ছবিটি প্রতীকী,ছবি: AI নির্মিত

এক ম্যাচে ৫১টি রেড কার্ড, গিনেস বুকে নাম লিখিয়ে লজ্জার নজির ব্রাজ়িল ফুটবলে

ফুটবল মাঠে রচিত হলো ইতিহাসের সবচেয়ে কলঙ্কিত অধ্যায়। তাও আবার বিশ্বফুটবলে সফল দেশ ব্রাজ়িলে। অনূর্ধ্ব ২০-র ম্যাচে সামান্য বাকবিতণ্ডা থেকে শুরু হওয়া সংঘাত রূপ নিল এমন এক হিংসাত্মক পরিস্থিতিতে, যা থামাতে মাঠে নামাতে হলো পুলিশকে। আর ম্যাচ শেষে রেফারির ম্যাচ রিপোর্টে যা নথিভুক্ত হলো, তা চোখ কপালে তোলার মতো—একটি ম্যাচেই দেখানো হয়েছে মোট ৫১টি লাল কার্ড। ফুটবলের ইতিহাসে এর আগে কোনো স্তরের প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে এত সংখ্যক বহিষ্কারের ঘটনা কখনো ঘটেনি। যা দেখে অনেকে মজা করেন এটিকে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড জায়গা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সেলিব্রেশন থেকেই ঝামেলার সূত্রপাত

ঘটনাটি ঘটেছে ব্রাজ়িলের মিনাস জেরাইস প্রদেশের অনূর্ধ্ব-২০ কাম্পেওনাতো মিনেইরো (দ্বিতীয় ডিভিশন) টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল ম্যাচে। উবেরল্যান্ডিয়ার হোম গ্রাউন্ড ‘এস্তাদিও পার্কে দো সাবিয়া’ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিল উবেরল্যান্ডিয়া এবং মামোরে। ম্যাচ যখন ৫৪ মিনিটে, তখন মামোরে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। গোল করার পর তাদের স্ট্রাইকার ডেভি ছুটে যান প্রতিপক্ষ উবেরল্যান্ডিয়ার রিজ়ার্ভ বেঞ্চের সামনে এবং সেখানে দাঁড়িয়ে বিপক্ষকে ব্যঙ্গ করতে থাকেন।

প্রতিপক্ষের এই অপমানে উবেরল্যান্ডিয়ার গোলকিপিং কোচ পাওলো সার্জিও দিয়াস দোস সান্তোস নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি। ডাগ-আউট ছেড়ে তিনি মাঠে ঢুকে ডেভির ওপর চড়াও হন। এতে দুই দলের রিজ়ার্ভ বেঞ্চ ক্ষুব্ধ হয়। বেঞ্চে বসে থাকা পরিবর্ত খেলোয়াড়, ট্রেনার, ফিজ়িও এবং এমনকি বোর্ড কর্তারাও একে অন্যের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন।

GUINNESS WORLD RECORD HAS BEEN BROKEN IN BRAZIL IN A FOOTBALL GAME.

A Guinness World Record was broken for the number of red cards in a single game, the Minas Gerais Under-20 Championship clash between Uberlândia and Mamoré saw 51 sendings off, including 43 players and eight… pic.twitter.com/UuBZ4oqhiC

ঝামেলায় জড়ান বলবয়রাও

রেফারি ফার্নান্দো প্যাট্রিক দ্রোশগিচ মোদেস্তোর তাঁর রিপোর্টে উল্লেখ করেছেন, মাঠের দায়িত্বে থাকা ছয়জন বলবয়ও মারধরে যোগ দেন। তারা ডাগ-আউট থেকে চেয়ার, মাঠে থাকা চিকিৎসাসামগ্রী এবং স্ট্রেচার তুলে নিয়ে মামোরের খেলোয়াড়দের দিকে ছুঁড়তে থাকে। মাঠের গণ্ডি পেরিয়ে সেই ঝামেলা ছড়ায় দুই দলের ড্রেসিংরুমেও। ভাঙচুর করা হয় সরঞ্জাম। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় পুলিশের সশস্ত্র বাহিনী মাঠে নেমে প্রায় ৪০ মিনিটের চেষ্টায় উন্মত্ত দুই দলকে শান্ত করে। তবে খেলা আর এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি; ম্যাচটি আনুষ্ঠানিকভাবে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।

এই ঘটনায় শাস্তি দিতে দ্বিধা করেননি রেফারি ফার্নান্দো। ম্যাচে আগেই তিনটি লাল কার্ড দেখিয়েছিলেন তিনি। মারামারির ঘটনার ভিডিয়ো ফুটেজ খতিয়ে দেখে তিনি আরও ৪৮ জনকে লাল কার্ড দেখান। মোট ৫১টি লাল কার্ডের মধ্যে রয়েছেন দুই দলের ৪৩ জন ফুটবলার, ৮ জন টেকনিক্যাল সাপোর্ট স্টাফ এবং ক্লাবের ২ জন কর্তা।

ভেঙে গেল ১৫ বছর আগের রেকর্ড

এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে গেল এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি লাল কার্ডের গিনেস বিশ্বরেকর্ড। এর আগে ২০১১ সালে আর্জেন্তিনার পঞ্চম ডিভিশনের লিগে ক্লেপোল এবং ভিক্টোরিয়ানো আরেনাসের ম্যাচে ৩৬টি লাল কার্ড দেখিয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন তৎকালীন রেফারি দামিয়ান রুবিনো। দীর্ঘ ১৫ বছর পর ব্রাজ়িলের এই যুব টুর্নামেন্টের ৫১টি লাল কার্ড সেই রেকর্ড ভেঙে দিল।