মহম্মদ রশিদ ও আন্তোনিও লোপেজ় হাবাস,ছবি: East Bengal FC,অনুশীলনে রশিদ (বাঁদিকে), হাবাস (ডানদিকে),রোহিত কুমার ও লালচুননুঙ্গা

ঠাসা সূচির চ্যালেঞ্জ নিচ্ছেন হাবাস, রশিদের চোখে আল সিব ম্যাচই ফাইনাল

একদিকে ইস্টবেঙ্গল মহিলা দল যখন এশিয়ায় দাপট দেখাচ্ছে, সেই সময় পুরুষরা এখনও জয়ের মুখ দেখেনি। তিনটে ম্যাচ খেলে ফেললেও পয়েন্ট দুই এবং জয় অধরা। এই পরিস্থিতিতে ACL টু-তে টিকে থাকতে গেলে আল সিব ম্যাচটা ডু অর ডাই লাল হলুদের কাছে। খাতায় কলমে দুর্বল আল সিবের বিরুদ্ধে অ্যাওয়ে ম্যাচে ড্র করতে হয়েছে। এ বার যুবভারতীতে মাঠে নামার চব্বিশ ঘণ্টা আগে সাংবাদিক বৈঠকে এসে প্রতিপক্ষকে সমীহ করলেও ৩ পয়েন্ট ছিনিয়ে নেওয়ারই বার্তা দিলেন লাল-হলুদের হেড কোচ আন্তোনিও লোপেজ় হাবাস এবং মিডফিল্ডার মহম্মদ রশিদ।

অনুশীলনের চেয়ে রিকভারিই বড় চ্যালেঞ্জ: হাবাস

টানা ম্যাচ এবং এক শহর থেকে অন্য শহরে যাত্রার ক্লান্তি দলের ওপর বড় প্রভাব ফেলছে বলে জানান কোচ হাবাস। আল সিবের বিরুদ্ধে সাতদিনের মধ্যে দু’বার নামছে ইস্টবেঙ্গল। যা নিয়ে ইস্টবেঙ্গল কোচ বলেন, ‘গত এক মাস ধরে আমরা পর্যাপ্ত অনুশীলনের কোনও সুযোগই পাচ্ছি না। ম্যাচ খেলার পর একটি সেশন কেবল রিকভারির জন্য এবং আরেকটি সেশন যারা খেলেনি তাদের ফিটনেসের জন্য দিতে হচ্ছে। এরপর মাত্র একদিন সময় মেলে পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতি নেওয়ার। তবে পরিস্থিতি এমনই, এবং এই চ্যালেঞ্জ মেনে নিয়েই আমাদের লড়াই করতে হবে।’

প্লেয়ার রোটেট করা নিয়ে স্প্যানিশ কোচ স্পষ্ট জানান, দলে বড় পরিবর্তন আনলে অনেক সময় খেলার ছন্দ নষ্ট হয়ে যায়। দলে কখনই ৭০ শতাংশের বেশি রোটেট করা উচিত নয়। ফুটবলারদের শারীরিক অবস্থা খতিয়ে দেখেই চূড়ান্ত একাদশ ঠিক করার বার্তা দেন তিনি।

ম্যাচের আগেরদিন অনুশীলনে মহম্মদ রশিদ ও হাবাস।

‘আমার কাছে দেশি বা বিদেশি বলে কোনও ভেদাভেদ নেই’

আল সিব ম্যাচে আক্রমণভাবে ভারতীয়দের দিয়ে শুরু করে চমকে দিয়েছিলেন হাবাস। গোল না এলেও তাঁর দল যে লড়াই দিয়েছে তা প্রশংসা কুড়িয়েছে। দলে বেশি সংখ্যক বিদেশি খেলানোর দাবি প্রসঙ্গে হাবাস বলেন, ‘আমার কাছে ভারতীয় বা বিদেশি বলে আলাদা কোনও পরিচয় নেই, প্রত্যেকেই দলের খেলোয়াড়। আমাদের স্কোয়াডে খুব ভালো মানের ভারতীয় ফুটবলাররা রয়েছে। নতুন বিদেশিরা (লুকাস ও লোবা) দলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। ওদের সময় দেওয়া হবে, কিন্তু মাঠে নামতে হলে পারফরম্যান্স এবং বোঝাপড়া জরুরি।’

গোল করার সুযোগ নষ্ট হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের ফিনিশিংয়ে ঘাটতি রয়েছে। ৫-৬টি সুযোগ তৈরি করে মাত্র একটি গোল পাওয়া কখনই ইতিবাচক হতে পারে না। কালকের ম্যাচে সেই ভুলগুলো শুধরে আমাদের শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে হবে।’

রোহিত কুমার ও লালচুননুঙ্গা

বাঁচা-মরার লড়াই: মহম্মদ রশিদ

অধিনায়ক মহম্মদ রশিদের চোখে আল সিবের বিরুদ্ধে এই ম্যাচটি গ্রুপ পর্বের কার্যত শেষ সুযোগ। তিনি বলেন, ‘টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে দুই দলের জন্যই পুরো ৩ পয়েন্ট পাওয়া বাধ্যতামূলক। আমরা দূরের কোনও ম্যাচের কথা ভাবছি না, কালকের ম্যাচটাই আমাদের কাছে ফাইনাল। শুরু থেকেই ডু-অর-ডাই মানসিকতা নিয়ে শেষ সেকেন্ড পর্যন্ত লড়াই করতে হবে।’

টানা খেলার ধকল সামলানো নিয়ে তিনি যোগ করেন, ‘এত কম সময়ের ব্যবধানে ম্যাচ খেললে সঠিক খাওয়াদাওয়া এবং পর্যাপ্ত ঘুমই শরীর ঠিক রাখার একমাত্র উপায়। অনুশীলনের বাইরে নিজেদের শরীরকে চাঙ্গা রাখাই আমাদের কাছে এখন সবচেয়ে বড় কাজ।’

যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে নিজেদের চেনা সমর্থকদের সামনে আগ্রাসী ফুটবল খেলে ওমানের ক্লাবকে হারিয়ে এএফসি-র আশা বাঁচিয়ে রাখাই এখন হাবাস ব্রিগেডের মূল লক্ষ্য।