লোকালয়ে বন্যহাতির দল, উৎসুক মানুষের ভিড়

লোকালয়ে বন্যহাতির দল, উৎসুক মানুষের ভিড়

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় গত চারদিন ধরে আবারও লোকালয়ে খাদ্যের সন্ধানে ঘুরে বেড়াচ্ছে বন্যহাতির দল। অপরদিকে বন্যহাতি দেখতে প্রতিদিন সীমান্ত ঘেঁষা এলাকাগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার উৎসুক মানুষ।

এতে যে কোনো সময় মানুষের প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। তবে ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করতে বলা হচ্ছে।

বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার দিবাগত রাত থেকে বন্যহাতির একটি দল ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের সন্ধ্যাকুড়া, হলদিগ্রাম, গোমরা, রাংটিয়া এবং কাংশা ইউনিয়নের ছোট গজনী, বড় গজনী, তাওয়াকুচা এলাকার গারো পাহাড়ে কমপক্ষে ৩০ থেকে ৪০টি বন্যহাতির একটি দল অবস্থান করছে। হাতির দলটি দিনের বেলা খাদ্যের সন্ধানে পাহাড়ের বিভিন্ন টিলায় ঘোরাঘুরি করলেও সন্ধ্যার ঠিক আগে বন্যহাতির পালটি লোকালয়ে নেমে আসে। ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় গ্রামবাসী মশাল জ্বালিয়ে হই-হুল্লোড় করে হাতির পালটি জঙ্গলে ফেরানোর চেষ্টা করছেন।

বৃহস্পতিবার বিকালে সরেজমিন দেখা গেছে, বন্যহাতির দলটি সন্ধ্যাকুড়া এলাকার গোলাপ, আকাশমনি কাঠের বাগান ও বিভিন্ন সবজি খেতে অবস্থান করতে দেখা যায়। পাশাপাশি এলাকাবাসী ও উৎসুক মানুষ ভিড় করেছেন। হাতি তাড়াতে মানুষ হই-হুল্লোড় করছেন। এ সময় বন্যহাতির দল ধান ও বিভিন্ন সবজি খেত পা দিয়ে মাড়িয়ে নষ্ট করে দিচ্ছে।

সন্ধ্যাকুড়া গ্রামের কৃষক দেলোয়ার বলেন, বুধবার দিবাগত রাতে বন্যহাতির দল আমার ২৫ শতাংশ ধানের জমি পা দিয়ে মাড়িয়ে নষ্ট করেছে। আমি একজন অসহায় মানুষ। খুব কষ্টে করে সংসার চালাই। হাতির অত্যাচারে অতিষ্ঠ আমরা।

গুমড়া গ্রামের কৃষক সাব্বির বলেন, হাতি আমার বরবটি ও বেগুন চাষের খেত নষ্ট করেছে। আমি নিজে ছোট-বড় হাতি দেখেছি। সবারই ক্ষয়ক্ষতি করছে এ হাতির পাল। হাতির অত্যাচার থেকে রক্ষা পেতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এই কৃষক।

নলকুড়া ইউনিয়ন যুব দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও স্বেচ্ছাসেবী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী পাহাড়গুলোতে বন্যহাতির খাদ্য ও বাসস্থানের অভাবের কারণেই লোকালয়ে প্রবেশ করতে বাধ্য হচ্ছে। প্রতিদিনই খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে হানা দিচ্ছে। মানুষের ঘরবাড়িসহ নানা ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। কয়েক দিন ধরে মানুষ হাতির আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছেন। হাতি তার স্বাভাবিক বিচরণক্ষেত্র হারিয়ে ফেললে মানুষের বসতিতেই খাবার খোঁজে। এই প্রাকৃতিক ভারসাম্যহীনতার জন্য দায়ী মূলত আমরা নিজেরাই। তবে গারো পাহাড়ে হাতির এ অত্যাচার দীর্ঘ দিনের। তাই এ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।

ময়মনসিংহ বন বিভাগের রাংটিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আব্দুল করিম বলেন, হাতির খাবারের জন্য সুফল বাগান তৈরি হয়েছে। সেখানে লতা-পাতা রয়েছে। হাতি সেসব খাচ্ছে। পাশাপাশি চলতি মাসে গারো পাহাড়ের প্রতিটি বিটে দুই হাজার করে কলাগাছ রোপণের কর্মসূচি শুরু হয়েছে। কলাগাছ বড় হলে খাবারের সংকট অনেকটাই কমবে। বনবিভাগ ও ইআরটি হাতিকে পাহাড়ের জঙ্গলে পাঠানোর সার্বক্ষণিক চেষ্টা করছেন বলে জানান এ কর্মকর্তা।

ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, মূলত খাদ্যের সন্ধানে বন্যহাতির পালটি লোকালয়ে চলে এসেছে। সীমান্তে বন্যহাতির খাদ্যের ব্যবস্থা করা গেলে হয়তো হাতি লোকালয়ে আসবে না। তবে উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের পক্ষ থেকে মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করতে বলা হচ্ছে।