Advertisement

এই ছোট্ট ৭ অভ্যাসই পারে দাম্পত্য জীবনে সুখ এনে দিতে

প্রথম আলো

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সম্পর্ক বাঁচিয়ে রাখে একেবারেই সাধারণ কিছু অভ্যাসছবি: প্রথম আলো
সম্পর্ক বাঁচিয়ে রাখে একেবারেই সাধারণ কিছু অভ্যাসছবি: প্রথম আলো

বছরের পর বছর একসঙ্গে থাকার পর অনেকেই ধরে নেন, সঙ্গীকে আবার ‘ধন্যবাদ’ বলার কী আছে? কিন্তু দীর্ঘ ৪০-৫০ বছরের সুখী দাম্পত্যে থাকা অনেক দম্পতির অভিজ্ঞতা ঠিক উল্টো কথা বলে।

এক কাপ চা বানানো, খাওয়ার পর দুজন মিলে বাসনকোসন ধোয়া, বাজার করা কিংবা দরজা বন্ধ করা—এমন ছোট কাজের জন্যও তাঁরা একে অপরকে ধন্যবাদ জানান। কারণ, সম্পর্কে সম্মান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর সম্পর্ককে ‘টেকেন ফর গ্রান্টেড’ হিসেবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

অনেকেই ভাবেন, সুখী দম্পতিরা খুব কম ঝগড়া করেন। বাস্তবতা ভিন্ন। সুখী সম্পর্ক মানে ঝগড়াহীন সম্পর্ক নয়; বরং মতবিরোধের পরও একে অপরকে সম্মান করা, দুজনে মিলে সমস্যার বিরুদ্ধে লড়া। মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, সম্পর্কে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ‘আমি কি ঠিক?’ নয়; বরং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, ‘আমরা কি সমস্যার সমাধান করছি?’

বিয়ের পর অনেকেই ভাবেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গী বদলে যাবে। বা সঙ্গীর এই নির্দিষ্ট স্বভাব বদলে যাবে। কিন্তু দীর্ঘদিন সুখে থাকা দম্পতিরা বলেন, সঙ্গীকে তাঁর মতো করেই গ্রহণ করতে হয়।

একটি সুস্থ সম্পর্কের মানে এই নয় যে দুজন ব্যক্তি সব সময় একই কাজ করবেন, একই বন্ধু থাকবে কিংবা একই রকম চিন্তা করবেন; বরং সুখী দম্পতিরা একে অপরের ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান করেন। নিজস্ব শখ, বন্ধুত্ব কিংবা ক্যারিয়ার—এসব সম্পর্ককে সুস্থ রাখে। কারণ, এসবই একজন ব্যক্তিকে পরিপূর্ণতা দেয়। আর একজন পরিপূর্ণ মানুষই আরেকজনের সঙ্গে পরিপূর্ণ সম্পর্ক গড়তে পারেন।

প্রতিদিন কয়েক মিনিট মন খুলে কথা বলার অভ্যাস সম্পর্ককে অনেক গভীর করে। আজ সারা দিন কেমন গেল, কী নিয়ে চিন্তা হচ্ছে, কোন বিষয়টা আনন্দ দিয়েছে—এসব ছোট ছোট কথাই আবেগকে প্রতিদিন বয়ে নিয়ে চলে।

ভুল হবেই। দীর্ঘদিন সুখে থাকা দম্পতিরা বলেন, প্রতিটি ভুলের জন্য সঙ্গীকে ‘আদালতের কাঠগড়া’য় দাঁড় করলে সম্পর্ক ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তাই নিজের ভুল বুঝতে পারার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমা চাইতে হবে, আবার ক্ষমা করতেও হবে।

অনেকে মনে করেন, ভালোবাসা কেবল একটা অনুভূতি। মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, ভালোবাসা আবেগের চেয়েও বেশি করে প্রতিদিনের সচেতন সিদ্ধান্ত, দায়িত্ব। আজও কি আমি সঙ্গীর পাশে দাঁড়াব? আজও কি আমি তাঁকে সম্মান করব? আজও কি আমি তাঁর কথা মন দিয়ে শুনব?

এসব প্রশ্নের উত্তরে প্রতিদিন ‘হ্যাঁ’ বলতে পারাই দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের শক্তি।

সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট

Lading . . .