Advertisement

‘আমি কখনো কাউকে ফিরিয়ে দিই না’

যুগান্তর

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট, ২০২৫

ইধিকা পাল। ছবি: সংগৃহীত
ইধিকা পাল। ছবি: সংগৃহীত

টালিউড অভিনেত্রী ইধিকা পাল দিন দিন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন। ঢালিউড অভিনেতা শাকিব খানের সঙ্গে জুটি হয়ে ‘প্রিয়তমা’ সিনেমায় অভিনয়ের পর থেকেই ইধিকা পাল সবখানেই দাপটের সঙ্গে কাজ করে চলেছেন। তাই টালিউডে তার নাম হয়েছে বাংলার ক্রাশ’।

‘পিলু’ ধারাবাহিক শেষ হওয়ার পর আর ছোটপর্দায় দেখা যায়নি তাকে। এরপর একের পর এক সিনেমায় অভিনয় করে চলেছেন তিনি। তার সেই সাফল্যই প্রমাণ করেছে সত্যিই তিনি ‘বাংলার ক্রাশ’। তিনি কারও ‘প্রিয়তমা’ হয়েছেন, আবার কারও কাছে ‘কিশোরী’। বিপরীতে কখনো শাকিব খান, কখনো দেব, আবার কখনো সোহম চক্রবর্তীর মতো নায়করা জুটি হয়ে কাজ করছেন। এভাবেই অভিনেত্রী ইধিকা পালের ঝুলিতে একের পর এক বড়পর্দার কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে সেই দিনগুলোর কথা খোলাসা করে বলেছেন অভিনেত্রী।

ইধিকা পালন বলেন, পূজাটা আমার কাছে শাসন থেকে মুক্তির মতো। আমার বেড়ে ওঠা দক্ষিণ কলকাতায়। যেখানে প্রতি দুই পা অন্তর বড় বড় পূজা। কিন্তু সত্যি বলতে ভিড় আমার ভালো লাগত না। যে কারণে সেভাবে ‘প্যান্ডেল হপিং’ করে ওঠা হয়নি আমার। যদিও এখন অবশ্য উল্টো। ভিড় ভালো লাগে। লোকে যখন চিনতে পারে, অটোগ্রাফ চায় ভালো লাগে। নাহ, বড়বেলার কথা থাক। একটু ছোটবেলায় ফিরে যাই।

অভিনেত্রী বলেন, আমি ছোট থেকে বেশ শাসনেই বড় হয়েছি। একদম ছোটবেলায় বাবার হাত ধরে বেড়াতাম। যে কটা মণ্ডপ দেখার, দেখিয়ে দিয়ে সেই বাড়িতেই। তবে একটু বড় হতেই বন্ধুদের সঙ্গে রাতে বেরোনোর ছাড়পত্র পেলাম। আর যেটা পেলাম, সেটা হলো হাত খরচ। এমনিতে সারাবছর তো সেসব পেতাম না, বাড়ি থেকে বেরোনোর অনুমতি ছিল না। পূজার কটা দিন তাই দারুণ মজা।

তিনি বলেন, সেই সময় হোটেলে খাওয়া থেকে কলকাতা ঘোরা সব চেটেপুটে উপভোগ করতাম। অনেকে অবশ্য পূজার সময় প্রেম করত। আমি সুযোগ পাইনি। কারণ পূজাটা আসার আগেই মা সেই প্রেম ভাঙিয়ে দেয়। এরপরও চেষ্টা করেছিলাম এক-দুবার, ধরা পড়ে যাই বাড়িতে। তাই আর প্রেম করা হয়নি। কারণ মা কড়া শাসনে রাখত সবসময়। যদিও এখন ব্যাপারটা উল্টো। কয়েক বছর পর মা নিজেই বলবে একটা প্রেম তো করতে পারিস!

ইধিকা পাল বলেন, সত্যি বলতে এখন পূজাটা পরিবারের সঙ্গে কাটাতেই ভালো লাগে। ছোটপর্দায় যখন অভিনয় করতাম, তখন ষষ্ঠী থেকে পরিক্রমা শুরু হতো। তারপর রাতে, বাড়ি ফেরার পথে গাড়ি করে ঘোরা হতো। খুব বেশি হলে খাওয়াদাওয়া করেই বাড়ি।

অভিনেত্রী বলেন, এ বছরের পূজাটা অন্যরকম। আসলে ‘খাদান’ বাণিজ্যিকভাবে সফল হওয়ার পর এটা প্রথম পূজা। তাই এ বছরের পূজাতে বাড়তি উৎসাহ রয়েছে। এই পূজাতেই বুঝতে পারব, জনপ্রিয়তা কতটা বেড়েছে।

তিনি বলেন, আগামী দিনে কী কী করতে পারব, আর কোনটা পারব না। আসলে শিল্পীরা ঝড়বৃষ্টি, শরীর খারাপ উপেক্ষা করে কাজ করি। কিন্তু এসব কষ্ট মনে হয় না, যখন দর্শক চিনতে পারে। রাস্তায় কেউ ছুটে আসে ছবি তোলার জন্য। আমি তাই কখনো কাউকে ফিরিয়ে দিই না।

ইধিকা পাল বলেন, তবে পূজার সময় একটা জিনিস থেকে নিজেকে ছুটি দিই, সেটি হলো মেকআপ। সারা বছর এত সাজতে হয়, তাই এই কটা দিন সাজি না। তবে খেতে ভালোবাসি। আমাদের যা পেশা, তাতে জিভে লাগাম দিতেই হয়। আমি নানা রকমের পদ দিয়ে জমিয়ে খেতে ভালোবাসি। একটা দিন বাড়ির সবাইকে নিয়ে ভালো কোনো রেস্তোরাঁয় গিয়ে খাওয়াদাওয়া করি।

অভিনেত্রী বলেন, তবে একটা কথা না বললেই নয়, পূজার সময় শাড়ি পরতে ভালো লাগে। ‘কিশোরী’ গানের পর দেখছি শিফন শাড়ির জনপ্রিয়তা বেড়েছে। সেটি বেশ উপভোগ করছি। ছোটবেলায় আমি শ্রীদেবী, প্রিয়াংকা চোপড়ার মতো তারকাদের অনুকরণ করতাম। এই পূজাতে আমাকে যদি কেউ অনুকরণ করে, তবে ভালো লাগবে।

আরও পড়ুন

Lading . . .