অ্যাডেন স্কিপিও,ছবি: AI নির্মিত

চুলে টান দিতেই লাল কার্ড, পা সমান ড্রেডলকে অ্যাডভান্টেজে ক্যারিবিয়ান ফুটবলার

ফুটবলে ট্যাকল, কনুইয়ের গুঁতো কিংবা জার্সি টানার অপরাধে কার্ড দেখা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। কিন্তু কোনও ফুটবলারের চুল টেনে দু’জন খেলোয়াড়ের পরপর লাল কার্ড দেখে বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনা সচরাচর দেখা যায় না। এ বার সেই ঘটনার সাক্ষী থাকল কনকাকাফ (CONCACAF) নেশন্স লিগ। এই অদ্ভুত নাটকের কেন্দ্রবিন্দুতে ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের দল অ্যাঙ্গুইলার ৩৬ বছর বয়সি ফরোয়ার্ড অ্যাডেন স্কিপিও এবং তাঁর পা সমান ড্রেডলক চুল।

অ্যাডডেন স্কিপিও মাঠে নামলে যে কারও চোখ তাঁর দিকে আটকে যেতে বাধ্য। মাথা থেকে গোড়ালি পর্যন্ত নেমে আসা ড্রেডলকের দিকে সকলের নজর থাকে। সাধারণ অবস্থায় এই চুল সামলানো কঠিন হওয়ায় ম্যাচের সময় তিনি কোমরের চারপাশে বিশেষ ব্যান্ড পরে চুল শরীরের পিঠের অংশের সাথে শক্ত করে বেঁধে নামেন। তবে সেই চুলই যে ম্যাচের সবচেয়ে বড় ট্যাকটিক্যাল অস্ত্র হবে, তা হয়তো স্কিপিও নিজেও ভাবেননি।

Zápas Ligy národů Antigua a Barbuda - Anguilla. Hosté prohrávali 0:5, když se za ně v 69. minutě dostal na hřiště Aedan Scipio.

A právě jeho dredy sahající téměř až k zemi přispěly k vyloučení dvou hráčů soupeře.😂😂 pic.twitter.com/eaAVj8YF71

চুল টেনে লাল কার্ড

অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার বিরুদ্ধে ম্যাচে যখন স্কিপিও বদলি হিসেবে মাঠে নামেন, তখন তাঁর দল ০-৫ গোলে পিছিয়ে। ৬৯ মিনিটে তিনি মাঠে নামার মাত্র তিন মিনিটের মধ্যেই তৈরি হয় প্রথম বিতর্কিত মুহূর্ত। স্কিপিও নিজের নিয়ন্ত্রণে বল নিয়ে বিপক্ষের কিওন গ্রিনকে ড্রিবল করে কাটিয়ে বেরোতে গেলে মেজাজ হারান গ্রিন। পেছন থেকে স্কিপিওর ড্রেডলক টেনে ধরেন তিনি। অখেলোয়াড়োচিত এই আচরণের জন্য রেফারি বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে গ্রিনকে সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠছাড়া করেন।

অ্যাডেন স্কিপিও ও তাঁর ড্রেডলক চুল। যেটা তাঁকে বাড়তি সুবিধা করে দিয়েছে।

তবে নাটকের তখনও বাকি ছিল। দ্বিতীয়ার্ধের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে খেলা যখন ইনজুরি টাইমে পৌঁছায়, তখন আবারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। এবার স্কিপিওকে আটকাতে গিয়ে তাঁর ড্রেডলকে টান মারেন অ্যান্টিগুয়ার আরেক ফুটবলার শালন নাইট। টানের চোটে ভারসাম্য হারিয়ে সরাসরি ঘাসের ওপর আছড়ে পড়েন স্কিপিও। সঙ্গে সঙ্গে ছুটে এসে পকেট থেকে দ্বিতীয় লাল কার্ড বের করে নাইটকেও বের করে দেন রেফারি।

এই জোড়া লাল কার্ডের ফলে শেষ বাঁশি বাজার সময় অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডাকে খেলতে হয় মাত্র ৯ জন নিয়ে। তবে এত সুযোগ পেয়েও অ্যাঙ্গুইলা ম্যাচ জিততে পারেনি। তারা ০-৫ গোলে হেরে মাঠ ছাড়ে।