মিরপুরে হচ্ছে গ্রেগরিয়ান সোসাইটির ফুটসাল টুর্নামেন্টপ্রথম আলো

স্মৃতি ধরে রাখতে জাদুঘর করছে গ্রেগরিয়ান সোসাইটি, থাকবে ’২০–এর দশকের বাস্কেটবল

পাশাপাশি টানানো দুটো ব্যানার। একটাতে লেখা গ্রেগরিয়ান সোসাইটির পরিচয়, আরেকটিতে আব্দুর রহিম নামের একজনের ছবি ও বিবরণ। তাঁর পরিচয় জানতে বাংলাদেশের ফুটবলের একটু পুরোনো দিনেই ফিরে যেতে হবে। পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলে খেলেছেন, ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচও।

তাঁর হাত ধরেই ১৯৮০ সালে এএফসি এশিয়ান কাপে খেলেছিল বাংলাদেশ। বিখ্যাত এই ফুটবলার ও কোচ ছিলেন পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী স্কুল সেন্ট গ্রেগরির ছাত্র। তাঁর নামেই মিরপুরে ১২ দলের ফুটসাল টুর্নামেন্ট আয়োজন করছে সেন্ট গ্রেগরি স্কুলের সাবেক ছাত্রদের সংগঠন গ্রেগরিয়ান সোসাইটি।

এই টুর্নামেন্ট উপলক্ষে আজ সাগোপ্তার ডিবিওএক্স স্পোর্টস কমপ্লেক্সে বসে সেন্ট গ্রেগরির সাবেক ছাত্রদের মিলনমেলা। সেখানে সেন্ট গ্রেগরির ঐতিহ্যের গল্প করলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক খেলোয়াড় ও গ্রেগরিয়ান সোসাইটির সহসভাপতি শাকিল কাসেম। ৭৫ বছর বয়সেও যাঁর ‘গ্রেগরিয়ান সত্তা’ এখনো তরতাজা।

তাঁর কাছেই শোনা ফুটসাল টুর্নামেন্ট আয়োজনের পেছনের গল্প, ‘আব্দুর রহিম সাহেবের নামে আমরা প্রতিবছরই এই টুর্নামেন্ট করি। উনি ছিলেন লার্জার দ্যান লাইফ ক্যারেক্টার—আমাদের ১৯৪৯ ব্যাচের ছাত্র। উনি স্কুলে থাকতেই ঢাকা ওয়ান্ডারার্সে খেলেছেন। তারপর পাকিস্তান জাতীয় দলে খেলেছেন, বাংলাদেশ দলের কোচ ছিলেন। আমরা এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে ওনাকে একটা ট্রিবিউট দেওয়ার চেষ্টা করি।’

১৮৮২ সালে পুরান ঢাকায় প্রতিষ্ঠা হয় সেন্ট গ্রেগরি স্কুলের। ১৪২ বছরের ইতিহাসে নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেন, বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, সাবেক রাষ্ট্রপতি ড. বদরুদ্দোজ্জা চৌধুরী, বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রধান ড. কামাল হোসেনের মতো বিখ্যাত অনেকে এই স্কুলের ছাত্র ছিলেন।

খেলাধুলায়ও সেন্ট গ্রেগরি স্কুলের ইতিহাসটা বেশ সমৃদ্ধ। ১৯২৩ সালে উপমহাদেশে বাস্কেটবলের শুরুটাই হয়েছিল সেন্ট গ্রেগরিতে। ১৯৭৭ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশে সফরকারী এমসিসির বিপক্ষে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচে বাংলাদেশ দলে ছিলেন সেন্ট গ্রেগরিজের ছয়জন প্রাক্তন ছাত্র—সৈয়দ আশরাফুল হক, ইউসুফ রহমান, রকিবুল হাসান, নাজমুন নূর রবিন, শাকিল কাসেম ও নজরুল কাদের লিন্টু।

ক্রিকেট, ফুটবলে গৌরবের এই গল্প মনে করাতেই প্রতিবছর আব্দুর রহিম ফুটসাল টুর্নামেন্ট ও সাবেক কৃতী বাস্কেটবল খেলোয়াড় কাজী কামালউদ্দিনের নামে বাস্কেটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করে গ্রেগরিয়ান সোসাইটি।

জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার শাকিল কাসেম বলছিলেন, ‘খেলাধুলাই একমাত্র মাধ্যম, যেখানে কে কোন পটভূমি থেকে এসেছে, কে কী করেছে, সেটা বিবেচ্য নয়। এখানে সবাই একসঙ্গে হতে পারে। আমরা মূলত এই আয়োজনগুলো করি, যেন আমাদের ইতিহাসটা ভুলে যাওয়া না হয়। মানুষ জানবে আমরা কোথায় আছি, আর এটা আমাদের সব প্রাক্তন শিক্ষার্থীকে আবার একসঙ্গে হওয়ার, পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের একটা সুযোগ করে দেয়।’

উপমহাদেশের প্রথম বাস্কেটবল, বাংলাদেশে সিমেন্টের উইকেটে ক্রিকেট অনুশীলন শুরুর মতো খেলাধুলায় অনেক নতুনত্বের পরিচয় সেন্ট গ্রেগরি স্কুলের হাত ধরে। এসব স্মৃতি ধরে রাখতে এখন জাদুঘর করার উদ্যোগ নিয়েছে গ্রেগরিয়ান সোসাইটি। যেখানে থাকবে স্পল্ডিংয়ের তৈরি ১৯২০–এর দশকের লেসওয়ালা বাস্কেটবল।

নভেম্বরের মধ্যেই এই কাজ করতে চান বলে জানালেন শাকিল কাসেম, ‘আমাদের এখন বড় প্রজেক্ট হচ্ছে জাদুঘর করা। একটা স্মৃতিচিহ্ন বলতে পারেন, যেটা আমরা ভবিষ্যৎ ও বর্তমান প্রজন্মের জন্য রেখে যেতে চাই। যেন তারা পেছনে ফিরে জানতে পারে, তারা কোথা থেকে এসেছে এবং অতীত থেকে অনুপ্রেরণা নিতে পারে। তাহলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময় তারা জানবে, কোথায় পৌঁছাতে হবে।’