মাঠের লড়াই শেষ, এবার পর্তুগাল ফুটবলের ক্ষমতার কেন্দ্রে পেপে!
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর, ২০২৬

দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ফুটবল মাঠে প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামলেছেন, জিতেছেন ইউরোপের সর্বোচ্চ পর্যায়ের একাধিক শিরোপা। এবার মাঠের বাইরের নতুন অধ্যায় শুরু করলেন পর্তুগালের সাবেক তারকা ডিফেন্ডার পেপে। পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের (এফপিএফ) অধীন ফাউন্ডেশনের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাবেক এই ফুটবলার।
সোমবার (১২ অক্টোবর) পেপের নতুন দায়িত্বের খবর প্রকাশ করে পর্তুগালের একাধিক সংবাদমাধ্যম। আন্তর্জাতিক ফুটবল সংবাদমাধ্যম গোল ডটকমও মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এর মধ্য দিয়ে খেলোয়াড়ি জীবনের ইতি টানার দুই বছরের বেশি সময় পর ফুটবল প্রশাসনে নতুন ভূমিকায় যুক্ত হলেন ৪৩ বছর বয়সী এই সাবেক ডিফেন্ডার।
পর্তুগালের জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘদিন খেলা পেপে ২০২৪ সালের আগস্টে পেশাদার ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন। মাঠের লড়াইয়ে তাঁর আগ্রাসী মনোভাব, শক্তিশালী রক্ষণভাগ এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে কার্যকর ভূমিকা তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছিল। এবার সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর সুযোগ পাচ্ছেন ফুটবলের প্রশাসনিক ও সামাজিক কার্যক্রমে।
পেপের নতুন দায়িত্বটি অবশ্য পর্তুগাল জাতীয় দলের কোচিং স্টাফে নয়। তিনি যুক্ত হয়েছেন এফপিএফ ফাউন্ডেশনের পরিচালনা পর্ষদে। ফুটবলকে কেন্দ্র করে সামাজিক উন্নয়ন, মানুষের অন্তর্ভুক্তি এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়াই এই ফাউন্ডেশনের কাজের অন্যতম লক্ষ্য। ফলে তাঁর নতুন ভূমিকা সরাসরি মাঠের কৌশল নির্ধারণের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, বরং ফুটবলের সামাজিক প্রভাব বাড়ানোর সঙ্গে যুক্ত।
রিয়াল মাদ্রিদে সাফল্যের সোনালি অধ্যায়
পেপের ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় সময় কেটেছে স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদে। ২০০৭ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এক দশক ক্লাবটির হয়ে খেলেছেন তিনি। এ সময়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৩৪টি ম্যাচে মাঠে নেমে জিতেছেন ১৪টি শিরোপা।
রিয়ালের হয়ে তিনবার উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের পাশাপাশি তিনটি লা লিগা, দুটি কোপা দেল রে, একটি ক্লাব বিশ্বকাপ, দুটি উয়েফা সুপার কাপ এবং দুটি স্প্যানিশ সুপার কাপ জিতেছেন এই পর্তুগিজ ডিফেন্ডার।
রক্ষণভাগে সার্জিও রামোসের সঙ্গে তাঁর জুটি একসময় ইউরোপীয় ফুটবলে বেশ আলোচিত ছিল। প্রতিপক্ষের আক্রমণ প্রতিহত করার দক্ষতা, শারীরিক শক্তি এবং দ্রুত পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাঁকে রিয়ালের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ে পরিণত করেছিল। কোচ হোসে মরিনিওর অধীনেও খেলেছেন তিনি।
পর্তুগালের ইতিহাস গড়ার সঙ্গী
জাতীয় দলের হয়েও পেপের অর্জনের তালিকা দীর্ঘ। পর্তুগালের হয়ে ১৪১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন তিনি। ২০১৬ সালে ফ্রান্সকে হারিয়ে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জেতে পর্তুগাল। দেশটির ফুটবল ইতিহাসে সেটিই ছিল প্রথম ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জয়। সেই ঐতিহাসিক সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল পেপের।
এরপর ২০১৯ সালে উয়েফা নেশনস লিগের প্রথম আসরেও শিরোপা জেতে পর্তুগাল। জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ সময় খেলেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে। মাঠে দুজনের এই দীর্ঘ পথচলাকে ঘিরে তাঁদের বন্ধুত্বের বিষয়টিও ফুটবলপ্রেমীদের কাছে পরিচিত।
২০২৪ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিয়ে আরও একটি রেকর্ড গড়েন পেপে। ফ্রান্সের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে তাঁর বয়স ছিল ৪১ বছর ১৩০ দিন। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের চূড়ান্ত পর্বে ম্যাচ খেলা সবচেয়ে বেশি বয়সী ফুটবলার হিসেবে রেকর্ড গড়েন তিনি।
কোচিংয়ে নয়, প্রশাসনে নতুন যাত্রা
খেলোয়াড়ি জীবন শেষ হওয়ার পর পেপেকে ঘিরে কোচিংয়ে যুক্ত হওয়ার আলোচনা হয়েছিল। গোল ডটকমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিয়াল মাদ্রিদে মরিনিওর কোচিং স্টাফে এবং পর্তুগাল জাতীয় দলে জর্জ জেসুসের সঙ্গে কাজ করার সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছিল। তবে সেসব সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হয়নি।
এবার ফাউন্ডেশনের পরিচালনা পর্ষদে যোগ দিয়ে ফুটবলের সঙ্গে নতুনভাবে যুক্ত হলেন তিনি। তাঁর দীর্ঘ আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও খেলোয়াড়ি জীবনে অর্জিত পরিচিতি ফাউন্ডেশনের সামাজিক উদ্যোগে কাজে লাগতে পারে।
ফুটবল মাঠে পেপের পরিচিতি গড়ে উঠেছিল প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকানো এবং বড় ম্যাচে দৃঢ়তা দেখানোর মধ্য দিয়ে। এখন মাঠের বাইরে নতুন দায়িত্বে তাঁর অভিজ্ঞতা কীভাবে কাজে লাগে, সেটিই দেখার বিষয়।
Sources: Goal.com, A Bola, Zerozero.pt, Fundação FPF
আরও পড়ুন


