‘মিশন ডিডিএলজে’–এর দৃশ্যে লাবণ্য চৌধুরী ও সাদ নাওভীনির্মাতার সৌজন্যে

নব্বইয়ের প্রেমের খোঁজে ‘মিশন ডিডিএলজে’

২০১৮ সাল থেকে শখের বশে চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু করেন স্থপতি আসিফ জাহাঙ্গীর। পরে পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটে চলচ্চিত্র নির্মাণ নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। তাঁর জন্ম আশির দশকে, বেড়ে ওঠা নব্বইয়ের দশকে।

নিজের পছন্দের গল্প, বেড়ে ওঠার সময়ের সিনেমা আর বর্তমান প্রজন্মকে নব্বইয়ের দশকের প্রেমের আবহের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার ভাবনা থেকেই সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন আসিফ, ‘ছোটবেলায় যে ধরনের রোমান্টিক গল্প দেখে বড় হয়েছি, এখন এসে ওই ধরনের গল্প খুব একটা পাই না। ওই সফট, সিম্পল, সুইট রোমান্টিক গল্পগুলো এখন খুব কম হয়। তাই আমি নিজেও ওই ধরনের গল্প মিস করি।’

তাঁর ইচ্ছা, এখনকার প্রজন্ম এমন প্রেমের গল্প দেখুক, যে ধরনের গল্প তারা হয়তো খুব কম দেখেছে। একই সঙ্গে নব্বইয়ের দশকের দর্শকেরাও যেন সিনেমাটি দেখে পুরোনো দিনের অনুভূতিতে ফিরতে পারেন।

শাহরুখ–কাজল জুটির দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে (ডিডিএলজে) থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে মিশন ডিডিএলজে সিনেমার নাম এসেছে। তবে এটি ওই সিনেমার গল্প নয়। বলিউডি সিনেমার নামের মধ্যে গল্পের একটি ইঙ্গিত রয়েছে।

ধ্রুব ও দিয়া হালের তরুণ-তরুণী। আসিফ বলেন, ‘কিন্তু তারা নব্বইয়ের দশকের একটা রোমান্টিক সিনেমা দেখে অনুপ্রাণিত হয়। ওই লাভ স্টোরির অনুকরণে নিজেদের লাভ স্টোরিটাও তৈরি করতে চায়। এই জন্যই নামের মধ্যে “ডিডিএলজে” এসেছে।’

আসিফের মতে, সময়ের সঙ্গে প্রেমের গল্প বলার ধরনও বদলেছে। যোগাযোগের মাধ্যম সহজ হয়েছে, বেড়েছে সম্পর্কের গতি। ‘প্রত্যেকটা জেনারেশনে অ্যাকশন, রোমান্স, কমেডি—সবকিছুরই ধরন এবং ভাষা একটু চেঞ্জ হয়। এটা ভালো বা খারাপ কিছু না। সব জেনারেশনের নিজস্ব একটা ধরন থাকে।’ বলেন আসিফ।

নব্বইয়ের দশকের প্রেমের কথা বলতে গিয়ে আসিফ বলেন, ‘আমাদের সময়ে যোগাযোগ রাখাটাই একটা মিশন ছিল। এই জন্য তখনকার প্রেমটা অনেক সরল, সিম্পল, সুইট ও সফট ছিল।’ এখন যোগাযোগ সহজ হওয়ায় সম্পর্কের ধরনও বদলেছে। এটিকে ভালো বা খারাপ কোনো হিসাবেই দেখছেন না আসিফ।

কেন দেখবেন সিনেমাটি

পরিচালকের ভাষ্যে, মিশন ডিডিএলজে শুধু প্রেমই নয়; কমেডি, রোমান্স ও ড্রামাও আছে। তবে কোনো জটিলতা নেই। অর্ক বলেন, ‘দু-একটা ওই ধরনের লাভ স্টোরি যখন হয়েছে, দেখেছি ইয়াং জেনারেশন সেগুলো অনেক পছন্দ করেছে। ওরা অবাক হয়েছে—এ ধরনের লাভ স্টোরিও হয়! আমার মনে হয়, এ ধরনের লাভ স্টোরি এখনকার জেনারেশন খুব চায়, কিন্তু পায় না।’

তাঁর ভাষায়, ‘৮৫ মিনিটের সিনেমাটিতে ভারী কিছু নেই, কোনো জটিল কিছু নেই। মাথাব্যথা নিয়ে বের হতে হবে না। ৮৫ মিনিট হাসতে হাসতে পার হবে। খুব এনজয় করে দেখতে পারবে।’

জুটি হিসেবে প্রথমবার সাদ নাওভী ও লাবণ্য চৌধুরীকে দেখা যাবে। শুরু থেকেই নতুন একটি জুটি খুঁজছিলেন আসিফ। নির্মাতা বলেন, ‘ধ্রুব চরিত্রটা নাওভীর সঙ্গে অনেক যায়। ওকে আমি আগে থেকেই ব্যক্তিগতভাবে চিনতাম। খুব বেশি সিরিয়াস না, একটু লজিক্যাল, আবার রোমান্টিকও। একটু ফ্লার্টি—এ ধরনের একটা চরিত্র।’

দিয়া চরিত্রের শিল্পীকে পেতে অবশ্য সময় লেগেছে। কয়েকজনের সঙ্গে কথাও বলেছিলেন কিন্তু মনঃপূত হচ্ছিল না। লাবণ্যর সঙ্গে প্রথম আলাপেই মনে হয়, তিনি চরিত্রটি বুঝতে পারছেন। নির্মাতার ভাষ্য, ‘আমার দিয়ার চরিত্রটা এমনভাবেই লেখা যে খুব বেশি কথা না বলে চোখ দিয়ে, চেহারা দিয়ে অনেক কিছু প্রকাশ করে। লাবণ্যর আগের কাজ দেখে আমার মনে হয়েছিল, ও এটা করতে পারবে।’

প্রথম শুটিংয়ের সময় মনিটরে দুজনকে একসঙ্গে দেখে নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে আরও নিশ্চিত হন আসিফ।

নিজের চরিত্র নিয়ে লাবণ্য চৌধুরী বলেন, ‘দিয়া খুব চঞ্চল একটা মেয়ে। নব্বইয়ের দশকের লাভ স্টোরিগুলো ওর অনেক পছন্দ। ও স্বপ্ন দেখে ওর জীবনেও নব্বইয়ের দশকের মতো লাভ স্টোরি আসবে।’

নাওভী বলেন, সিনেমার গল্পটা শুনে আমার কাছে মজার মনে হয়েছিল। আমার বিশ্বাস, গল্পটি দর্শকদের কানেক্ট করবে।

তিন দিন মানিকগঞ্জ আর এক দিন ঢাকা—এই চার দিনে সিনেমাটির শুটিং হয়েছে।