকেই রক্তচাপ কম থাকে, খানিকটা পরিশ্রমের পর থেমে যাওয়ার পর তাঁদের রক্তচাপ কমে যাওয়ার প্রভাবটা শরীরে একটু বেশিই পড়তে পারে।

রক্তচাপ বেশি কমে গেলে হৃৎপিণ্ড ও মস্তিষ্কে রক্তের প্রবাহ কমে যায়। সে কারণেই মাথা ঘোরানো বা মাথা হালকা হয়ে যাওয়ার মতো অনুভূতি হয়। চোখের সামনেটা অন্ধকার হয়ে আসে। ভারসাম্য হারিয়ে কেউ পড়েও যেতে পারেন।

শরীরচর্চা বা পরিশ্রমের কাজের সময় হুট করে অবস্থান পরিবর্তন করতে গেলেও ঘটতে পারে একই রকম ঘটনা।

শরীরচর্চা বা অন্যান্য শারীরিক পরিশ্রম করতে গিয়ে যদি এমন সমস্যার সম্মুখীন হন, তাহলে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। রক্তচাপ কম থাকা ছাড়াও হৃৎপিণ্ডের গতির অস্বাভাবিকতা, ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা কিংবা রক্তশূন্যতার কারণে এমন লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তাই সেটির কারণ খুঁজে বের করা জরুরি।

আপনার রক্তচাপ যেমনই থাকুক না কেন, সুস্থ থাকতে নিয়মিত শরীরচর্চা করাই উচিত। তবে কতটা তীব্র বা কতটা ভারী ব্যায়াম আপনার জন্য সহনীয়, সে ব্যাপারে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

কম তীব্রতার ব্যায়াম বেছে নিয়ে হলেও সেটির চর্চা চালিয়ে যান। একেবারে বাদ দেবেন না। তা ছাড়া রক্তচাপ কম থাকলেও নিরাপদে ধাপে ধাপে ব্যায়ামের তীব্রতা বাড়ানোর সুযোগ থাকে।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মেনে ব্যায়াম করুন। প্রয়োজনে ব্যায়ামের ধরন এবং ক্রম পরিবর্তন করতে হতে পারে। কিছু বিষয় খেয়াল রাখলে দৌড়ঝাঁপও করতে পারবেন, যদি না বড় কোনো জটিলতার কারণে চিকিৎসকের তরফ থেকে নিষেধাজ্ঞা থাকে।

রক্তচাপ কম থাকলে শারীরিক পরিশ্রমের কাজ কিংবা শরীরচর্চার ক্ষেত্রে এসব বিষয় খেয়াল রাখতে হবে—

সারা দিনে পর্যাপ্ত পানি খাবেন। কেবল শারীরিক পরিশ্রমের আগে তরল খাবার খাওয়াই যথেষ্ট নয়। পরিশ্রমের আগে কিছুটা তরল খাবেন, খুব বেশি নয়। পরিশ্রমের সময়ও অল্প অল্প করে তরল খাবেন।

যেকোনো ধরনের শারীরিক পরিশ্রমের সময় হুট করে মাথা তুলবেন না। শোয়া বা বসা অবস্থায় ব্যায়াম করলেও হুট করে দাঁড়িয়ে পড়বেন না।

কোনো শারীরিক শ্রম হঠাৎ থামিয়ে দেবেন না। ব্যায়ামসহ যেকোনো শারীরিক শ্রমের ক্ষেত্রেই ধীরে ধীরে থামা উচিত।

বসা বা শোয়া অবস্থায় ব্যায়াম করার মাঝে দাঁড়ানো অবস্থার ব্যায়ামে চলে যাবেন না। বসা বা শোয়া অবস্থার ব্যায়াম শেষ করে ধীরেসুস্থে দাঁড়ান। এরপর দাঁড়ানো অবস্থার ব্যায়াম শুরু করুন।

দৌড়ঝাঁপ কিংবা হাঁটার মতো ব্যায়ামে বারবার সমস্যা হলে বসে বা শুয়ে বিভিন্ন ব্যায়াম করতে পারেন। রক্তচাপ কম থাকা মানুষের জন্য সাঁতার দারুণ ব্যায়াম।

মাথা অনেকটা নিচে (হৃৎপিণ্ডের নিচে) নামিয়ে করতে হয়, এমন কাজ বা ব্যায়াম না করাই ভালো।

সূত্র: হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং, হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুল

Lading . . .