‘বিশাল ফের নায়ক হবে’, দলের গোলকিপারের উপর আস্থা দেখালেও টাইব্রেকার চান না পানোস
বিশাল কাইথ (Vishal Kaith) বরাবরই নির্ভরযোগ্য। আর টাইব্রেকারে যেন আরও বেশি অবিচল তিনি। চাপের মুহূর্তে বার বার মোহনবাগানের (Mohun Bagan) ভরসা হয়ে উঠেছেন এই গোলরক্ষক। পাঞ্জাব এফসি-র (Punjab FC) বিরুদ্ধে IFA শিল্ডের সেমিফাইনালেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে দু’টি পেনাল্টি বাঁচিয়ে ফের নায়ক হন বিশাল। পাঞ্জাবকে ৪-৩ হারিয়ে ফাইনালে ওঠে মোহনবাগান। বৃহস্পতিবার সামনে ডার্বি, প্রতিপক্ষ ইস্টবেঙ্গল (East Bengal)। ফের কি টাইব্রেকারে মোহনবাগানের ভরসা হয়ে উঠবেন বিশাল, নাকি ব্রাজ়িলের বিরুদ্ধে সদ্য খেলা প্রভসুখন সিং গিল (Prabhsukhan Singh Gill) বদলে দেবেন ম্যাচের গল্প?
বিশালকে নিয়ে প্রতিপক্ষ কোচ হাবাসের কী দাবি?
বিশালের সাম্প্রতিক ফর্ম এবং পেনাল্টি বাঁচানোর দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই ইস্টবেঙ্গল কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস (Antonio Lopez Habas) অবশ্য টাইব্রেকারের কথা মাথাতেই রাখতে চান না। তাঁর লক্ষ্য ৯০ মিনিটের মধ্যেই ম্যাচ শেষ করা। হাবাস বলেন, ‘পেনাল্টিতে জিতেও ম্যাচ জেতা যায়, ঠিক আছে। কিন্তু আমি চাই ৯০ মিনিটের মধ্যেই খেলা শেষ করতে। কারণ ৯০ মিনিটের মধ্যে জিততে না পারলে অতিরিক্ত সময়ে যেতে হবে। তার পর পেনাল্টি। সেটা দলের জন্য ভালো নয়। আমাদের লক্ষ্য সব সময়ই ৯০ মিনিটের মধ্যে ম্যাচ জেতা।’ অর্থাৎ বিশাল কতটা ভালো পেনাল্টি বাঁচান, সেই হিসাব করে ম্যাচের পরিকল্পনা করতে নারাজ হাবাস। তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখা এবং সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করা।
‘বিশাল আবারও নায়ক হতে পারে’
তবে মোহনবাগান কোচ পানোস (Panos) বিশালের উপর ভরসা রাখছেন। ইস্টবেঙ্গল শেষ ম্যাচে সাত গোল করলেও টাইব্রেকারে আবার বিশাল নায়ক হতে পারেন কি না, সেই প্রশ্নের জবাবে পানোস বলেন, ‘বিশাল আবারও নায়ক হতে পারে। তবে আমরা যে ভাবেই হোক, ভালো পারফরম্যান্স করতে চাই।’ অর্থাৎ টাইব্রেকার নিয়ে পরিকল্পনা না থাকলেও মোহনবাগান শিবির জানে, ম্যাচ যদি শেষ পর্যন্ত পেনাল্টিতে গড়ায়, তা হলে বিশালের মতো একজন গোলরক্ষক বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন। পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে দু’টি পেনাল্টি বাঁচিয়ে তিনি যে আত্মবিশ্বাস নিয়ে ফাইনালে উঠছেন, ডার্বিতেও সেটাই মোহনবাগানের বড় ভরসা।
তবে পানোসও চান না ম্যাচ সেই জায়গায় গড়াক। তাঁর কথায়, ‘আমার মনে হয়, কেউই টাইব্রেকার বা অতিরিক্ত সময় খেলতে চায় না। এর অনেকগুলো কারণ রয়েছে। প্রথমত, তিন-চার দিন পরেই আমাদের আরও একটি ম্যাচ রয়েছে। আইএসএল শুরু হয়ে যাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, আমাদের বেশ কিছু খেলোয়াড় ইতিমধ্যেই অনেক ম্যাচ খেলেছে এবং আমরা চোট নিয়ে উদ্বিগ্ন। আমার মনে হয়, ইস্টবেঙ্গলও নিশ্চয়ই এমন পরিস্থিতি চাইবে না।’
বিশালের দাপট, জাতীয় দলে দরজা বন্ধই
বিশালের এই ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পরেও ভারতীয় দলের দরজা তাঁর জন্য খুলছে না। পেনাল্টি সেভ থেকে শুরু করে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একের পর এক দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেও জাতীয় দলে জায়গা পাচ্ছেন না তিনি। উল্টো দিকে, গুরপ্রীত সিং সান্ধু (Gurpreet Singh Sandhu) একাধিক ম্যাচে দুর্বল পারফরম্যান্স এবং হতাশাজনক ভাবে গোল হজম করার পরেও ভারতীয় দলের জার্সিতে খেলে চলেছেন।
এখানেই বিশালকে নিয়ে প্রশ্নটা আরও বড় হয়ে যায়। ক্লাব ফুটবলে বার বার নিজেকে প্রমাণ করা, টাইব্রেকারে দলকে বাঁচানো, বড় ম্যাচে চাপ সামলানো— সবই করছেন তিনি। পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে আরও এক বার সেই ছবিটাই দেখা গেল। এখন বৃহস্পতিবার ডার্বি। সামনে এমন এক ম্যাচ, যেখানে ৯০ মিনিটে ফয়সালা না হলে ফের টাইব্রেকারের মঞ্চ তৈরি হতে পারে। আর সেই মঞ্চ তৈরি হলে মোহনবাগানের সবচেয়ে বড় ভরসার নাম যে আবারও বিশাল কাইথ, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।