দাবিকৃত চাঁদার দুই লাখ টাকা না পেয়ে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ পৌরসভার হরিশপুর গ্রামে মসজিদের ইমাম খোরশেদ আলম ও তার স্ত্রী শিরিনা আক্তারকে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে।
আহতদের উদ্ধারের পর সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুরে আহত ইমাম খোরশেদ আলম বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
জানা যায়, সোনারগাঁ পৌরসভার বাসিন্দা ও কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার চিশতিয়া নিজামিয়া দরবার শরীফ জামে মসজিদের ইমাম খোরশেদ আলমের সঙ্গে তার প্রতিবেশী শাহ আলমের দীর্ঘদিন যাবত জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধ চলমান থাকা অবস্থায় বিরোধকৃত উভয়ের বাড়ির সামনে দিয়ে একটি রাস্তা নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়।
অভিযোগ উঠেছে, এ রাস্তা নির্মাণ কাজকে কেন্দ্র করে শাহ আলমের ছেলে রিফাত মসজিদের ইমাম খোরশেদ আলমের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। দাবিকৃত চাঁদার টাকা না পেয়ে গত বুধবার দুপুরে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে রিফাতের নেতৃত্বে শাহ আলম, পারভীন আক্তারসহ ১০-১২ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র রামদা, ছেনা, ছুরি ও চাকু নিয়ে ইমাম খোরশেদ আলমের ওপর হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা ইমামকে পিটিয়ে আহত করে। ইমাম খোরশেদ আলমকে বাঁচাতে তার স্ত্রী শিরিনা আক্তার এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাকেও পিটিয়ে জখম করে। পরে এলাকাবাসী আহতদের উদ্ধার করে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করে।
আহত ইমাম খোরশেদ আলম জানান, দীর্ঘদিন যাবত শাহ আলম তাদের পরিবারকে অন্যায়ভাবে জুলুম করে আসছিল। বাড়ির পাশ দিয়ে একটি রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে তার কাছে শাহ আলমের ছেলে রিফাত ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। দাবিকৃত ওই টাকা না দেওয়ায় তাকে ও তার স্ত্রীকে সে ও তার লোকজন পিটিয়ে জখম করে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত রিফাতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি চাঁদার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে তাদের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। এখানে চাঁদাবাজির কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
সোনারগাঁ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রাশেদুল হাসান খান বলেন, এ ব্যাপারে থানায় একটি অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।