এই সময়: স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার লড়াইয়ে আজ নামছে ইস্টবেঙ্গল।
ওমানের মাঠে মঙ্গলবার রাতে এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু–য়ের গ্রুপ লিগের তৃতীয় ম্যাচে লাল হলুদ বাহিনীর প্রতিপক্ষ স্থানীয় আল সিব ক্লাব। গ্রুপ লিগে আগের দুটো ম্যাচে আন্তনিও আবাসের টিমের সংগ্রহ মাত্র এক পয়েন্ট। গ্রুপ থেকে নক আউটের ছাড়পত্র পেতে গেলে প্রথম দুটো স্থানের মধ্যে থাকতে হবে। আপাতত এই দুটো জায়গা দখল করে রেখেছে ইরাকের আল শার্তো ও জর্ডনের আল হুসেইন। আল শার্তোর কাছে ইস্টবেঙ্গল হেরেছে। আর আল হুসেইনের সঙ্গে অ্যাওয়ে ম্যাচে ২–২ রেখে ফিরেছে।
যে আল সিবের সঙ্গে মঙ্গলবার লড়াই পিভি বিষ্ণু–ডেভিডদের, তারা চার বছর আগেও এশিয়ার সেরা শক্তি ছিল। এএফসি কাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। কিন্তু এর পরে এই টিম ব্যর্থতায় ডুবেছে মহাদেশীয় যুদ্ধে। গ্রুপ ‘ডি’তে তারা ২ ম্যাচে পয়েন্টের খাতাই খুলতে পারেনি। তাদের কাছেও ঘরের মাঠে মঙ্গলবার মরণ–বাঁচন লড়াই।
এসিএল টু–তে আল সিব গ্রুপে সবার নীচে থাকলেও ওমান লিগে তারা কিন্তু ভালো জায়গায়। টানা তিন বার তারা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। টিমে রয়েছেন ওমানের জাতীয় টিমের ৬ ফুটবলার। টিমের এই মুহূর্তের মূল সমস্যা কোচ বদল হয়ে যাওয়া। রোমানিয়ার ফ্লোরিন মতরোচ পাঁচ ম্যাচ টিমের দায়িত্বে আছেন। ফলে টিম সেট করে উঠতে পারেননি।
এই জায়গাতেই অনেক এগিয়ে আবাস। কাকে বসিয়ে তিনি কাকে খেলাবেন, এটা ঠিক করাই কঠিন চ্যালেঞ্জ তাঁর। তাঁর টিমে গোল করার অনেক প্লেয়ার। ডেভিড, এডমুন্ড, বিষ্ণুদের সঙ্গে রামিরেস, লোবারাও গোলের মধ্যে। ডিফেন্সে দারুণ ফর্মে আনোয়ার। মিডফিল্ড জেনারেল হয়ে সারা মাঠ জুড়ে লড়ছেন রশিদ। তাঁর সঙ্গে যোগ্য সঙ্গত করছেন জিকসনও। তবে ঘরোয়া ফুটবল আর আন্তর্জাতিক ফুটবলের মধ্যে যে বিরাট ফারাক সেটা এসিএলের আগের দুই ম্যাচেই টের পেয়েছেন লাল হলুদ ফুটবলাররা। আল শার্তোর কাছে ডেভিডের জোড়া গোলে এগিয়ে ম্যাচ হারতে হয়েছে সামান্য ভুলত্রুটিতে।
এই জায়গাটা মেরামতিতে সচেষ্ট ইস্টবেঙ্গলের অভিজ্ঞ স্প্যানিশ কোচ। পুরো ম্যাচেই টিমের অ্যাটাকিং শেপ যাতে না বদলায়, ট্রেনিংয়ে নজর দিয়েছেন তার দিকেই। আবাস বলেছেন, ‘আমি আমার সেরা টিমকেই এই ম্যাচে পাচ্ছি। পরপর দুই ফর্ম্যাটের টুর্নামেন্টে খেললেও সেটা কোনও অজুহাত হিসেবে ধরছি না। তবে আমাদের পাখির চোখ ওমানে এই ম্যাচ জিতে পরের রাউন্ডে ওঠার লড়াইয়ে টিঁকে থাকা।’