অ্যানফিল্ডে ১৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটাল আর্সেনাল। লিভারপুলের মাঠে দীর্ঘদিনের জয়খরা কাটিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এক জয় তুলে নিয়েছে মিকেল আরতেতার দল। জার্মান ফরোয়ার্ড কাই হাভার্টজের প্রথমার্ধের একমাত্র গোলে স্বাগতিকদের ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে গানাররা। এই জয়ের মধ্য দিয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট টেবিলে ম্যানচেস্টার সিটিকে পেছনে ফেলে শীর্ষস্থান দখল করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
রোববার (১ নভেম্বর) রাতে অ্যানফিল্ডে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার চেষ্টা করে দুই দল। তবে প্রথমার্ধের ১৬ মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ কাজে লাগায় আর্সেনাল। লিভারপুলের রক্ষণভাগে বল হারানোর পর দ্রুত আক্রমণে যায় সফরকারীরা। মার্টিন ওডেগার্ডের বল পুনরুদ্ধারের পর আক্রমণটি এগিয়ে নেন ব্রুনো গিমারায়েস ও ননি মাদুয়েকে। ডান দিক দিয়ে সামনে এগিয়ে ডেকলান রাইস নিচু ক্রস বাড়িয়ে দেন বক্সের ভেতর। সেখানে সঠিক সময়ে পৌঁছে কাছ থেকে বল জালে পাঠান হাভার্টজ।
গোল হজমের পর ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে লিভারপুল। ধীরে ধীরে আক্রমণের গতি বাড়িয়ে আর্সেনালের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করে স্বাগতিকরা।
_সংগৃহীত ছবি।
তবে একের পর এক চেষ্টা করেও সমতায় ফিরতে পারেনি তারা। প্রথমার্ধে ফ্লোরিয়ান ভির্টজের একটি ফ্রি-কিক সরাসরি আঘাত হানে ক্রসবারে। এছাড়া অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার হেডে গোলের ভালো সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি।
প্রথমার্ধেই অবশ্য বিতর্কিত একটি মুহূর্তের জন্ম হয়। লিভারপুলের স্ট্রাইকার আলেক্সান্ডার ইসাককে হেড করার সময় জার্সি ধরে টানেন আর্সেনাল ডিফেন্ডার জুরিয়েন টিম্বার। লিভারপুলের খেলোয়াড়েরা পেনাল্টির দাবি জানালেও রেফারি কিংবা ভিএআর থেকে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত আসেনি। ম্যাচ শেষে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা-সমালোচনাও হয়েছে।
বিরতির পরও আক্রমণের ধারাবাহিকতা ধরে রাখে লিভারপুল। বলের দখল ও আক্রমণের সংখ্যায় এগিয়ে থাকলেও আর্সেনালের জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারেনি তারা। বরং ম্যাচ যত এগিয়েছে, ততই রক্ষণ সামলে প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকাতে সফল হয়েছে আরতেতার শিষ্যরা।
দ্বিতীয়ার্ধে গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল দুই দলই। লিভারপুলের হয়ে ইসাক ও অন্য আক্রমণভাগের খেলোয়াড়েরা কয়েকবার চেষ্টা করলেও শেষ
_সংগৃহীত ছবি।
মুহূর্তে ব্যর্থ হন। অন্যদিকে আর্সেনালের হয়ে ক্রিস্টোস তজোলিসের একটি শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন লিভারপুল গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার। ফলে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেলেও দ্বিতীয় গোলের দেখা পায়নি সফরকারীরা।
ম্যাচের শেষ দিকে সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে লিভারপুল। তবে ডেভিড রায়া ও আর্সেনালের রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য থাকতে হয় স্বাগতিকদের। পুরো ম্যাচে ১৭টি শট নিয়েও একবারের জন্য লক্ষ্যে বল রাখতে পারেনি লিভারপুল। প্রিমিয়ার লিগে অ্যানফিল্ডে এমন ঘটনা অপটাভিত্তিক পরিসংখ্যান সংরক্ষণ শুরুর পর প্রথমবার।
শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে আর্সেনাল। এই জয়ের মাধ্যমে ২০১২ সালের পর প্রথমবার প্রিমিয়ার লিগে অ্যানফিল্ডে জয়ের স্বাদ পেল দলটি। অর্থাৎ লিভারপুলের মাঠে জয় পেতে দীর্ঘ ১৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটাল গানাররা।
শুধু ঐতিহাসিক জয়ই নয়, শিরোপার লড়াইয়েও বড় সুবিধা পেল আর্সেনাল। শনিবার ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ অ্যালবিয়নের কাছে ১-০ গোলে হেরে পয়েন্ট হারায় ম্যানচেস্টার সিটি। ফলে লিভারপুলের বিপক্ষে জিততে পারলেই শীর্ষস্থান দখলের সুযোগ ছিল আরতেতার দলের সামনে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৯ ম্যাচে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের এক নম্বরে উঠে এসেছে আর্সেনাল। সমান ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি।
অন্যদিকে এই হারে শীর্ষস্থান থেকে আরও দূরে সরে গেল লিভারপুল। ৯ ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছে তারা। শিরোপা ধরে রাখার মিশনে গুরুত্বপূর্ণ এই জয় আর্সেনালের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াবে বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকেরা।