পার্থ দত্ত
ঘাড় ছাপিয়ে নেমে আসা সেই সোনালি চুলটা আর নেই। মুখে কাঁচা–পাকা উস্কোখুস্কো দাড়ি। ৪৭ বছরের দিয়েগো ফোরলানের মুখে একটা জিনিসই একদম বদলায়নি। সেটা হলো তাঁর ঝলমলে হাসিটা।
২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে উরুগুয়ের স্ট্রাইকার ফোরলান সর্বোচ্চ স্কোরার হিসেবে পেয়েছিলেন ‘গোল্ডেন বল।’ তার কিছু দিন পরেই তিনি কলকাতায় এসেছিলেন একটি টিভি চ্যানেলের ফুটবল রিয়্যালিটি শো–এর উদ্বোধক হিসেবে। ২০১৬ সালে আইএসএলে মুম্বই সিটিতে খেলেছিলেন তিনি। তখন তিনি ফের ‘সিটি অফ জয়’–এ পা রেখেছিলেন এটিকের বিরুদ্ধে খেলতে। আর এখন তিনি এই শহরের অতিথি। উরুগুয়ের কোচ হিসেবে। ৬ অক্টোবর যুবভারতীতে ফিফা ফ্রেন্ডলিতে ভারতের বিরুদ্ধে খেলবে ফোরলানের উরুগুয়ে।
শুক্রবার সকালে যুবভারতী লাগোয়া পাঁচতারা হোটেলে বসে বিশেষ সাক্ষাৎকারে ফোরলানের গলায় বারবার উঠে এলো তাঁর আগের দু’বার কলকাতা সফরের কথা। কাচের জানলা দিয়ে যুবভারতীর দিকে আঙুল দেখিয়ে ফোরলান বলছিলেন, ‘এই মাঠে আমার অভিজ্ঞতা খুব ভালো নয়। এটিকের বিরুদ্ধে আইএসএলের সেমিফাইনালে খেলতে এসে লাল রার্ড দেখেছিলাম আমি। আমার টিম মুম্বই হেরেছিল।’ তিনি যোগ করেন, ‘এই লাল কার্ড দেখার যন্ত্রণা এখনও আমাকে তাড়া করে বেড়ায়। মনে হয়, সে দিন লাল কার্ড দেখাটা আমি এড়াতে পারতাম।’ প্রথমবারের সফর নিয়ে উরুগুয়ের অন্যতম সেরা প্রাক্তনীর স্মৃতিচারণ, ‘ভারতে প্রথম আসা কলকাতাতেই। একটা রিয়্যালিটি শোতে এসেছিলাম। বেশ কয়েকটা দিন আনন্দে কাটিয়েছিলাম।’
আইএসএল খেলার দৌলতে তিনি ভারতীয় ফুটবলের সঙ্গে পরিচিত। ১০ বছরে ভারতীয় ফুটবলের কতটা পরিবর্তন দেখছেন? প্রশ্ন শুনে একটু হতাশই দেখাল ফোরলানকে। তাঁর কথায়, ‘ভারতীয় ফুটবলে প্রতিভা আছে। ভালো ফুটবলারও আছে। সেটা আমি দেখেছিলাম মুম্বইয়ে খেলার সময়। মেহতাবকে (হোসেন) মনে আছে। খুব দাপুটে মিডফিল্ডার ছিল। আরও অনেকে ছিল। এখনও কয়েক জনের সঙ্গে যোগাযোগ আছে। কিন্তু ভারতের ফুটবল খুব একটা এগোতে পারেনি।’ কেন পারেনি? উরুগুয়ের জার্সিতে ৩৬ গোল করা ফোরলানের উপলব্ধি অন্য রকম। তাঁর কথায়, ‘ভারতে ক্রিকেটই প্রথম স্পোর্টস। ফুটবল যতদিন এই দেশে সেই জায়গাটা না পাবে, ততদিন সত্যিকারের উন্নয়ন হবে না।’ এর সঙ্গেই তাঁর সংযোজন, ‘আমি মনে করি, ব্রাজ়িল, উরুগুয়ে, পানামার মতো দেশকে এখানে এনে খেলানোটা একদম সঠিক সিদ্ধান্ত। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে অনেক এগিয়ে থাকা দেশের সঙ্গে নিয়মিত খেললে ভারতের ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়বে।’
বিশ্বকাপে এ বার উরুগুয়ে চরম ব্যর্থ হওয়ার পরে আগস্ট মাসে তিনি উরুগুয়ে সিনিয়র টিমের স্টপগ্যাপ কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন, দেশের অনূর্ধ্ব ২০ টিমের পাশাপাশি। তাঁকে পাকাপাকি কোচ করা হয়নি কেন? ফোরলান কোনও বিতর্কে ঢুকতে চাইলেন না। তাঁর জবাব, ‘উরুগুয়ের মতো দেশের সিনিয়র জাতীয় টিমের কোচ হওয়াটা বিরাট ব্যাপার। এখানে আমাকে স্টপগ্যাপ কোচ করা হয়েছে, এটাই আমার কাছে বিরাট প্রাপ্তি। তবে ফেডারেশন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি আমাকে ভবিষ্যতে পার্মামেন্ট কোচ করার শর্ত দিয়ে রেখেছেন।’ সেই শর্ত মতোই তিনি এশিয়া সফরে বেরিয়েছেন। প্রথম ম্যাচে জাপানের কাছে ১–৩ হারলেও দ্বিতীয় ম্যাচে ডারউইন নুনেজ়, ম্যাক্সিমিলানো আরাউজোরা দক্ষিণ কোরিয়াকে ৪–১ হারিয়ে ভারতে এসেছেন।
ভারত ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে এত পিছিয়ে থাকা টিম। তাদের সঙ্গে খেলাটা তাঁদের কাছে কেমন অনুভূতি? ফোরলানের গলায় ভারত সম্পর্কে শ্রদ্ধা। আমরা এশিয়া সফরে বেরিয়েছি। ভারত এখানকার বড় শক্তি। তাই তাদের বিরুদ্ধে খেলতে পারাটা আমাদের কাছে অবশ্যই আনন্দের।
যুবভারতীতে লাল কার্ড দেখার যন্ত্রণা কি এ বার ভুলতে পারবেন ফোরলান?