প্রকৌশলের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, সরকারের গায়েবানা জানাজা
ঢাকায় প্রকৌশলের শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। একই সঙ্গে তিন দফা দাবি মেনে না নেওয়ায় ও হামলার প্রতিবাদে অন্তর্বর্তী সরকারের গায়েবানা জানাজা ও দোয়া কর্মসূচি পালন করা হয়।
আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০টি প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে দুপুর ১২টা থেকে পৌনে ১টা পর্যন্ত গোলচত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পরে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে তাঁরা প্রধান ফটক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। বেলা সোয়া একটায় অন্তর্বর্তী সরকারের গায়েবানা জানাজা ও দোয়া কর্মসূচি পালন করা হয়।
অবস্থান কর্মসূচিতে পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী হানিফ নিশান বলেন, ‘সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে স্নাতক প্রকৌশলীরা আজ অবহেলিত ও বঞ্চিত। তাঁরা দেশের উন্নতি হোক চান না। ডিপ্লোমাদের কোটা প্রথার কারণে স্নাতক প্রকৌশলীরা দেশের কাজে অবদান রাখতে পারছেন না। তাঁরা পাড়ি জমাচ্ছেন বিদেশে। এই ব্রেইন ড্রেইন না ঠেকালে দেশের উন্ময়ন সম্ভব নয়।’
পেট্রোলিয়াম ও খনি প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী ইব্রাহিম ইসলাম বলেন, জুলাই আন্দোলনে পর একটি কর্মসূচি ছিল ‘রিভার্স ব্রেইন ড্রেইন’। কিন্তু দেশের সরকার সেটা ধরে রাখতে পারেনি। এখনো সম্মান–মর্যাদার জন্য মাঠে লড়তে হচ্ছে। পুলিশের হামলায় আহত হচ্ছেন তাঁদের সহপাঠীরা। প্রকৌশল পেশায় ডিপ্লোমাদের কাছে ধরাশায়ী হচ্ছেন। একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী প্রকৌশলে স্নাতক হয়েও তাঁর মর্যাদাটুকু দেওয়া হচ্ছে না।
কেমিকৌশল ও পলিমার বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রাশিদ আবরার বলেন, গতকাল বুধবার হামলার কারণে আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০টি প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
গতকাল ঢাকার শাহবাগে তিন দফা দাবিতে বিক্ষোভের পর প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন অভিমুখে শিক্ষার্থীরা গেলে পুলিশ লাঠিপেটা করে ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে তাঁদের ছাত্রভঙ্গ করে দেন। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি হলো—৯ম গ্রেড সহকারী প্রকৌশলী পদে কেবল পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ ও ন্যূনতম যোগ্যতা বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার করা; ১০ম গ্রেডে শুধু ডিপ্লোমাধারী ব্যক্তিরা আবেদন করতে পারেন, সেখানে যেন উচ্চ ডিগ্রিধারী ব্যক্তিরাও আবেদন করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করা এবং শুধু বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং যাঁরা সম্পন্ন করবেন, তাঁরাই যেন প্রকৌশলী (ইঞ্জিনিয়ার) লিখতে পারেন, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া।