Advertisement

বোর্ড সভা ডেকে বাতিল করল বিএমডিএ, ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া

যুগান্তর

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট, ২০২৫

24obnd

বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) ৮৬তম সাধারণ সভা আকস্মিকভাবে বাতিল করা হয়েছে। চেয়ারম্যানের অবর্তমানে আইনবিধি লঙ্ঘন করে রাজশাহী সফররত কৃষি সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ানকে সভাপতি করে শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে বিএমডিএর এ বোর্ড সভা করতে চেয়েছিলেন কর্মকর্তারা। তবে শেষাবধি কোনো অগ্রিম নোটিশ ছাড়াই বোর্ড সভা বাতিল করা হয়।

এদিকে বোর্ড সভায় অংশগ্রহণের জন্য নির্ধারিত সময়ে বিএমডিএর প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন একাধিক পরিচালনা বোর্ডের সদস্য। এর মধ্যে তিন বেসরকারি বোর্ড সদস্যও হাজির হয়েছিলেন সভায় অংশ নিতে। সভা বাতিল করা হয়েছে জানতে পেরে তারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

বোর্ড সদস্যরা বলেন, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় একটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সরকারি এ সংস্থার সামগ্রিক কার্যক্রমের ওপর। মন্ত্রণালয়ের সচিবকে সভাপতি করে বোর্ড সভা করতে চেয়েছিলেন বিএমডিএর কতিপয় কর্মকর্তা। পরে তারা সেটা বাতিল করেছেন।

সূত্রে জানা গেছে, ২৭ আগস্ট বুধবার বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) তরিকুল ইসলাম সংস্থার ৮৬তম বোর্ড সভা আহ্বান করেন।

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) বেলা ১১টার বোর্ড সভায় সব সদস্যকে উপস্থিত ও অংশগ্রহণের জন্য নোটিশ জারি ছাড়াও প্রত্যেককে পৃথকভাবে চিঠি পাঠানো হয়। বোর্ড সভায় চেয়ারম্যানের অবর্তমানে রাজশাহী সফররত কৃষি সচিব বোর্ড সভাপতিত্ব করবেন বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

সেই সূত্রে বোর্ড সভার সদস্যরা শুক্রবার সকালে নির্ধারিত সময়ে নগরীর আমবাগান এলাকার বিএমডিএর প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত হন।

নির্বাহী পরিচালক ও বিএমডিএর সচিবের দপ্তরের কর্মচারীরা তাদের জানান, বোর্ড সভাটি বাতিল করা হয়েছে। অনেকেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বোর্ড সভায় অংশ নিতে রাজশাহীতে যান। বোর্ড সভা বাতিলের খবরে তারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। একপর্যায়ে তারা কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ না করেই বিএমডিএ ভবন ত্যাগ করেন।

বিএমডিএর পরিচালনা বোর্ডের সভার অন্যতম সদস্য সাইফুল ইসলাম হিরক ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য শুক্রবারও এলাকায় আমার অনেক কর্মসূচি থাকে। আমি সব কর্মসূচি বন্ধ রেখে বোর্ড সভায় অংশ নিতে এসে শুনলাম বোর্ড সভা বাতিল করা হয়েছে। অথচ আমাদের বিএমডিএর সচিব অথবা নির্বাহী পরিচালকের দপ্তর থেকে কেউ কিছুই জানায়নি আগে। আমি ছাড়াও বোর্ড সভার আরও দুই সদস্য মিসেস বদরুল লাইলী ও মো. জাফরুল্লাহ সাহেবকেও কিছুই জানানো হয়নি। এসব প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা। বোর্ড সভা বাতিল করা হলে সেটা আমাদের ফোনে জানালেই হতো। আমরা আসতাম না।

পরিচালনা বোর্ডের এই সদস্য জানান, ২৩ মে বিএমডিএর চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান সাহেব প্রয়াত হয়েছেন। আমরা বিএমডিএর সামগ্রিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য দ্রুত চেয়ারম্যান নিয়োগের জন্য কৃষি উপদেষ্টা মহোদয়ের কাছে দাবি করেছিলাম।

তিনি বলেছিলেন-দ্রুত চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হবে। অথচ আজও বিএমডিএতে চেয়ারম্যান নিয়োগ করা হয়নি। কৃষি উপদেষ্টা মহোদয় প্রতি মাসে বোর্ড সভা করার নির্দেশ দিয়েছেন, সেটাও কার্যকর হয়নি। চেয়ারম্যান ছাড়াই বিএমডিএর কার্যক্রম পরিচালনায় সংকট তৈরি হচ্ছে।

বোর্ড সভার আরেক সদস্য মিসেস বদরুল লাইলী জানান, আইন অনুযায়ী, বোর্ড সভায় সভাপতিত্ব করার কথা চেয়ারম্যানের। আইন অনুযায়ী তার অবর্তমানে পরিচালনা বোর্ডের কোনো সদস্য সভাপতির দায়িত্ব পালন করতে পারেন; কিন্তু বিএমডিএর কর্মকর্তারা আইন লঙ্ঘন করে মন্ত্রণালয়ের সচিবকে সভাপতি করে বোর্ড সভা করতে চেয়েছিলেন। বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিবাদ হওয়ায় বোর্ড সভাটি বাতিল করা হয়েছে বলে বুঝতে পারছি।

তিনি জানান, আইন অনুযায়ী প্রতি তিন মাসে একবার বোর্ড সভা করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সর্বশেষ বোর্ড সভা হয়েছিল গত ১৫ মে।

সদস্যদের কাউকে না জানিয়ে বোর্ড সভা বাতিলের বিষয়ে কথা বলতে চাইলে বরেন্দ্র বহমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক তরিকুল ইসলামের দপ্তরে তার ব্যক্তিগত সহকারী নুরুল ইসলাম জানান, স্যার মন্ত্রণালয়ের সচিব মহোদয়ের সঙ্গে ভবনের দুই তলায় রয়েছেন। এখন তিনি কথা বলতে পারবেন না।

আরও পড়ুন

Lading . . .