খাগড়াছড়ির দীঘিনালার তোজেংমা ঝরনা, যেভাবে যাবেন
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট, ২০২৫
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার অজপাড়াগাঁয়ে লুকিয়ে আছে এক অপরূপ জলপ্রপাত তোজেংমা ঝরনা। পাহাড়, বন আর পাখির কলতানে ঘেরা এই ঝরনা যেন প্রকৃতির আঁচলে রাখা এক অমূল্য রত্ন। কয়েক বছর আগেও ঝরনাটির কথা শুধু স্থানীয় লোকজনই জানতেন। এখনো অনেকের কাছে অপরিচিত হলেও ধীরে ধীরে এটি ভ্রমণপিপাসুদের কাছে পরিচিতি পাচ্ছে নতুন গন্তব্য হিসেবে।
দীঘিনালা উপজেলা সদর থেকে তোজেংমা ঝরনার দূরত্ব প্রায় সাত কিলোমিটার। আলমগীর টিলা হয়ে হেঁটে যেতে হয় বিষ্ণু কারবারিপাড়ায়। এ পাড়া থেকে এক কিলোমিটার দূরে ঝরনাটি। সেখানে যেতে যেতে উঁচু-নিচু পাহাড়, আঁকাবাঁকা পথ, জুমঘর, ঘন সবুজ বনের সারি, পাহাড়ি ফুলের ঘ্রাণ, পাখির ডাক আর পাহাড়ের ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রা দেখে থমকে দাঁড়ান পর্যটকেরা। তবে পাহাড়ি পথে হাঁটা সহজ নয়। কখনো উঁচুতে উঠতে হয়, কখনো আবার নেমে যেতে হয় খাদের দিকে। এসব কষ্ট ভুলিয়ে দেয় ঝরনার টান।
প্রায় দুই ঘণ্টা পথ হেঁটে পৌঁছানো যায় গন্তব্যে। এর আগেই কানে ভেসে আসে ঝরনার শব্দ। এরপর কাছে গিয়ে চোখে পড়ে প্রায় ৮০ ফুট উচ্চতার পাহাড় বেয়ে ঝরছে জলের ধারা। ঝরনার শীতল পানিতে নিজেদের ভিজিয়ে নেন পর্যটকেরা।
প্রায় দুই ঘণ্টা পথ হেঁটে পৌঁছানো যায় গন্তব্যে। এর আগেই কানে ভেসে আসে ঝরনার শব্দ। এরপর কাছে গিয়ে চোখে পড়ে প্রায় ৮০ ফুট উচ্চতার পাহাড় বেয়ে ঝরছে জলের ধারা। ঝরনার শীতল পানিতে নিজেদের ভিজিয়ে নেন পর্যটকেরা।
শীত ও বর্ষা—দুই মৌসুমেই ঝরনাটির রূপ ভিন্নভাবে ধরা দেয়। বর্ষায় পানিপ্রবাহ বেড়ে গিয়ে চারপাশে সৃষ্টি হয় অপূর্ব দৃশ্য। শীতে ঝরনা থাকে তুলনামূলক শান্ত, তবে ঠান্ডা বাতাসে গা জুড়িয়ে যায়। সারা বছর অনেকেই পরিবার বা বন্ধুবান্ধব নিয়ে আসেন ঝরনাটি দেখতে।
পর্যটনের সম্ভাবনা
প্রকৃতিপ্রেমী কিংবা ভ্রমণপিপাসুদের জন্য তোজেংমা ঝরনা হতে পারে অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান। খাগড়াছড়ি জেলা শহর কিংবা দীঘিনালা সদর থেকে যাতায়াত করা গেলেও ঝরনা পর্যন্ত যোগাযোগব্যবস্থা এখনো কিছুটা কষ্টকর। স্থানীয় লোকজন মনে করেন, সরকার বা পর্যটন কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিলে ঝরনাকে ঘিরে গড়ে উঠতে পারে নতুন পর্যটনকেন্দ্র। এতে যেমন পর্যটক বাড়বে, তেমনি স্থানীয় অর্থনীতিও চাঙা হবে।
তোজেংমা ঝরনা শুধু একটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নয়, এটি পাহাড়ি জীবনেরও প্রতিচ্ছবি। পাহাড়, বন, পাখি, ঝিরিপথ আর ঝরনা—সব মিলিয়ে এখানে তৈরি হয়েছে এক অন্য রকম আবহ। ভ্রমণপিপাসুদের কাছে এ যেন নিভৃত পল্লির বুকের লুকানো এক টুকরা স্বর্গ। প্রকৃতির টানে কিংবা প্রশান্তির খোঁজে যে কেউ তোজেংমা ঝরনায় এলে খুঁজে পাবেন শান্তির আবেশ।
কীভাবে যাবেন
ঢাকা অথবা চট্টগ্রাম থেকে যেকোনো বাসে চড়ে প্রথমে পৌঁছাতে হবে খাগড়াছড়ি দীঘিনালায়। এরপর সেখান থেকে অটোরিকশা, মোটরসাইকেল বা নিজস্ব গাড়িতে করে যেতে হবে আলমগীর টিলা। কেউ চাইলে ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেলেও যেতে পারেন।
কোথায় থাকবেন
খাগড়াছড়ি শহরে পর্যটন মোটেল, হোটেল গাইরিং, অরণ্য বিলাস, মাউন্টেন, শৈল সুবর্ণসহ বিভিন্ন মানের থাকার হোটেল আছে। সেখান থেকে নিজেদের বাজেটের মধ্যে হোটেল বা মোটেল খুঁজে নিতে হবে। এসব হোটেলের ভাড়া ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে। এ ছাড়া দীঘিনালায় থাকতে চাইলে স্টার, রেস্টহাউস, ডিগনিটি নামে তিনটি হোটেল আছে। এসব হোটেলের ভাড়া ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা।