জেসুস দে মিগুয়েলের আক্রান্ত হওয়ার মুহূর্ত,ছবি সংগৃহীত

আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন? প্রকাশ্যে জেসুস দে মিগুয়েলের মৃত্যুর কারণ

স্পেনের ফুটবলার জেসুস দে মিগুয়েলের মৃত্যুতে স্তম্ভিত গোটা বিশ্ব। ম্যাচের মাঝে বিপক্ষ প্লেয়ারের সঙ্গে সংঘর্ষের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তাঁর মৃত্যু হয়। মাত্র ৩০ বছর বয়সে এই উঠতি তারকার মৃত্যুর কারণ নিয়ে চর্চা চলছে। কী ভাবে মৃত্যু হলো? এ বার সেই কারণ সামনে এল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য সান’ ও স্পেনের একাধিক সংবাদমাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণের রিপোর্ট সামনে এসেছে। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে নিশ্চিত করা হয়েছে, দে মিগেলের মৃত্যুর মূল কারণ ছিল ‘দুর্ঘটনাজনিত চেস্ট ট্রমা’ (Accidental Chest Trauma)।

The ⚽️ world is mourning #CDTenerife striker Jesús de Miguel Alameda, who passed away today after a violent collision on the pitch.

Let’s break this down to raise awareness about cardiac arrest & the lifesaving impact of BLS.

⚠️ VIEWER DISCRETION IS ADVISED ⚠️ pic.twitter.com/UXf8YVhCca

চেস্ট ট্রমার ফলেই কাজ বন্ধ করে হৃদপিন্ড ও ফুসফুস

চিকিৎসকরা তাঁদের প্রাথমিক তদন্তের রিপোর্ট আদালতে জমা দিয়েছেন। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, শূন্যে বল ক্লিয়ার করতে আসা আন্দোরার গোলরক্ষকের হাঁটু সরাসরি দে মিগেলের পাঁজরে লাগে। আঘাতের তীব্রতা এতটাই ছিল যে তাঁর পাঁজরের হাড় ভেঙে যায়। এই ‘চেস্ট ট্রমা’র ফলেই তাঁর হৃৎপিন্ড ও ফুসফুস স্বাভাবিক কাজ করা বন্ধ করে দেয় যা তাঁর মৃত্যুর কারণ।

আদালতের অনুমতি পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার স্পেনের মূল ভূখণ্ডে দে মিগেলের কফিন নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

স্পেনের ফুটবল ম্যাচে গোলরক্ষক ও প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের মধ্যে ভয়ংকর সংঘর্ষ, বল দখলের লড়াইয়ে মাঝআকাশে দুই ফুটবলারের ধাক্কাধাক্কির দৃশ্য।

চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, বুকের ওপর এ ধরণের আঘাত তাৎক্ষণিকভাবে হৃৎস্পন্দন স্তব্ধ করে দেয়। সোমবার ম্যাচের ইনজুরি টাইমের সপ্তম মিনিটে সংঘর্ষের পর মাঠে পাঁচ মিনিট ধরে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস ও সিপিআর দিয়েও তাঁকে বিপদমুক্ত করা যায়নি। অ্যাম্বুলেন্সে করে ‘নুয়েস্ত্রা সেনিওরা দে লা কান্দেলারিয়া’ বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নেওয়ার পথে গাড়ির ভেতরেই দে মিগেলের কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়। চিকিৎসাকর্মীদের চেষ্টায় হৃদস্পন্দন ফিরে এলেও মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন দীর্ঘক্ষণ ব্যাহত হওয়ায় তাঁর নিউরোলজিক্যাল অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত আইসিইউ-তে ভেন্টিলেশনে থাকা অবস্থাতেই মঙ্গলবার সকাল ৮টায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।