ক্রিস্তিয়ানো রোনাল্দো,ছবি: Instagram/Cristiano

হ্যাটট্রিক করার পরের ম্যাচেই বাদ রোনাল্দো, ক্লান্তি না অন্য কারণ?

পেশাদার ফুটবলে ১০০০ গোলের মাইলস্টোন ছোঁয়ার হাতছানি তাঁর সামনে। গত বৃহস্পতিবারই সৌদি প্রো লিগে আল খোলোদের বিরুদ্ধে মাত্র ১৫ মিনিটে হ্যাটট্রিকে নিজের কেরিয়ার গোলসংখ্যা ৯৮৫-তে পৌঁছে দিয়েছিলেন ক্রিস্তিয়ানো রোনাল্দো। কিন্তু সেই মহাতারকাকে ছাড়াই এবার এশিয়ায় শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে নামতে হচ্ছে তাঁর ক্লাব আল নাসেরকে। AFC চ্যাম্পিয়ন্স লিগের অ্যাওয়ে ম্যাচে অংশ নিতে বর্তমানে উজ়বেকিস্তানের তাশখন্দে শিবির করেছে সৌদির ক্লাবটি। তবে সেই দলে নাম নেই সিআর সেভেনের। সোমবার স্থানীয় ক্লাব পাখতাকোরের মুখোমুখি হওয়ার আগে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে—রোনাল্দোকে ছাড়াই নামতে চলেছেন আঞ্জে পোস্তেকোগলুর শিষ্যরা।

রোনাল্দোর সঙ্গে খেলতে যাননি ফরাসি তারকা

রোনাল্দোর পাশাপাশি এই সফরে দলের সঙ্গে যাননি ফরাসি তারকা উইঙ্গার কিংসলে কোমান এবং ডিফেন্ডার মোহামেদ সিমাকান। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তিন তারকাকে বাদ দেওয়া প্রসঙ্গে আল নাসেরের কোচ আঞ্জে পোস্তেকোগলু তাশখন্দে সাংবাদিক বৈঠকে জানান, এটি সম্পূর্ণ কৌশলগত ও শারীরিক ক্লান্তির কারণে নেওয়া সিদ্ধান্ত। পোস্তেকোগলু বলেন, ‘টানা প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের ধকল এবং আকাশপথে দীর্ঘ ভ্রমণের বিষয়টি বিবেচনা করেই আমরা রোনাল্দো, কোমান এবং সিমাকানকে এই ম্যাচে বিশ্রাম দিয়েছি।’ মরশুমের শুরুটা খারাপ করার পর দল এখন ছন্দে ফিরছে বলেও দাবি করেন প্রাক্তন স্পার্স কোচ।

আল নাসেরের হয়ে প্র্যাকটিসে যাওয়ার সময় ক্রিস্তিয়ানো রোনাল্দো।

ক্লান্তি নয়, রোনাল্দোর না খেলার কারণ অন্য?

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, রোনাল্দোর খেলতে না যাওয়ার কারণ শুধু ক্লান্তি নয়। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম ESPN-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ইয়েমেনের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সৌদি আরবে সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জেরে নিরাপত্তার জন্য পর্তুগিজ তারকাকে এই সফরে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেই আল নাসেরের বিরুদ্ধে খেলতে রিয়াধে দল পাঠাতে সরাসরি অস্বীকার করেছিল UAE-র ক্লাব আল ওয়াসল; যার ফলে AFC ম্যাচটি স্থগিত করে দেয়। এর আগে ১২ অক্টোবর রিয়াধের আকাশসীমায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার গুজবে আল নাসেরের একটি হোম ম্যাচ এক ঘণ্টা দেরিতে শুরু করতে হয়েছিল।

আল নাসেরের হয়ে প্র্যাকটিসে যাওয়ার সময় ক্রিস্তিয়ানো রোনাল্দো।

মাঠের বাইরের এই ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝেও অবশ্য আল নাসেরের সামনে মাঠের সমীকরণ অত্যন্ত কঠিন। প্রথমবারের মতো AFC চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতার লক্ষ্য থাকলেও ১৬টি দলের মধ্যে বর্তমানে ৯ নম্বরে রয়েছে তারা। সৌদি আরবের পাঁচটি ক্লাবের মধ্যে আল নাসেরের অবস্থানই সবচেয়ে নিচে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডারেও। সৌদি আরবে আগামী জানুয়ারি থেকে নির্ধারিত এশিয়ান কাপের আয়োজন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে জাপান। তবে আয়োজকরা সময়সূচি অনুযায়ী কাজ এগিয়ে নেওয়ার দাবি করলেও, আন্তর্জাতিক অস্থিরতা কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা এশিয়ার ক্রীড়ামহল।