_সংগৃহীত ছবি।

মেসির সামনে ইতিহাসের হাতছানি, ২১ বছরের রেকর্ড ভাঙার অপেক্ষা!

বয়স যেন শুধুই একটি সংখ্যা লিওনেল মেসির কাছে। ৩৯ বছর বয়সেও মাঠে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে চলেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। এবার মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) গোল্ডেন বুট জিতে নতুন ইতিহাস গড়ার হাতছানি তাঁর সামনে। আর মাত্র একটি ম্যাচ বাকি থাকতে টানা দ্বিতীয়বার এই পুরস্কার জয়ের পথে বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছেন ইন্টার মায়ামির অধিনায়ক।

রোববার নিউ ইংল্যান্ড রেভল্যুশনের বিপক্ষে দারুণ এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে ইন্টার মায়ামি। প্রতিপক্ষের মাঠে প্রথমে পিছিয়ে পড়লেও শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয় নিয়ে ফিরেছে দলটি। ম্যাচের ৮৩তম মিনিটে দুর্দান্ত এক গোল করে মায়ামির জয় নিশ্চিত করেন মেসি।

এই গোলের সুবাদে চলতি এমএলএস মৌসুমে মেসির গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬-এ। গোল্ডেন বুটের দৌড়ে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এফসি ডালাসের পেতার মুসার গোল ২২টি। অর্থাৎ দ্বিতীয় স্থানে থাকা মুসার চেয়ে চার গোলে এগিয়ে রয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

মেসির সামনে এখন অপেক্ষা করছে বিশেষ এক ইতিহাস। ২০০৫ সালে এমএলএস গোল্ডেন বুট পুরস্কার চালুর পর থেকে কোনো ফুটবলার টানা

_সংগৃহীত ছবি।

_সংগৃহীত ছবি।

দুই মৌসুম এই স্বীকৃতি জিততে পারেননি। ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো পুরস্কারটি জিতেছিলেন মেসি। এবার সেটি ধরে রাখতে পারলে প্রতিযোগিতাটির ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা দুই মৌসুম গোল্ডেন বুট জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করবেন তিনি।

এর আগে একাধিক খেলোয়াড় একাধিকবার এই পুরস্কার জিতলেও কেউ টানা দুই মৌসুম তা করতে পারেননি। ক্রিস ওয়ানডোলোস্কি ২০১০ ও ২০১২ সালে এবং ব্র্যাডলি রাইট-ফিলিপস ২০১৪ ও ২০১৬ সালে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন। তবে তাঁদের কেউই পরপর দুই মৌসুমে এই সাফল্য পাননি।

গোল্ডেন বুটের নিয়ম অনুযায়ী, নিয়মিত মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলদাতা এই পুরস্কার পান। একাধিক খেলোয়াড়ের গোলসংখ্যা সমান হলে প্রথমে অ্যাসিস্ট এবং এরপর মাঠে কম সময় কাটানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হয়। ২০০৫ সালের আগে গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে পয়েন্টের ভিত্তিতে এমএলএসের সর্বোচ্চ গোলদাতা নির্ধারণ করা হতো।

মেসির ব্যক্তিগত অর্জনের তালিকায় অবশ্য এমএলএসের আরেকটি বড় কীর্তিও রয়েছে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে টানা দুইবার লিগের সবচেয়ে মূল্যবান খেলোয়াড়ের (এমভিপি) পুরস্কার জিতে ইতিহাস গড়েছেন তিনি। এবার গোল্ডেন বুট ধরে রাখতে পারলে তাঁর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে যুক্ত হবে আরও একটি অনন্য অর্জন।

নিউ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে শুরুতে অবশ্য সুবিধা করতে পারেনি মায়ামি। প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর ৫৩তম মিনিটে ড্যানিয়েল গাজদাগের

_সংগৃহীত ছবি।

_সংগৃহীত ছবি।

গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকেরা। ফলে ম্যাচে ফিরতে চাপের মুখে পড়ে মেসির দল।

তবে হার মানেনি মায়ামি। ৬৯তম মিনিটে তেলাসকো সেগোভিয়ার বাড়ানো বল থেকে মেসির হেডে তৈরি সুযোগ কাজে লাগিয়ে হেডেই জাল খুঁজে নেন জার্মান বেরতেরামে। তাতে ১-১ সমতায় ফেরে সফরকারীরা। গোলটিতে অ্যাসিস্টের কৃতিত্ব পান মেসি।

এরপর ম্যাচের ৮৩তম মিনিটে নিজের চেনা ছন্দে দেখা যায় আর্জেন্টাইন তারকাকে। প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেদ করে বক্সের ভেতরে ঢুকে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে বল জালে পাঠান তিনি। গোলরক্ষক ম্যাট টার্নারের কিছুই করার ছিল না। মেসির এই গোলেই নিশ্চিত হয় মায়ামির ২-১ ব্যবধানের জয়।

এই জয়ের ফলে ইস্টার্ন কনফারেন্সের পয়েন্ট তালিকায় ৫৯ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে ইন্টার মায়ামি।

২০২৩ সালের জুলাইয়ে ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেন মেসি। ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো এমএলএস গোল্ডেন বুট জেতেন তিনি। সেবার নিয়মিত মৌসুমে মাত্র ২৮ ম্যাচ খেলে ২৯ গোল করেছিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছিলেন আরও ১৯ গোল। মায়ামির ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এই পুরস্কার জয়ের কৃতিত্বও তাঁর।

এবার সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তির সুযোগ সামনে। নিয়মিত মৌসুমে মায়ামির আর মাত্র একটি ম্যাচ বাকি। আগামী ৭ নভেম্বর নিজেদের মাঠে শার্লট এফসির মুখোমুখি হবে দলটি। সেই ম্যাচে গোল করতে পারলে নিজের গোলসংখ্যা আরও বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবেন মেসি।

২৬ গোল নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে এগিয়ে থাকা মেসির সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ ধারাবাহিকতা ধরে রাখা। শেষ ম্যাচে গোল হোক কিংবা না হোক, গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে তিনিই এখন সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে। আর পুরস্কারটি জিততে পারলে এমএলএসের ২১ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টানা দুই মৌসুমের গোল্ডেন বুটজয়ী হয়ে উঠবেন ফুটবলের এই মহাতারকা।

Sources: MLSsoccer.com, Inter Miami CF.