ছবিটি প্রতীকী,ছবি: AI নির্মিত

ব্যালন ডি’অরে সর্বকালের সেরা রোনাল্দোই, মেসিকে টপকে শীর্ষে CR7

ফুটবল মঞ্চে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সম্মান ব্যালন ডি’অর, প্রত্যেক ফুটবলার সারা মরশুমে কঠোর পরিশ্রম করেন এই ট্রফিটা জেতার জন্য। প্রতি বছর কোনও না কোনও প্লেয়ার এই সম্মান পান। আর সেই মঞ্চের সাত দশকের ইতিহাসে ঠিক একজন ফুটবলারের মরশুমটি ছিল অবিস্মরণীয়। আধুনিক ফুটবলবিশ্বের সবচেয়ে বড় বিতর্কের রায় দিতে আয়োজন করা হয়েছিল ‘ব্যালন ডি’অর অফ অল টাইম’ (B.O.A.T.) আন্তর্জাতিক ফ্যান পোল। অর্থাৎ, ব্যালন ডি’অরের সর্বকালের সেরা কারা সেটা জানতে। সেখানে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসিকে হারিয়ে সেই খেতাবটি নিজের পকেটে পুরে নিলেন পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিস্তিয়ানো রোনাল্দো।

ব্যালন ডি'অরের দৌড়ে মেসিকে টপকে ট্রফি উঁচিয়ে সেলিব্রেশন করছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো, পেছনে হতাশ মুখে ট্রফি হাতে দাঁড়িয়ে লিওনেল মেসি

২০০৮ সালে রোনাল্দো মরশুম সেরা

২০০৭-০৮ মরশুমে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের লাল জার্সিতে সিআর সেভেনের বিদ্যুৎগতির সেই অবিশ্বাস্য অভিযানটি ফুটবলপ্রেমীদের চোখে ফুটবলের সর্বকালের সেরা ব্যালন ডি’অর মরশুম হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। ইংলিশ ফুটবলের সেই মরশুমে রোনাল্দো সমস্ত প্রতিযোগিতা মিলিয়ে করেছিলেন ৪২টি গোল। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে একাই ৩১ গোল করে জিতে নিয়েছিলেন গোল্ডেন বুট এবং ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ফিরিয়েছিলেন লিগ খেতাব। শুধু তাই নয়, মস্কোর কনকনে ঠান্ডায় উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের অল-ইংলিশ ফাইনালে চেলসির বিরুদ্ধে দুর্দান্ত হেডে গোল করেছিলেন তিনি; টাইব্রেকারে জিতে ইউরোপ সেরার মুকুট মাথায় তুলেছিল ইউনাইটেড। প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেই ঐতিহাসিক ডাবল জয়ের পরই ২০০৮ সালে নিজের কেরিয়ারের প্রথম ব্যালন ডি’অরটি জিতেছিলেন সিআর সেভেন। পরবর্তীতে তিনি ২০১৩, ২০১৪, ২০১৬ এবং ২০১৭ সালেও এই সোনালী ট্রফিটি স্পর্শ করে নিজের সংখ্যা পাঁচে নিয়ে যান।

ভোটের লড়াইয়ে রোনাল্দোর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বার্সেলোনার লিওনেল মেসি। বিশেষ করে ২০১২ সালে এক ক্যালেন্ডার বর্ষে ক্লাব ও দেশের হয়ে মেসির করা ৯১ গোলের বিশ্বরেকর্ডটি এই ভোটিংয়ে ছিল। তবে সেই মরশুমে লা লিগা ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মতো ট্রফি না জেতায় মেসি পিছিয়ে পড়েন। ফলে রেকর্ড আটটি ব্যালন ডি’অরের মালিক হওয়া সত্ত্বেও ৯১ গোলের সেই অবিশ্বাস্য ২০১২ মরশুম নিয়ে মেসিকে দ্বিতীয় স্থানেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। তালিকার তৃতীয় স্থানে জায়গা পেয়েছে ২০১৭ সালে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে রোনাল্দোর আরেকটি ব্যালন ডি’অর জয়ী বছর।

ব্যালন ডি'অরের দৌড়ে মেসিকে টপকে ট্রফি উঁচিয়ে সেলিব্রেশন করছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো, পেছনে হতাশ মুখে ট্রফি হাতে দাঁড়িয়ে লিওনেল মেসি

মেসি-রোনাল্দোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা

তবে এই ভোটিংয়ের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো আধুনিক ফুটবলে মেসি ও রোনাল্দোর প্রতিদ্বন্দ্বীতা। ব্যালন ডি’অরের ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে অন্তত দু’বার এই ট্রফি জেতা যে ১০ জন মহানায়ককে বেছে নেওয়া হয়েছিল—যাঁদের মধ্যে ছিলেন জোহান ক্রুইফ, ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার, মিশেল প্লাতিনি, মার্কো ফন বাস্তেন, আলফ্রেদো দি স্তেফানো ও ‘দ্য ফেনোমেনন’ রোনাল্দো নাজ়ারিওর মতো কিংবদন্তিরা—তাঁদের কারও কোনও মরশুমই সেরা দশে ঢুকতে পারেনি। শীর্ষ ১০টি স্থানের প্রতিটিই নিজেদের দখলে রেখেছেন রোনাল্দো (২০০৮, ২০১৭, ২০১৬, ২০১৪, ২০১৩) এবং মেসি (২০১২, ২০২৩, ২০১৫, ২০১১, ২০০৯)।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ভোটিংটি সামগ্রিক কেরিয়ারের ভিত্তিতে ‘সর্বকালের সেরা ফুটবলার’ বা GOAT নির্ধারণ নয়; বরং ব্যালন ডি’অর জেতা কোনও একটি একক ফুটবল মরশুমের প্রভাবের নিরিখে সমর্থকদের রায়। আর সেই গণরায়ে মেসির রূপকথাকে ছাপিয়ে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের রোনাল্দো ম্যাজিকই হয়ে থাকল ইতিহাসের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায়।

B.O.A.T. পুরস্কার কী এবং এটির মাপকাঠি কী?

ব্যালন ডি’অরের ৭০তম বার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে এই ব্যতিক্রমী ভোটিং চালু করা হয়:

যোগ্যতার মাপকাঠি: কেরিয়ারে অন্তত দু’বার বা তার বেশি ব্যালন ডি’অর জিতেছেন এমন ১০ জন কিংবদন্তিকে মনোনীত করা হয়েছিল।

মনোনীত কিংবদন্তি: তালিকায় ছিলেন জোহান ক্রুয়েফ, মিশেল প্লাতিনি, মার্কো ফন বাস্তেন, ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার, আলফ্রেদো দি স্তেফানো, কেভিন কিগান, কার্ল-হেইঞ্জ রুমেনিগে, রোনাল্দো নাজ়ারিও এবং ক্রিস্তিয়ানো রোনাল্দো ও লিওনেল মেসি।

ভোটের লক্ষ্য: সমর্থকদের কোনও খেলোয়াড়ের গোটা কেরিয়ারের ভিত্তিতে ভোট দিতে বলা হয়নি; বরং তাঁদের ব্যালন ডি’অর জেতা কোনও একটি সুনির্দিষ্ট মরশুমের একক আধিপত্য ও প্রভাব বিবেচনা করে ভোট দিতে বলা হয়েছিল।