প্রকাশ: ৩০ আগস্ট, ২০২৫

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) প্রযুক্তি জনপ্রিয় হওয়ার পাশাপাশি এর অপব্যবহারও বাড়ছে। সম্প্রতি এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া ছবি ও ভিডিও তৈরি করা হচ্ছে, যা ‘ডিপফেক’ নামে পরিচিত। ডিপফেক ভিডিওতে নির্দিষ্ট ব্যক্তির অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নড়াচড়া করার পাশাপাশি কণ্ঠস্বর ব্যবহার করায় অনেকেই বুঝতে পারেন না এটি নকল ভিডিও। ফলে ডিপফেকের মাধ্যমে যেকোনো ব্যক্তির নামে সমাজবিরোধী বা উদ্দেশ্যমূলক যেকোনো রাজনৈতিক ভিডিও তৈরি করা যায়। এই বিপদ মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে ইউরোপের দেশ ডেনমার্ক। ডিপফেকের বিস্তার ঠেকাতে কপিরাইট আইন সংশোধন করে নতুন আইনও করতে যাচ্ছে দেশটি। এ বছরের শেষ নাগাদ সংসদে আইনটি পাস হতে পারে।
ডেনমার্কের প্রস্তাবিত নতুন কপিরাইট আইনে বলা হয়েছে, কারও সম্মতি ছাড়া তাঁর চেহারা, কণ্ঠ বা শারীরিক বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করে ডিপফেক তৈরি বা বিতরণ করা যাবে না। যদি করা হয়, তবে তা গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এই আইন সেসব ডিপফেক ভিডিওর বিরুদ্ধে কার্যকর হবে, যা আসলে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে বা কোনো ব্যক্তির সম্মানহানি ঘটাবে। ডেনমার্ক বিশ্বের প্রথম দেশগুলোর মধ্যে একটি, যারা ডিপফেক নিয়ে সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো তৈরি করছে।
ডেনমার্কের সংস্কৃতিমন্ত্রী জ্যাকব এঙ্গেল–স্মিট জানিয়েছেন, ‘সংসদে পেশ করা বিলটি একটি স্পষ্ট বার্তা তৈরি করছে। প্রত্যেকেরই তাঁদের চেহারা ও কণ্ঠের অধিকার রয়েছে। বিলটি নিয়ে আমরা একমত। আমরা বলতে চাই, প্রত্যেকেরই নিজস্ব শরীর, নিজস্ব কণ্ঠস্বর ও নিজস্ব মুখের বিশেষ বৈশিষ্ট্যের অধিকার রয়েছে। আগের আইনের মাধ্যমে জেনারেটিভ এআই থেকে মানুষকে রক্ষা করার উপায় ছিল না। এখন মানুষকে ডিজিটাল কপি মেশিনের মতো করে নকল করা যাবে। নানা ধরনের উদ্দেশ্যে অপব্যবহার করা যেতে পারে। আমি এসব মেনে নিতে রাজি নই। নতুন আইনের জন্য ডেনমার্কের প্রতি ১০ সংসদ সদস্যের মধ্যে ৯ জন সমর্থন দিয়েছেন বলে জানা গেছে।’
গত কয়েক বছরে ডিপফেক প্রযুক্তি বেশ সহজলভ্য হয়েছে। নানা ধরনের অপব্যবহার বেড়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে ডিপফেক ব্যবহার করে মিথ্যা পর্নোগ্রাফি তৈরি হচ্ছে। এআই ব্যবহার করে রাজনৈতিক গুজব ছড়ানো বা আর্থিক প্রতারণার মতো অপরাধও সংঘটিত হচ্ছে। প্রস্তাবিত আইনটির মূল লক্ষ্য মানুষকে এআইয়ের অপব্যবহার থেকে সুরক্ষা দেওয়া। এর ফলে শিল্পী ও তারকাদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও উপকৃত হবেন।
অন্যদিকে এই আইনের কিছু চ্যালেঞ্জ দেখা যাচ্ছে। ইন্টারনেট একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম বলে ডেনমার্কের বাইরে থেকে কেউ ডিপফেক তৈরি বা বিতরণ করলে তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হতে পারে। ডেনমার্কের এ আইনটি ইউরোপের অন্য সব দেশকেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও এর নৈতিক ব্যবহার আইন করতে অনুপ্রেরণা দেবে বলে ডেনমার্ক মনে করে। বিভিন্ন প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম এ বিষয়ে পদক্ষেপ না নিলে তখন বড় অঙ্কের জরিমানার ঝুঁকিতে পড়বে বলে জানা গেছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান