নিজেদের দোষে ম্যাচ হাতছাড়া, বিপক্ষকে জয় ‘উপহার’ ইস্টবেঙ্গলের
কথায় আছে খোঁচা খাওয়া বাঘ আর পিছিয়ে পড়া ইস্টবেঙ্গল সবসময় ভয়ঙ্কর। তবে AFC Champions League 2-র ম্যাচে দেখা গেল তার উল্টো ছবি। এগিয়ে গিয়েও পিছিয়ে পড়ে ম্যাচে হারতে হলো আন্তোনিও লোপেজ় হাবাসের ছেলেদের। ২-১ স্কোর থেকে ম্যাচ শেষ হলো ইস্টবেঙ্গলের বিপক্ষে ২-৩ গোলে। এই ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল যতটা না বিপক্ষের ভালো খেলার জন্য হেরেছে, তার থেকেও বেশি হেরেছে গোল নষ্ট করার জন্য। এই ম্যাচে ডেভিড একাই যতগুলো মিস করলেন তা এক করলে ইস্টবেঙ্গল সহজেই ৫ গোল দেয়।
শুরুতে লাল হলুদ ঝড়
ম্যাচের শুরু থেকেই দুর্দান্ত মেজাজে ছিল লাল-হলুদ ব্রিগেড। মাত্র ৯ মিনিটের মাথায় যুবভারতীর ১২,৭৬৫ জন সমর্থককে ভাসিয়ে এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। বক্সের ডানপ্রান্তে দানি রামিরেজ় ও হার্দিক ভাটের ওয়ান-টু পাসের পর হার্দিক বল বাড়ান বক্সে থাকা ডেভিডকে। বল দারুণভাবে রিসিভ করে বিদ্যুৎগতির টার্ন নিয়ে বাঁ পায়ের বাঁকানো শটে আল শোর্তার বিশ্বকাপার গোলকিপার জালালকে পরাস্ত করেন তিনি (১-০)। তবে স্বস্তির মেয়াদ স্থায়ী হয়নি। ১৪তম মিনিটে ইস্টবেঙ্গল ডিফেন্সের ঢিলেঢালা মার্কিংয়ের সুযোগ নিয়ে কর্নার থেকে হেডে সমতা ফেরান শোর্তার আহমেদ ইয়াহা (১-১)। এই গোলের সময় ইস্টবেঙ্গলের ডিফেন্ডাররা একে অন্যের মুখ দেখা ছাড়া আর কিছুই করতে পারেননি।
আল শোর্তা সমতায় ফিরলেও প্রথমার্ধের রাশ ছিল ইস্টবেঙ্গলের দখলেই। বাঁদিক থেকে লালচুননুঙ্গার ওভারল্যাপ এবং মাঝমাঠে রামিরেজ় ও রশিদের বোঝাপড়ায় ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা হয় ইরাকি রক্ষণের। ৪০তম মিনিটে রামিরেজ়ের ফ্রি-কিক জালাল রুখে দিলে ফিরতি বল নিখুঁত ব্যাক-পাসে ডেভিডকে দেন রশিদ। ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়িয়ে ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোল করে দলকে ২-১ এগিয়ে দেন ডেভিড। বিরতির ঠিক আগে ডেভিডের সামনে হ্যাটট্রিকের সুযোগ এলেও তাঁর শট বারের ওপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। সব মিলিয়ে যেই সংখ্যক সুযোগ ইস্টবেঙ্গল বা বলা ভালো ডেভিড মিস করেছেন তা কাজে লাগাতে পারলে ইতিহাস হতে পারত।
দ্বিতীয়ার্ধে নাটকীয় বদল
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ছবিটা নাটকীয়ভাবে বদলে যায়। আল শোর্তার কোচ বাসাম শাকিরকে তুলে মাঠে নামান ক্রিস্তিয়ান বার্কোকে। আর তাতেই ছন্নছাড়া হয়ে পড়ে হাবাসের রক্ষণ। ৫১তম মিনিটে বাঁদিক থেকে আহমেদ ইয়াহার বাড়ানো বল পেয়ে জাল কাঁপান হুসেল আল সায়েদি (২-২)। এই ধাক্কা সামলানোর আগেই ৫৩তম মিনিটে বার্কোর মাপা কর্নারে নিখুঁত হেডে ইস্টবেঙ্গলের নিয়ার পোস্টে বল জড়িয়ে দেন কিংসলে কুকু (২-৩)। মাত্র তিন মিনিটের অসতর্কতায় ২-১ থেকে ২-৩ পিছিয়ে পড়ে ইস্টবেঙ্গল।
পিছিয়ে পড়ে সমতা ফেরাতে মরিয়া আক্রমণ চালায় লাল-হলুদ। ৫৫ মিনিটে জয়ের মাপা পাস থেকে ডেভিডের প্রচেষ্টা জালাল ফিস্ট করে বাঁচান। এরপর ৬৭ মিনিটে ঘটে ম্যাচের সবচেয়ে বড় নাটকীয় মুহূর্ত—রামিরেজ়ের পাস থেকে ডেভিডের শট গোলকিপার বাঁচানোর পর পরপর দু’বার শট নেন এডমুন্ড; কিন্তু প্রথমটি গোলকিপার ও দ্বিতীয়টি গোললাইন থেকে রুখে দেন শোর্তার ডিফেন্ডাররা। কেন জালাল বিশ্বকাপার গোলকিপার তা তাঁর এই সেভেই পরিষ্কার ছিল।
৭৭তম মিনিটে মৌমনি জোড়া হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে শেষ পর্বের পুরো সুবিধাই ছিল ইস্টবেঙ্গলের পক্ষে। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগানোর বদলে চাপ আরও বাড়ে। ৮৭ মিনিটে জ়লনস্কির দুর্দান্ত বাইসাইকেল কিক অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ম্যাচের অন্তিমলগ্নে ৯০তম মিনিটে বিপিন সিংয়ের চমৎকার ক্রস থেকে ফাঁকা জায়গায় হাফ ভলি মারতে গিয়ে মিস করে বসেন একে লোবা। গোটা ম্যাচে মোট শট ও গোলের শটের সংখ্যা দেখতে গেলে এগিয়ে ইস্টবেঙ্গল, কিন্তু বিপক্ষের ভালো ডিফেন্ড ও ইস্টবেঙ্গলের ফিনিশিংয়ের অভাব বারবার প্রকট হয়েছে। পাশাপাশি লাল হলুদ ডিফেন্সে আনোয়ারের সঙ্গে জ়লিনস্কির বোঝাপড়া নিয়েও হাবাসকে ভাবতে হবে।
ফলে দেবীপক্ষের প্রথম ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল এগিয়ে থেকেও নিজেদের ভুলে ম্যাচ কার্যত মাঠে ছেড়ে দিল হাবাসের ছেলেরা।