প্রকাশ: ৩০ আগস্ট, ২০২৫

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে অসময়ে কালো তরমুজ চাষে সাফল্য অর্জন করেছে উপজেলার চন্দনা গ্রামের কৃষক শরিফুল ইসলাম। ভোরের আলো ফোটার আগেই ব্যস্ত হয়ে পড়েন শরিফুল। অন্য মৌসুমে ধান বা সবজি চাষ করলেও এবার তিনি বেছে নিয়েছেন ভিন্ন পথ। অসময়ে কালো তরমুজ চাষ।
সরজমিনে দেখা যায়, শরিফুলের তরমুজের মাঠজুড়ে থোকায় থোকায় ঝুলছে কালো তরমুজ। বর্তমানে আধুনিক চাষ ব্যবস্থা মালচিং পদ্ধতিতে চাষ করা হয়েছে কালো জাতের তরমুজ। অসময়ে উৎপাদন ও সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে এর চাহিদাও বেশি। উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতা ও আধুনিক মালচিং প্রযুক্তির মাধ্যমে আড়াই বিঘা জমিতে তিনি গড়ে তুলেছেন তরমুজের খামার। সবুজের সমারোহ দেখে চোখ জুড়িয়ে যায় সবার। মাঠে গাঢ় সবুজ পাতার নিচে উঁকি দিচ্ছে তরমুজ, যা দেখে শরিফুল ইসলামের চোখেমুখে ফুটে উঠছে নতুন স্বপ্ন।
শরিফুল ইসলাম বলেন, সাত বছর আগে ইউটিউব দেখে আমি কালো তরমুজ চাষে আগ্রহী হই। প্রথমে ভেবেছিলাম এত খরচ করে লাভ করা কঠিন হবে। কিন্তু কৃষি অফিসারদের পরামর্শে সাহস পাই। তারা নিয়মিত মাঠে এসে নির্দেশনা দিয়েছেন। এখন জমিতে ফল আসতে শুরু করেছে। আমি এ বছর তিন বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। ইতিমধ্যে ১ বিঘা জমি থেকে ৯০ মন তরমুজ বিক্রি করেছি ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে। আশা করছি, প্রতিবিঘা জমি থেকে খরচ বাদে দুই থেকে তিন লাখ টাকা লাভ হবে এ বছর।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মতো গ্রামের কৃষকদের জন্য এটা বড় আশা। আগে ভাবতাম শুধু মৌসুমেই তরমুজ হয়। এখন বুঝতে পারছি প্রযুক্তি ব্যবহার করলে এবং আল্লাহ চাইলে অসময়েও সম্ভব।’ চন্দনা গ্রামের আরও কয়েকজন কৃষক জানান, মাঠে তরমুজ চাষে শরিফুল ইসলামের সাফল্য দেখে তারাও উৎসাহিত হচ্ছেন তরমুজ চাষে।
নাচোল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সলেহ্ আকরাম বলেন, ‘অসময়ে তরমুজ চাষ আমাদের জন্য একটি বৈপ্লবিক পদক্ষেপ। সাধারণত তরমুজ গ্রীষ্মকালের ফসল হলেও আধুনিক মালচিং প্রযুক্তির মাধ্যমে এটি এখন শীতকালেও উৎপাদন সম্ভব হয়েছে। এতে শুধু ফলনের মানই বাড়ছে না, বরং রোগবালাইও অনেকটা কমে যাচ্ছে। আরডিএডিপি প্রকল্পের আওতায় আমরা কৃষকদের এই প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত করছি। শরিফুল ইসলামের খেতটি এ অঞ্চলের জন্য একটি মডেল হতে পারে।’ নাচোলের চন্দনা গ্রামে অসময়ে তরমুজ চাষের এ সাফল্য কৃষিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। সঠিক পরিচর্যা, সরকারি সহায়তা ও বাজার ব্যবস্থাপনা ঠিকভাবে হলে এ উদ্যোগ শিগগিরই বৃহত্তর চাঁপাইনবাবগঞ্জকে দেশের তরমুজ উৎপাদনে শীর্ষ স্থানে পৌঁছে দিতে পারে বলে স্থানীয়দের দাবি।
আরও পড়ুন