৬ কেজি গাঁজা ‘আত্মসাতের’ অভিযোগ বিএনপির তিন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে, তদন্তে পুলিশ
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট, ২০২৫

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার তিন বিএনপি নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে এক ব্যক্তিকে আটক করে ছয় কেজি গাঁজা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার সন্ধায়। তবে আজ শুক্রবার ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় (ভাইরাল) বিষয়টি সবার নজরে আসে। গাঁজা বহনের দায়ে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।
গাঁজা আত্মসাতে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হচ্ছেন উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শামিম হোসেন, গোপালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামিম খান ও বিএনপি কর্মী সুজন আলী। তাঁরা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
গাঁজা উদ্ধারের ঘটনায় আটক এক ব্যক্তির নাম রবিউল ইসলাম (৩৯)। তিনি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মানিক দিয়াড় গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছে।
শুক্রবার ‘নাটোর সময়’ নামের একটি ফেসবুক পেজে দেওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন বিএনপি কর্মী দুই ব্যক্তিকে একটি কালো হাতব্যাগসহ ধরে রেখেছেন। তাঁদের ঘিরে রয়েছেন অন্তত ১০ থেকে ১২ জন। কয়েকজন ব্যক্তির অনুরোধে একজন ওই কালো ব্যাগ খুলে দেখান। এ সময় ব্যাগে পলিথিনে মোড়ানো ছয় পোঁটলা গাঁজা দেখা যায়। একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘ওসি সাহেব আসছেন, ব্যাগ বন্ধ করো।’
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর সূত্র ধরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার গোপালপুর কবরস্থানের পাশে রাজাপুর-জোনাইল আঞ্চলিক সড়কে স্থানীয় লোকজন গাঁজা বহনের সন্দেহে দুজনকে আটক করেন। পরে তল্লাশি করে তাঁদের হেফাজতে থাকা একটি ব্যাগে ছয় কেজি গাঁজা পাওয়া যায়। এ সময় স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাঁদের রাজাপুর বাজারে বিএনপি কার্যালয়ে নিয়ে যান। কিছু সময় পর সেখানে বড়াইগ্রাম থানার পুলিশ এলে তাঁরা কাউকে গাঁজাসহ আটক করার বিষয়টি অস্বীকার করেন। পুলিশ চাপাচাপি শুরু করলে রবিউল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে ৫০ গ্রাম গাঁজাসহ ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে। অপরজনকে পুলিশ আসার আগেই ছেড়ে দেওয়া হয়।
রাজাপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল্লাহ হোসেন বলেন, ‘আমি কারখানায় কাজ করার সময় প্রতিবেশী নাইম হোসেন ফোন দিয়ে জানায় গাঁজাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খবর পেয়ে আমি দ্রুত সেখানে গিয়ে দেখি একটি কালো রঙের ব্যাগের ভেতরে ছয় প্যাকেট গাজাসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করে মারপিট করছেন কয়েকজন ব্যক্তি। আমি সেখান থেকে তাঁদের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপির পার্টি অফিসে যাই। আটক দুই ব্যক্তিকে সেখানে রেখে আমি বাড়ি চলে যাই।’
আব্দুর গফুর নামের এক ব্যাক্তি বলেন, ‘ঘটনার সময় দুজনকে আটক করা হয়েছিল। তাঁদের কাছে থাকা ব্যাগে ছয় প্যাকেট গাঁজা ছিল। ওজন করা হয়নি। তবে প্রতি প্যাকেটে আনুমানিক এক কেজি করে গাঁজা ছিল।’
বিএনপি কর্মী সুজন আলী গাঁজা আত্মসাৎ করার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘কয়েকজন লোক একটা ব্যাগসহ একজনকে বিএনপি অফিসে আনছিল। লোকজন মারপিট করতে পারে, এই ভেবে তাঁকে অফিসে বসিয়ে রেখেছি। পরে পুলিশ এসে তাঁকে নিয়ে গেছে।’
এ বিষয়ে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শামিম হোসেন মুঠোফোনে বলেন, ‘আমি পরে ঘটনাস্থলে গেছি। ব্যাগে কতটুকু গাঁজা ছিল বলতে পারব না।’ একজনকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আটক করার সময় তো আমি ছিলাম না। তাই কাউকে ছেড়ে দিয়েছে কি না, বলতে পারব না। আমি একজনকে দেখেছি। ঘটনার সময় বহু লোক ছিল। কে কী করেছে জানি না।’
বড়াইগ্রাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহাবুবুর রহমান জানান, ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে এক ব্যক্তি জানান রাজাপুর এলাকায় পাঁচ কেজি গাজাসহ দুজনকে আটক করা হয়েছে। তখন তিনি নিজে পুলিশের এক উপপরিদর্শক ও পাঁচজন সদস্যকে নিয়ে বিএনপির স্থানীয় কার্যালয়ে যান। সেখানে গেলে কয়েকজন বিএনপি নেতা–কর্মী জানান, কোনো গাঁজা উদ্ধার বা কাউকে আটক করা হয়নি।
পুলিশ কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান আরও বলেন, ‘আমি বিষয়টি নিয়ে চাপাচাপি করলে একজনকে আমাদের হাতে তুলে দেয়। গাঁজা ছাড়া আসামি নিতে না চাইলে একটি ব্যাগের ভেতরে কালো পলিথিনে মোড়ানো গাঁজা দেয়। হয়তো ৫০ থেকে ৬০ গ্রাম হতে পারে। আমরা উপস্থিত জনগণের সামনে দেখিয়ে একজনকে আটক করে থানায় নিয়ে এসে মামলা করি। তদন্ত করে গাঁজা আত্মসাতের বিষয়টি উদ্ঘাটন করা হবে।’