ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াই শুরুর আগেই বড় ধাক্কা খেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে হামজা চৌধুরী, শমিত সোমসহ বিদেশি লিগে খেলা অধিকাংশ প্রবাসী ফুটবলারকে পাওয়ার সম্ভাবনা কম। ফিফার আন্তর্জাতিক বিরতির সঙ্গে সাফের সূচির সংঘাতেই তৈরি হয়েছে এই জটিলতা। ফলে গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারদের ছাড়াই প্রথম ম্যাচে ভুটানের বিপক্ষে মাঠে নামতে হতে পারে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের।
আগামী ৫ নভেম্বর ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে অভিযান শুরু করার কথা বাংলাদেশের। কিন্তু ফিফার আন্তর্জাতিক বিরতি শুরু হবে ৯ নভেম্বর থেকে। আন্তর্জাতিক বিরতির বাইরে ক্লাবগুলো সাধারণত তাদের খেলোয়াড়দের জাতীয় দলের হয়ে খেলার জন্য ছাড়তে বাধ্য নয়। এ কারণেই টুর্নামেন্টের শুরুতে পূর্ণশক্তির দল পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ইংলিশ ক্লাব শেফিল্ড ইউনাইটেডের হয়ে খেলা হামজা চৌধুরী এবং কানাডাপ্রবাসী ফুটবলার শমিত সোমসহ বিদেশি লিগে খেলা একাধিক খেলোয়াড়কে নিয়ে তৈরি হয়েছে এই পরিস্থিতি। বাফুফের প্রত্যাশা, আন্তর্জাতিক বিরতি শুরু হলে প্রবাসী ফুটবলারদের অধিকাংশকে দলে পাওয়া যাবে। ফলে প্রথম ম্যাচের একাদশের সঙ্গে পরবর্তী ম্যাচগুলোর দলে পরিবর্তন আসতে পারে।
জাতীয় দলের প্রস্তুতি নিয়েও সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে হচ্ছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে (বাফুফে)। আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়ার কথা জাতীয় দলের ক্যাম্প। অর্থাৎ টুর্নামেন্ট শুরুর আগে প্রস্তুতির জন্য খুব বেশি সময় পাচ্ছে না বাংলাদেশ।
সোমবার রাজধানীর ফর্টিস ডাউনটাউনে জাতীয় দল কমিটির বৈঠক শেষে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল জানান, সাফের প্রথম ম্যাচে পূর্ণ
_সংগৃহীত ছবি।
স্কোয়াড পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ৯ নভেম্বরের পর বিদেশি লিগে খেলা প্রায় ৯০ শতাংশ ফুটবলারকে পাওয়া যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রথম ম্যাচের পর দলের চেহারায় পরিবর্তন আসতে পারে।
সাফের আগে প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের চেষ্টা
টুর্নামেন্টের আগে দলের প্রস্তুতির ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে অন্তত একটি প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করতে চায় বাফুফে। এ জন্য বিদেশি কোনো দলকে বাংলাদেশে আনার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশীয় ক্লাবগুলোর সঙ্গেও আলোচনা করার পরিকল্পনা রয়েছে ফেডারেশনের।
তাবিথ আউয়াল জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বিরতির বাইরে কোনো বিদেশি দলকে খেলার জন্য পাওয়া যায় কি না, তা নিয়ে চেষ্টা চালানো হবে। একটি প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজন করা গেলে সাফের আগে খেলোয়াড়দের ম্যাচের ছন্দে ফেরানোর সুযোগ তৈরি হবে।
এদিকে সাফের আগে ঘরোয়া লিগের মাঠের মান এবং খেলোয়াড়দের চোটের ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। নিম্নমানের মাঠে খেলার কারণে ফুটবলারদের ইনজুরিতে পড়ার আশঙ্কা বাড়তে পারে। জাতীয় দলের প্রস্তুতির কথা বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বাফুফে।
আসিয়ান কাপের ব্যর্থতায় চাপে কোচ
সাফের প্রস্তুতির পাশাপাশি জাতীয় দলের সাম্প্রতিক ব্যর্থতা নিয়েও চাপে রয়েছে বাফুফে। ফিফা আসিয়ান কাপে ইন্দোনেশিয়ার কাছে ৯-২ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। বড় ব্যবধানের এই পরাজয়ের পর প্রধান কোচ টমাস ডুলির দায়িত্ব ও দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
কোচ কিংবা খেলোয়াড়দের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তাবিথ আউয়াল জানিয়েছেন, ফুটবলে খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের পরিবর্তন স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে এর অর্থ এই নয় যে এখনই কাউকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দলের প্রয়োজন বিবেচনায় ভবিষ্যতে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
আসিয়ান কাপে দলের ব্যর্থতা পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনা হয়েছে বলেও জানান বাফুফে সভাপতি। কোচিং স্টাফ ও খেলোয়াড়দের পাশাপাশি ফেডারেশনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাজও মূল্যায়ন করা হচ্ছে। জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে আরও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ইংল্যান্ডে প্রবাসী প্রতিভা খুঁজবে বাফুফে
তাৎক্ষণিকভাবে সাফের প্রস্তুতি সামলানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতের জাতীয় দল গঠনেও নজর দিচ্ছে বাফুফে। বিশেষ করে ইংল্যান্ডসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বেড়ে ওঠা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ ফুটবলারদের খুঁজে বের করার পরিকল্পনা রয়েছে ফেডারেশনের।
তাবিথ আউয়ালের ভাষ্য অনুযায়ী, ইংল্যান্ডে ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সী তরুণদের নিয়ে বছরে দুটি ক্যাম্প ও টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা করছে বাফুফে। এর মাধ্যমে সম্ভাবনাময় ফুটবলারদের শনাক্ত করে ভবিষ্যতে জাতীয় দলের জন্য বিবেচনায় নেওয়া সম্ভব হবে।
ইংল্যান্ডের পাশাপাশি ইউরোপের অন্যান্য দেশেও প্রতিভা অন্বেষণের উদ্যোগ নেওয়ার কথা ভাবছে ফেডারেশন। প্রবাসী ফুটবলারদের একটি শক্তিশালী পাইপলাইন গড়ে তোলাই এই পরিকল্পনার লক্ষ্য।
তবে আপাতত বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ সাফের প্রথম ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ প্রবাসী ফুটবলারদের অনুপস্থিতি সামাল দেওয়া। সীমিত প্রস্তুতির মধ্যে দলীয় সমন্বয় গড়ে তোলা এবং সাম্প্রতিক ব্যর্থতা কাটিয়ে ওঠাই হবে কোচ ও খেলোয়াড়দের প্রধান পরীক্ষা।