রংপুরে জাতীয় পার্টি-গণঅধিকার পরিষদের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, নগরজুড়ে উত্তেজনা
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট, ২০২৫

জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের পালটাপালটি মিছিল-সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি ঘিরে দিনভর রংপুর নগরীতে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। গতকাল রাতেই জাতীয় পার্টির জেলা ও মহানগরের শীর্ষ নেতারা ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে নেতাকর্মীদের নগরীর দলীয় কার্যালয়ে সকাল ১১টার মধ্যে জমায়েত ডাকেন।
অপরদিকে গণঅধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে বেলা ১টার দিকে দলীয় কার্যালয়ের সামনে শাহী মসজিদের গলিতে জমায়েত ডাকা হয়।
শুক্রবার ঢাকায় গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে জাতীয় পার্টি, সেনাবাহিনী ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় দু’টি দলেই এ কর্মসূচি ঘোষণা করে।
এদিকে এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির রংপুরের সাবেক মেয়র ও দলের কো-চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার মোস্তফা বলেছেন, এখন যদি নির্বাচন হয় তাহলে বিএনপি সরকারে আসবে। বিএনপি যাতে ক্ষমতায় আসতে না পারে এজন্য বিএনপিকে কিভাবে আলাদা করে রাখা যায়।
তিনি বলেন, বিশেষ করে স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি বিএনপিকে কালার করার চেষ্টা করছে। তারা নির্বাচনে বিএনপিকে ভয় পায়। তাই নানা ষড়যন্ত্র করে বিএনপির জনপ্রিয়তায় ধস নামানোর জন্য তারা চেষ্টা করছে। এটা একটি মুক্তিযুদ্ধের শক্তির ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা বলে মনে করি। নির্বাচন পেছানো এবং বিএনপির ভাবমুর্তি নষ্টের কাজে তারা ব্যস্ত আছে।
দু’টি দলের কর্মসূচির মধ্যে দুপুরের পরে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা তাদের দলীয় কার্যালয় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।
মিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে শহিদ আবু সাঈদ চত্ত্বরে গিয়ে নগরীর প্রবেশ দ্বার অর্জন (মর্ডান) মোড়ে কিছুক্ষণ ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে।
এ সময় ওই সড়ক পথে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে সেখান থেকে দলের নেতাকর্মীরা অবরোধ তুলে নেন।
এদিকে সকাল থেকে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা তাদের দলীয় কার্যালয়ে শক্ত অবস্থান নিয়ে বসে থাকেন। নগরজুড়ে গুজব ছড়িয়ে পড়ে জাতীয় পার্টি অফিসে গণঅধিকার পরেষদের নেতাকর্মীরা হামলা চালাতে পারে। এ খবর শোনার পর জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা আরও জমায়েত বাড়িয়ে দেয় এবং প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুতি গ্রহণ করে।
এ নিয়ে নগরীতে দিনভর উত্তেজনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সংঘাত ছাড়াই দল দু’টি তাদের কর্মসূচি পালন করেছে। ফলে নগরীতে জনজীবনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
বিকালে জাতীয় পার্টিও অফিসে দলটির পক্ষে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দলের কো-চেয়ারম্যান রংপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর তার কার্যকলাপের কারণে কোথাও গিয়ে আটক হচ্ছে, আবার যেখানে সেখানে মার খায়।
মোস্তফা আরও বলেন, এই ভিপি নুর এক সময় আওয়ামীলীগের সভানেত্রী ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘মা’ বলে পা ছুঁয়ে সালাম করেছিলো। অথচ এখন তারাই হয়ে গেছে ফ্যাসিস্ট বিরোধী শক্তির হাতিয়ার। আমরা যারা নির্বাচন করেছি, তারা হয়ে গেছি ফ্যাসিস্টদের দোসর। এই হলো বর্তমান অবস্থা। ২০১৪ সালে যখন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানকে তুলে সিএমএস নিয়ে গেলো তখন একটা দলও তার পক্ষে কথা বললো না।
তিনি বলেন, কেউ যদি মনে করে রংপুরে জাতীয় পার্টি দুর্বল, তাহলে একবার এসে দেখুক। তাদের যদি শক্তিসামর্থ থাকে, আরও যদি তাদের কেউ থাকে, তাদের নিয়ে আসুক। তাদের হাত পা ভেঙে দেবো। আমরা রংপুরের রাজনীতি করি। আমাদের শরীরে এক বিন্দু রক্ত থাকা পর্যন্ত আমরা লড়াই করে যাবো। আমরা অন্যায়কে বরদাস্ত করবো না, আমরা কাউকে ছাড়ও দিবো না। আমাদের পার্টি অফিস রক্ষা করবো। এতে আমি জেলে যেতে পারি, আমি মারাও যেতে পারি। তবু অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিগত সময়েও জাতীয় পার্টি একাই নির্বাচন করেছে, আগামীতে একাই নির্বাচন করবে। নিজস্ব শক্তিতে বলিয়ান হয়ে জাতীয় পার্টি মাঠে লড়বে।
এ সময় জাতীয় পার্টির কার্যালয় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর মহানগর সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসীর, জাতীয় পার্টি প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর জেলার আহ্বায়ক মোহাম্মদ আজমল হোসেন লেবুসহ জাতীয় পার্টির মহানগর ও জেলার সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
আরও পড়ুন