বাভুমা-মিলারের ব্যাটে অজিদের বিপক্ষে রানবন্যা, একসঙ্গে দুই সেঞ্চুরি
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জোহানেসবার্গ ওয়ানডেতে ব্যাট হাতে ঝড় তুলেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা ও ডেভিড মিলারের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ৩৬৫ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়েছে প্রোটিয়ারা।
দলের শুরুটা অবশ্য ছিল বেশ নড়বড়ে। ইনিংসের প্রথম বলেই জশ হ্যাজলউডের শিকার হয়ে ফেরেন এইডেন মার্করাম। এরপর কুইন্টন ডি ককও বেশি সময় ক্রিজে টিকতে পারেননি। মাত্র ৩৬ রানে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা।
সেখান থেকে দলের হাল ধরেন বাভুমা। ম্যাথু ব্রিটস্কির সঙ্গে জুটি গড়ে প্রাথমিক বিপর্যয় সামাল দেওয়ার পর ক্রিজে আসেন ডেভিড মিলার। শুরুতে
_সেঞ্চুরির পর বাভুমার উদযাপন।
বেশ সতর্ক ছিলেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। প্রথম পাঁচ বলেই কোনো রান করতে পারেননি তিনি। ১০ বল খেলে ৫ রান করার পর অবশ্য অ্যাডাম জ্যাম্পার বলে ছক্কা ও চার মেরে নিজের খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসেন।
এরপর ধীরে ধীরে ভয়ংকর হয়ে ওঠে মিলারের ব্যাট। ৪৫ বলে ফিফটি পূর্ণ করার পর অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের ওপর চড়াও হন তিনি। ৭৩ বলে শতক পূর্ণ করেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। সেঞ্চুরি করার পর যেন আরও বিধ্বংসী হয়ে ওঠেন মিলার। পরের ২৮ বলেই তুলে নেন আরও ৫০ রান।
শেষ পর্যন্ত ৯৩ বলে ১৪২ রানের ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস খেলেন মিলার। তার ইনিংসে ছিল ১২টি চার ও ৯টি ছক্কা। ২০১৮ সালে হোবার্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেই করা ১৩৯ রান ছিল ওয়ানডেতে তার আগের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ। একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এবার সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছালেন তিনি।
মিলারের এই ইনিংসটি ছিল তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি। দীর্ঘ বিরতির পর ওয়ানডেতে ফিরে এমন বিস্ফোরক ইনিংস খেললেন তিনি।
_সেঞ্চুরির পর মিলারের উদযাপন
২০২৫ সালের মে মাসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরির পর দীর্ঘ সময় এই ফরম্যাটে ছিলেন না মিলার। সিরিজের প্রথম ম্যাচে ফিরলেও ব্যাট হাতে করেছিলেন মাত্র ৯ রান। দ্বিতীয় ম্যাচেই অবশ্য দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে নিজের সামর্থ্যের জানান দিলেন তিনি।
মিলারের সঙ্গে অসাধারণ জুটি গড়েন অধিনায়ক বাভুমা। শুরুতে দলের বিপর্যয় সামলে পরে তিনিও ব্যাট চালান আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে। ১১৬ বলে ১০টি চার ও দুটি ছক্কার সাহায্যে ১০৩ রান করেন বাভুমা। তার সেঞ্চুরিও আসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ এক রেকর্ডের সঙ্গে।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডেতে অধিনায়ক হিসেবে এটি বাভুমার দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। ফলে এমএস ধোনি, বাবর আজম ও স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের সঙ্গে একই তালিকায় জায়গা করে নেন তিনি। এই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে অধিনায়ক হিসেবে সবচেয়ে বেশি তিনটি করে সেঞ্চুরি রয়েছে ফাফ ডু প্লেসি ও বিরাট কোহলির।
বাভুমা ও মিলার চতুর্থ উইকেটে গড়েন ১৫৬ রানের দারুণ জুটি। এই জুটিই দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেয়। বাভুমা ২৪৯ রানে আউট হওয়ার পরও থামেনি মিলারের তাণ্ডব। একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দলকে তিনশর ওপারে নিয়ে যান তিনি।
শেষ পর্যন্ত জ্যাক এডওয়ার্ডসের বলে ক্যামেরন গ্রিনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ১৪২ রানে থামেন মিলার। তার উইকেটটি ছিল এডওয়ার্ডসের ইনিংসের পঞ্চম শিকার। ক্যারিয়ারের মাত্র দ্বিতীয় ওয়ানডেতেই পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েন অস্ট্রেলিয়ার এই পেসার।
দুই সেঞ্চুরিতে ভর করে ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ৩৬৫ রান সংগ্রহ করে দক্ষিণ আফ্রিকা। ফলে অস্ট্রেলিয়ার সামনে জোহানেসবার্গ ওয়ানডেতে দাঁড়ায় বড় লক্ষ্য। বাভুমা ও মিলারের ব্যাটিংয়ে ম্যাচের প্রথম ইনিংসেই রীতিমতো রানবন্যা দেখা যায় ওয়ান্ডারার্সে।
আরও পড়ুন


