Advertisement

আদালত থেকে মামলার বাদীর নাম সংগ্রহ, পরে মুঠোফোনে টাকা আদায়

প্রথম আলো

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার মো. মোজাম্মেল হকছবি: পিবিআইয়ের সৌজন্যে
পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার মো. মোজাম্মেল হকছবি: পিবিআইয়ের সৌজন্যে

পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণা করে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মো. মোজাম্মেল হক ওরফে কবির (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার নোয়াখালীর সুধারাম থানার গৌরীপুর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ সময় তাঁর কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ডিভাইস জব্দ করা হয়।

পিবিআইয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে ২৩ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের রাউজান থানায় একটি মামলা করা হয়। পিবিআই চট্টগ্রাম জেলা এ মামলার তদন্তের দায়িত্ব নেয়। তদন্তে দেখা যায়, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের বিভিন্ন আদালত থেকে মামলার বাদীর মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করত। পরে ফোন করে নিজেদের পিবিআই, সিআইডি বা ডিবির তদন্ত কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে মামলার বিষয়ে বাদীর পক্ষে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা বলত। এ জন্য গাড়িভাড়া ও তদন্তের খরচের কথা বলে বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে টাকা নিত। প্রকৃত তদন্ত কর্মকর্তারা বিভিন্ন মামলার তদন্ত করতে গিয়ে এ ধরনের প্রতারণার বিষয় জানতে পারেন। প্রতারকেরা অন্যের নামে সিম নিবন্ধন করায় তাদের শনাক্ত করতে সময় লাগছিল।

সম্প্রতি পিবিআইয়ের এক কর্মকর্তা তদন্তাধীন একটি মামলার বাদীর কাছ থেকে তদন্তের নামে টাকা নেওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন। পরে পুলিশ কর্মকর্তা নিজেই বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা প্রতারকের বিরুদ্ধে রাউজান থানায় মামলা করেন।

পিবিআই জানায়, সংস্থার চট্টগ্রাম জেলার উপপরিদর্শক (এসআই) রবি চন্দ্র দাশের নেতৃত্বে তদন্তকারী দল গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে প্রতারকের অবস্থান শনাক্ত করে। পরে নোয়াখালীর সুধারাম থানার গৌরীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোজাম্মেল হক ওরফে কবিরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআইয়ের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোজাম্মেল প্রতারণার কথা স্বীকার করেছেন এবং তাঁর সহযোগীদের বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার এম কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, প্রতারক চক্রটি তদন্তকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে মামলার বাদীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করছিল। চক্রটির অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Lading . . .