রহস্যময় ভুতুড়ে কণার সন্ধানে নতুন উদ্যোগ
পদার্থবিজ্ঞানীদের ধারণা, আমাদের চারপাশে রহস্যময় ভুতুড়ে কণা রয়েছে। এই কণা শনাক্ত করা গেলে মহাবিশ্বের অজানা অনেক রহস্য সম্পর্কে জানা যাবে। ভুতুড়ে কণা আসলেই আছে কি না, তা জানতে দীর্ঘদিন চেষ্টার পর জিয়াংমেন আন্ডারগ্রাউন্ড নিউট্রিনো অবজারভেটরি (জুনো) মানমন্দির চালু করেছে চীন। ক্ষুদ্র অধরা কণা সন্ধান করতে সক্ষম বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ও উন্নত সুবিধা রয়েছে মানমন্দিরটিতে। চীনের গুয়াংডং প্রদেশে অবস্থিত এই মানমন্দির এরই মধ্যে রহস্যময় কণার তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে।
৭০০ মিটার ভূগর্ভে অবস্থিত মানমন্দিরটিতে একটি বিশাল ৩৫ মিটার প্রশস্ত অ্যাক্রিলিক গোলক রয়েছে, যেখানে ২০ হাজার টন তরল সিন্টিলেটর সংরক্ষণ করা হয়েছে। নিকটবর্তী পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নির্গত নিউট্রিনো পর্যালোচনা করবে মানমন্দিরটি। এ বিষয়ে পদার্থবিদ ওয়াং ইফাং বলেন, এই ডিটেক্টর তৈরি ও কাজ শুরুর বিষয়টি বিশ্বব্যাপী বৈজ্ঞানিক গবেষণায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। আন্তর্জাতিক এই প্রকল্প নিউট্রিনোর ভর ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে যুগান্তকারী সব তথ্য জানতে সহায়তা করবে। প্রথমবারের মতো, নিউট্রিনোর জন্য বিশাল ও প্রায় নির্ভুল একটি ডিটেক্টর চালু করা হয়েছে। পদার্থ ও মহাবিশ্বের প্রকৃতি সম্পর্কে মৌলিক প্রশ্নের উত্তর জানার সুযোগ করে দেবে ডিটেক্টরটি।
নিউট্রিনোর কোনো বৈদ্যুতিক চার্জ নেই, প্রায় কোনো ভর নেই ও প্রায় আলোর গতিতে ভ্রমণ করে। যেহেতু নিউট্রিনো খুব কমই সাধারণ পদার্থের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে, তাই তারা আমাদের দেহ কিংবা কোনো কিছুর সঙ্গে সংযুক্ত হয় না। এমনকি সমগ্র পৃথিবীর মধ্য দিয়ে সহজেই চলে যায় কোনো সংযোগ ছাড়াই। অধরা প্রকৃতির কারণে নিউট্রিনো হলো সবচেয়ে কম তথ্য পাওয়া মৌলিক কণা। এই কণার ক্ষীণতম চিহ্ন ধরার জন্য বিশাল ডিটেক্টরের প্রয়োজন হয়।
রহস্যময় ভুতুড়ে কণা শনাক্ত করা সত্যিই কঠিন। কারণ, ভূতের মতোই এসব কণা সবকিছুর মধ্য দিয়ে চলাচল করতে পারে। ফলে কণাগুলো শনাক্ত করা যায় না। ডিটেক্টরের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় নিউট্রিনোর তরলে থাকা হাইড্রোজেন নিউক্লিয়াসের সঙ্গে ধাক্কা খাওয়ার সম্ভাবনা কিছুটা থাকে। এর ফলে অত্যন্ত ক্ষীণ ঝলকানি তৈরি হতে পারে। সেই ঝলকানি ফটোমাল্টিপ্লায়ার টিউব দিয়ে শনাক্ত করা যেতে পারে।
সূত্র: এনডিটিভি