গোল করে উদযাপন ব্রাজ়িলের,ছবি: অর্ণব চক্রবর্তী, গ্রাফিক্স: AI নির্মিত,গোল করে স্য়ামুয়েল লিনোর সেলিব্রেশন,ছবি: অর্ণব চক্রবর্তী,গোল করে সেলিব্রেশন গুস্তাভোর

সাম্বার ছন্দে মাতল কলকাতা, হারলেও মন জিতল ভারত

FIFA র‌্যাঙ্কিংয়ে ৫ বনাম ১৩৮-এর লড়াইয়ে ফল প্রত্যাশিতই ছিল। ব্রাজ়িলের দাপট এবং জয়। কিন্তু সেখানে নজর কাড়ল ভারত। ম্যাচটা সেলেকাওরা ৪ গোলে জিতলেও ভারতের আক্রমণ এবং গোলের সুযোগ তৈরি মন জিতেছে। পানামার বিরুদ্ধে ১-১ গোলে ড্র করে আত্মবিশ্বাস সঞ্চয় করা খেলতে নেমেছিল ভারত। ম্যাচের আগে স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে প্রত্যাশিত দর্শকের খরা থাকলেও মাঠের ভেতরে শুরু থেকেই আঁচ পাওয়া যাচ্ছিল হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ের। ৪-২-৩-১ ছকে মাঝমাঠে অনিরুদ্ধ থাপা ও আপুইয়াকে রেখে এবং আক্রমণভাগে মনবীর ও রায়ান উইলিয়ামসদের সামনে রেখে দল সাজিয়েছিলেন কোচ খালিদ জামিল।

শুরু থেকেই আক্রমণ শানাতে থাকে ব্রাজ়িল। ম্যাচের শুরু থেকে বক্সের বাঁ দিক থেকে ভিনিসিয়াস জুনিয়র একের পর এক আক্রমণ শানাতে থাকেন। তাঁর আক্রমণ দুর্দান্ত বুদ্ধিমত্তায় এগিয়ে এসে প্রতিহত করেন গুরপ্রীত। তবে ২৮তম মিনিটে ভাঙে সেই প্রতিরোধ। বক্সের ডান প্রান্তে ফাঁকা জায়গা তৈরি করে বাঁ পায়ের চমৎকার শটে বল জালে জড়িয়ে ব্রাজ়িলকে ১-০ তে এগিয়ে দেন এস্তেভাও গনসালভেস। এর কিছুক্ষণ পর পেদ্রোর একটি জোরালো হেড পোস্টে লেগে ফিরে এলেও ৪২ মিনিটে দ্বিতীয় গোল হজম করতে হয় ভারতকে। এ বার গোলদাতা এস্তেভাও নিজেই বল বাড়ান পেদ্রোকে, যিনি ঠান্ডা মাথায় শট নিয়ে গুরপ্রীতকে পরাস্ত করে ব্যবধান ২-০ করেন।

দলের তৃতীয় গোলটি করে সেলিব্রেশন করছেন স্যামুয়েল লিনো।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই একাদশে একাধিক পরিবর্তন আনেন দুই কোচ। ভারতের হয়ে গোলপোস্টের নিচে আসেন প্রভসুখন সিং গিল এবং মাঠে নামেন জয় গুপ্তা ও মহম্মদ সানান। অন্যদিকে ব্রাজ়িল তুলে নেয় ভিনিসিয়াস, মার্কুইনহোস ও দানিলোর মতো তারকাদের; মাঠে নামেন ব্রুনো গুইমারেস, ডগলাস লুইজ ও স্যামুয়েল লিনো। কিন্তু গোলকিপার বদলেও ভারতের ভাগ্যের চাকা ঘোরেনি। ৫৮তম মিনিটে ভারতীয় ডিফেন্সের বিজয় ভার্গিস বলের নিয়ন্ত্রণ হারালে বল কেড়ে নেন লিনো এবং ডান প্রান্ত থেকে দূরপাল্লার বাঁকানো শটে সেকেন্ড পোস্টে বল জড়িয়ে ৩-০ করেন।

তবে পিছিয়ে পড়েও লড়াই থামায়নি ভারত। ৫৫ মিনিটে মার্কুইনহোসের কড়া চ্যালেঞ্জের মুখেও বাঁ পায়ের শট নিয়েছিলেন মনবীর, যা ঝাঁপিয়ে বাঁচান ব্রাজ়িলিয়ান কিপার মরিস্কো। ৬৪ মিনিটে ম্যাচের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর মুহূর্তে রায়ান উইলিয়ামস ব্রাজ়িল কিপারের মাথার ওপর দিয়ে বল ভাসিয়ে দিয়েছিলেন; কিন্তু গোললাইন থেকে সেই নিশ্চিত বল ক্লিয়ার করে ভারতকে গোলের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেন মাউরো জুনিয়র। ৬৭ মিনিটে মনবীরের বাড়ানো ভাসানো বল ফাঁকায় পেয়েও বাইরে মেরে সুযোগ নষ্ট করেন উইলিয়ামস।

গোল করে সেলিব্রেশন গুস্তাভোর

৮৪ মিনিটে একসঙ্গে পাঁচটি বদল করে বিক্রম প্রতাপ, মেহতাব সিং ও ম্যাককারটনদের মাঠে নামিয়ে দেন খালিদ জামিল। ম্যাচের শেষ মিনিটে প্রভসুখন গিল ভানডারসনের একটি নিশ্চিত শট বাঁচিয়ে প্রশংসা কুড়োলেও শেষ রক্ষা হয়নি। ইনজুরি টাইমের অন্তিম মুহূর্তে বাঁ দিক দিয়ে উঠে ম্যাককারটনকে বডি ড্রজে পরাস্ত করে বুলেট শটে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের চতুর্থ গোলটি করে ৪-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন স্যামুয়েল লিনো। শক্তিতে যোজন যোজন এগিয়ে থাকা পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে চার গোল হজম করলেও, কিছু কাউন্টার-অ্যাটাক ও রক্ষণভাগের বুক চিতিয়ে লড়াই ভারতীয় ফুটবলকে ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক রসদ জুগিয়ে গেল।