সাভারে শিক্ষিকাকে যৌন হয়রানি ও নির্যাতন

সাভারে শিক্ষিকাকে যৌন হয়রানি ও নির্যাতন

সাভারের আশুলিয়ার ইয়ারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকাকে যৌন হয়রানি ও শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় ইউএনওর কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহিদুর রহমান ও তার সহযোগী শিক্ষিকা শাহনাজ বেবীসহ তিনজনের শাস্তি দাবি করে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু বকর সরকারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষিকা।

অভিযোগে জানা গেছে, সাভারের আশুলিয়ায় ইয়ারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহিদুর রহমান একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা নুসরাত জাহানকে বিভিন্নভাবে বিরক্ত করে আসছিলেন। ওই শিক্ষিকার চাকরি বহাল রাখার শর্তে ৭-৮ লাখ টাকা দাবি করেন।

টাকা দিতে না পারলে তার সঙ্গে বন্ধুত্ব এবং পরকীয়া করতে চান প্রধান শিক্ষক। তার কথায় রাজি না হওয়ায় প্রধান শিক্ষক মহিদুর রহমান বিদ্যালয়ের সব ছাত্রছাত্রীদের ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে উসকে দেন।

এরই ধারাবাহিকতায় ইয়ারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অপর শিক্ষিকা শাহনাজ বেবী বুধবার দুপুরে ভুক্তভোগীকে কলেজের শিক্ষক রুমে ডেকে আনেন। সেখানে কতিপয় উচ্ছৃঙ্খল ছাত্রছাত্রীরা অভিযুক্ত শিক্ষকদের কথায় সহকারী শিক্ষিকা নুসরাত জাহানকে মারধর করে ঘাড় এবং ডান হাত ভাঙার চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে জোরপূর্বক শিক্ষিকা নুসরাত জাহানের কাছ থেকে একাধিক সাদা কাগজে টিপসই ও স্বাক্ষর নিয়ে রাখে।

ভুক্তভোগী শিক্ষিকার অভিযোগ, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহিদুর রহমানের সঙ্গে বন্ধুত্ব এবং পরকীয়া না করায় তাকে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করছেন।

এছাড়া তার বেতন আটকে রাখাসহ ছাত্রছাত্রী ও অন্য শিক্ষকদের মাধ্যমে তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি এবং লাঞ্ছিত করেছেন। সর্বশেষ শিক্ষার্থীদের দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও মারধর করিয়ে সাদা কাগজে টিপসই এবং স্বাক্ষর নিয়ে রেখেছেন।

অভিযোগে তিনি বলেন, আমি এ ঘটনার মূলহোতা প্রধান শিক্ষক মহিদুর রহমান, শিক্ষিকা শাহনাজ বেবী, কম্পিউটার অপারেটর বায়েজিদ, শিক্ষিকা রেনুকা সুলতানা, সাদিয়া আরেফিন এবং নূরুল হুদাসহ জড়িতদের শাস্তি দাবি করছি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ইয়ারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহিদুর রহমান বলেন, ওই শিক্ষিকার মাথায় সমস্যা আছে। এজন্য সে উলটাপালটা কথা বলে। আপনি বিদ্যালয়ে আসুন, সবার সঙ্গে কথা বলে সত্য ঘটনা তুলে ধরুন।

লিখিত অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু বকর সরকার বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।