Advertisement

‘মামলা থেকে বাঁচাতে’ আ.লীগ নেতার কাছে বিএনপির নেতার চাঁদা দাবি

যুগান্তর

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট, ২০২৫

24obnd

টাকার বিনিময়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের একাধিক মামলা থেকে বাঁচানোর আশ্বাস দিয়েছেন বিএনপির এক নেতা। সম্প্রতি তাদের কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

ওই দুই নেতা হলেন- ব্রাহ্মণবাড়িযার বিজয়নগর উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হক ও একই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম অলি আহমদ।

ওই রেকর্ডে বিএনপি নেতা দাবি করেন, জেলা-উপজেলার নেতারা পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেছিল। আমি বলেছি, তার ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দাভাব যাচ্ছে, তাই আপাতত দুই লাখ দিয়ে তার নামটি কেটে দিন।

এই আওয়ামী লীগ নেতাকে দেওয়া অন্য আরেক ভয়েস রেকর্ডে বিএনপি নেতাকে বলতে শোনা যায়- তোমাকে যে বলছিলাম তিনটা মামলা পেন্ডিং হয়ে রয়েছে; তারা (জেলা-উপজলার নেতা) আমাকে ফোন দিচ্ছে যাওয়ার জন্য- উবায়দুল মোকতাদির সাহেব এক নাম্বার আর তোমাকে চাচ্ছে দুই নাম্বার আসামি দিতে। আমার কাছে ৫ লাখ চাইছিল, আমি বলছি ৫ লাখ দিতে পারবে না- এই মুহূর্তে তার ব্যবসা নাই। বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে আছে। আমি কোনোরকম দুই লাখ ব্যবস্থা করে নিয়ে দিমু আপনাদের কাছে। ওকে মামলায় ফালাইলে একটু সমস্যা হয়। সে আমার আত্মীয় হয়। আমি এসব কথাবার্তা বলে তাদের মানিয়ে রাখছি। ঠিক আছে- এ সপ্তাহের ভেতরে যেটা করার করতে হবে। যত রকমের কষ্টই হয় তুমি এটা তাড়াতাড়ি করে জোগাড় করো। পচা শামুকে পা কাটা ঠিক না। তিনটা মামলা একসঙ্গে হবে। সাংবাদিক সম্মেলন করে বিষয়টি পুরো বিজয়নগর ও পাহাড়পুর ইউনিয়ন সহকারে জানানো হবে। তুমি এটা ত্বরিতগতিতে করবা। যত ধরনের কষ্ট হোক তুমি এটা কর। এটা তোমার ভালোর জন্য বলছি।

একবার এগুলোর মধ্যে জড়ালে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা দিয়েও বাঁচতে পারবা না তুমি নিজে জ্ঞানী মানুষ চিন্তাভাবনা করে কাজগুলো কর আমি চাই না তোমার কোনো ক্ষতি হোক

পাহাড়পুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হক এই কথোপকথন ও ভয়েস রেকর্ডের বিষয়ে যুগান্তরকে বলেন, আমাকে ফাঁসাতে আমার প্রতিদ্বন্দ্বীরা এমন চক্রান্ত করছে। আমি অলি আহমেদের সঙ্গে এ ধরনের কোনো আলোচনা করিনি।

পাহাড়পুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম অলি আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে ভুটানে অবস্থান করে ব্যবসা-বাণিজ্য করছি। আমার এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন করতে গিয়ে আমি অনেক আগেই দল থেকে অব্যাহতি নিয়েছি। তারপরও দল আমাকে নির্বাচন করার কারণে বহিষ্কার করেছে। বর্তমানে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। তার এমন চাওয়ায় আমি অবাক হয়েছি। তাদের দলের ঊর্ধ্বতন মহলে বিষয়টি জানিয়েছি। দেখি তারা কী ব্যবস্থা নেন।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইমাম হোসেন বলেন, কোনো বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি বা আওয়ামী লীগ শেল্টার দেওয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Lading . . .