Advertisement

ভোলায় ছাত্রলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

যুগান্তর

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট, ২০২৫

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ভোলা সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মো. সাইফুল্লাহ আরিফকে (৩০) নিজ বাসার সামনে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার রাত ১টার পর যে কোনো সময় তাকে ভোলা পৌরসভার কালীবাড়ি সড়ক এলাকার বাসা থেকে তুলে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

নিহতের বাবা অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক বশির উদ্দিন শনিবার ভোরে ফজরের নামাজ পড়তে উঠেন, কলাপসিবল গেট খুলে বাইরে রক্ত দেখতে পান। এরপরই সামনে ক্ষতবিক্ষত লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। সকালে লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহত সাইফুল্লাহ আরিফ ঢাকা সিটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে টেক্সটাইল প্রকৌশলে স্নাতক শেষ করে চাকরির খোঁজে ছিলেন।

একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় বাবা-মা। বুক চাপড়ে আর্তনাদ করে বাবা বশির উদ্দিন বলছিলেন, ‘কী দোষ ছিল আমার ছেলের? কেন তাকে এভাবে ঘর থেকে তুলে নিয়ে হত্যা করা হলো? দেশ কি এভাবেই চলবে! কে বিচার করবে?

পুলিশ জানায়, সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মো. সাইফুল্লাহ আরিফকে উপর্যুপরি কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

ভোলা সদর থানার ওসি সাহাদাত হোসেন হাসনাইন আহমেদ বলেন, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রিপন চন্দ্র সরকার বলেন, তিনটি বিষয় সামনে রেখে পুলিশ অনুসন্ধান করছে। পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশের ধারণা। এটি জমিজমার বিরোধ, লেনদেনের বিরোধ অথবা প্রতিপক্ষের বিরোধ হতে পারে। সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নিহতের মা জানান, শুক্রবার রাত ১টার দিকে ছেলে তাকে পানি খেতে দিয়েছিল। এরপর তারা ঘুমিয়ে পড়েন। বাবা বশির উদ্দিন জানান, ছেলে পাশের ঘরে ঘুমায়। কখন তাকে ঘর থেকে তুলে নেওয়া হয়, তারা টের পাননি। ফজরের নামাজ পড়তে উঠে বাসার সামনে ছেলের ক্ষতবিক্ষত লাশ পড়ে থাকতে দেখেন।

তিনি বলেন, তাদের দেখাশোনা করার মতো পরিবারে আর কেউ রইল না। এ কথা বলে তিনি বুক চাপড়াতে থাকেন। আল্লাহর কাছে বিচার চাইতে থাকেন।

স্থানীয়রা জানান, আরিফকে এলাকার সবাই ভালো ছেলে হিসাবেই জানত। এমন হত্যাকাণ্ডে হতবিহ্বল এলাকাবাসী। ফজরের নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিরা ছুটে আসেন বাবা-মাকে সান্ত্বনা জানাতে।

সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মো. সাইফুল্লাহ আরিফ জেলা ছাত্রলীগের রাজনীতিতেও জড়িত ছিলেন।

Lading . . .